ঢাকা  শনিবার, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডসিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ও ১৪ মার্চ নাগাদ ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রামসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (EC) নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা প্রবল। ‘পবিত্র রমজানের পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’ বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

আজ রোববার দুপুরে নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে দিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এখন বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে কবে এসব নির্বাচন হবে, তা এখনো সুনির্দিষ্ট করে ঘোষণা করেনি নবনির্বাচিত সরকার। ইতিমধ্যে ১১টি সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সঠিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে।

ইসি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আলোচনা শুরু হয়। সে সময় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসে।

আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ২ জুন। সেই হিসাবে গত বছরের ১ জুন এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন এবং এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, এই সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। ফলে এই তিন সিটিতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনকে জরুরি মনে করছে ইসি।

এ কারণেই প্রথম ধাপে এই সিটিগুলোতে ভোট আয়োজন করতে চায় কমিশন। ইসি সূত্র জানিয়েছে, চিঠি পাওয়ার পর কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে। চট্টগ্রাম সিটির সময় সীমিত থাকায় সেখানে আলাদা জরুরি পরিকল্পনাও নেওয়া হতে পারে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের মূল দায়িত্বই হচ্ছে নির্বাচন আয়োজন। সবসময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোব।’

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।’ 

জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ ছাড়া আইনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে ইসিকে। বিষয়টি উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বছরজুড়ে বা বছরের বেশির ভাগ সময়জুড়ে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করেন, রমজানের পরপরই স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় রয়েছে। সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধানটি বাদ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল। যতগুলো অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সেগুলো জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদে উত্থাপন করতে হয়। সংসদ সেখানে বিবেচনা করবে। বিবেচনা করে যেটা রাখার প্রয়োজন, সেটা রাখবে। সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে এটি অনুমোদন করা না হলে সেটা বাতিল হবে।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদ যদি মনে করে এটি (দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়া) ভালো, তাহলে সেভাবে নির্বাচন হবে। আর যদি মনে করে আগের মতো (দলীয় প্রতীক) থাকাই ভালো, তাহলে আগের মতোই থাকবে, নির্বাচন সেভাবেই হবে। সংসদে বিষয়টি সুরাহা হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন পরপর বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ব্যস্ত থাকবে।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular