নিউজ ডেস্ক : হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে তেলবাহী ট্রেনের বগি (ওয়াগন) লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে বুধবার রাত থেকে সিলেটের সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। রাত ১টার দিকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ ও রেললাইন মেরামত শুরু করে।
মনতলা রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম বলেন, আখাউড়া থেকে আসা রিলিফ ট্রেন বুধবার দিবাগত রাত ১টায় উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং দ্রুত রেললাইন মেরামত সম্পন্ন করা হয়। খালে পড়ে যাওয়া একটি ওয়াগন এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। লাইনচ্যুত অন্যান্য বগিগুলো ক্রেনের সাহায্যে সরিয়ে পাশে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ‘পারাবত এক্সপ্রেস’ মনতলা স্টেশন ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম আরও জানান, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী একটি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। যার ১৭টি ওয়াগন ছিল, রাজাপুর এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে তেলভর্তি ৫টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয় এবং একটি ওয়াগন সেতুর নিচে খালে পড়ে যায়।
এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ বালতি, পাতিল, জগ ও প্লাস্টিকের পাত্র নিয়ে তেল সংগ্রহে নেমে পড়ে। পরে তেল লুটপাট ঠেকাতে ৫৫ বিজিবি ও মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করে। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল জানান, তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ধাক্কাধাক্কিতে কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রাজাপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে আব্দুল মালেক আহত হন। তাকে মাধবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
৫৫ বিজিবি হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে, যা পরে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। উদ্ধার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান জানান, লাইনচ্যুত ৫টি ওয়াগনের প্রতিটিতে প্রায় ৩৯ হাজার লিটার ডিজেল ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ডিজেল নষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, এখন পর্যন্ত এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।



