খেলা ডেস্ক : মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দিনে দারুণ ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিলেও মাইলফলক স্পর্শ করার পরপরই আউট হয়ে ফিরেছেন তিনি। তাঁর বিদায়ের পর চা–বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেটে ২০১ রান।
লাঞ্চ বিরতির পর থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হন শান্ত। ১২৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তবে সেঞ্চুরির পরের ওভারেই মোহাম্মদ আব্বাসের বলে উইকেট বিলিয়ে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৩০ বলে ১০১ রানের ইনিংসে তিনি মেরেছেন ১২টি চার ও ২টি ছক্কা।
শান্ত আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে গড়েন ১৭০ রানের জুটি। চা–বিরতির সময় মুমিনুল ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। শান্তর বিদায়ের পর উইকেটে আসেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। বিরতির আগে কয়েক মিনিট ব্যাট করলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।
এর আগে শান্তর পর অর্ধশতকের দেখা পান মুমিনুলও। ১০২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তাঁর চতুর্থ টেস্ট অর্ধশতক।
লাঞ্চের পর বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন শান্ত ও মুমিনুল। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ১০৩ রান। ১৪৮ বলে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন এই দুই বাঁহাতি ব্যাটার। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তাদের দ্বিতীয় শতরানের জুটি।
শুরুর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর নেতৃত্ব দেন শান্ত। লাঞ্চের আগে ৫০ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। পরে হাসান আলীর করা ৩১তম ওভারের শেষ বলে চার মেরে ৭১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর ষষ্ঠ অর্ধশতক।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৮ রানের মাথায় শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। ১৯ বলে ৮ রান করেন তিনি। এর আগে স্লিপে ক্যাচ উঠলেও জীবন পেয়েছিলেন জয়।
এরপর হাসান আলী নিজের প্রথম বলেই ফেরান সাদমান ইসলামকে। সালমান আগার হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩০ বলে ১৩ রান করেন এই ওপেনার। ২ উইকেটে ৩৬ রান থেকে পরে দলের হাল ধরেন শান্ত ও মুমিনুল।
এর আগে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। মিরপুরের উইকেট স্পিন–সহায়ক হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশ একাদশে তিন বিশেষজ্ঞ পেসার রেখেছে। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার সঙ্গে দলে ফিরেছেন এবাদত হোসেন চৌধুরী। স্পিন বিভাগে আছেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
অন্যদিকে হাঁটুর চোটে বাবর আজম ছিটকে যাওয়ায় পাকিস্তান দুই নতুন মুখকে অভিষেক করিয়েছে। অভিষেক হয়েছে আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজলের।
ঢাকানিউজ/নাজ/২৪



