ঢাকা  রবিবার, ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeবিনোদনসুফিয়া কামাল স্মরণে ছায়ানটের বর্ষা বন্দনা

সুফিয়া কামাল স্মরণে ছায়ানটের বর্ষা বন্দনা

নিউজ ডেস্ক: আষাঢ়ের মেঘ যখন দিগন্ত জুড়ে তার নীল-ধূসর চাদর মেলে ধরে, প্রকৃতি তখন যেন নতুন রূপ ধারণ করে। বর্ষার এই চিরন্তন রূপ ও আবাহনকে বরণ করে নিতে ছায়ানটের মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘বর্ষার অনুষ্ঠান ১৪৩৩’।

এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কবি ও সমাজসেবী বেগম সুফিয়া কামালকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘কথন’ উপস্থাপন করেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। বক্তব্যে তিনি পাকিস্তানের বৈরী ও সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বেগম সুফিয়া কামালের অসমসাহসিক ভূমিকা ও অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

লাইসা আহমদ বলেন, ‘বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন সকল বাঙালির আশ্রয়, ভরসা এবং নির্ভয়ে এগিয়ে চলার চিরন্তন প্রেরণা। আপন সংস্কৃতির পথে বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের লড়াইয়ে তাঁকে শিরোধার্য করেই ছায়ানটের আবির্ভাব ঘটেছিল। আমাদের কর্মই বলে দেবে তাঁর আদর্শকে আমরা কতখানি ধরে রাখতে পেরেছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্ষা শুধু একটি ঋতুর নাম নয়, এটি জীবনের এক গভীর উৎসব, যা মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে এক অনির্বচনীয় সুর, প্রেম, বিরহ ও নবজাগরণ।

অনুষ্ঠানের মূল পর্বে কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী বর্ষার গানগুলো পরিবেশন করা হয়। কাজী নজরুল ইসলামের ‘চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে’ গানের সাথে ছায়ানট দলের সম্মিলিত নৃত্যগীত উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। একক গানে কাজী নজরুল ইসলামের ‘ভবনে আসিল অতিথি’ পরিবেশন করেন সনজিদা বীথিকা এবং ‘বরষা ঐ এলো বরষা’ গেয়ে শোনান মনীষ সরকার।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের মধ্যে সেঁজুতি বড়ুয়ার কণ্ঠে ‘আজি ঝড়ের রাতে’, সেমন্তী মঞ্জরীর কণ্ঠে ‘নিবিড় মেঘের ছায়ায়’ এবং তাহমিদ ওয়াসীফ ঋভুর কণ্ঠে ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম’ একক গান হিসেবে পরিবেশিত হয়। এ ছাড়া ছায়ানট দলের সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘রিম ঝিম ঘন ঘন রে’ এবং নজরুলের ‘দুলিবি কে আয়’ গান দুটি পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছিন্নপত্র’-এর অংশবিশেষের পাঠ, যা উপস্থাপন করেন কৃষ্টি হেফাজ। কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘সাঁঝের মায়া’ আবৃত্তি করেন আব্দুস সবুর খান চৌধুরী।

সঙ্গীত ও নৃত্যের পাশাপাশি যন্ত্রসঙ্গীতের মূর্ছনা অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। মুর্তুজা কবির মুরাদ তাঁর বাঁশিতে এবং এবাদুল হক সৈকত সেতারে বর্ষার রাগ রাগিণী চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলেন।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে এসো শ্যামল সুন্দর নৃত্যগীত এবং সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই সুধাময় বর্ষা বন্দনার সমাপ্তি ঘটে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular