নিউজ ডেস্ক: সৈয়দ আবুল মকসুদ যেখানে অন্যায় দেখতেন, সেখানে ভূমিকা রাখতেন। তার চিন্তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং আগামীতে করবে। তিনি বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই আন্দোলনে যুক্ত হতেন, মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতেন। তার গণমুখী চেতনাকে ধারণ করে যদি আমরা ২৪’ এর গণঅভ্যুত্থানকে বিশ্লেষণ করি তবেই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনতার গণআকাঙ্ক্ষাকে বুঝতে পারব।
সৈয়দ আবুল মকসুদের ৭৮ তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘গণঅভ্যুত্থানের গণআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ স্মৃতি সংসদ।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে এতে আলোচক হিসেবে ছিলেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, সাংবাদিক কাজল রশীদ শাহীন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আরিফ সোহেল ও কবি ইমরান মাহফুজ।
প্রবন্ধ পাঠ করেন গবেষক সামসুদ্দোজা সাজেন। প্রবন্ধে তিনি বলেন, গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থান ঘটে, কিন্তু তা কোন নিশ্চিত ফলাফল নয়। গণঅভ্যুত্থানের অনিশ্চয়তার অন্যতম কারণ হল অংশগ্রহণকারী জনগণের স্বত:স্ফূর্ততা। ৩টি পর্বে আলাপ করেন গণঅভ্যুত্থান কোন প্যারাডক্স নয় বরং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বহি:প্রকাশ, গণঅভ্যুত্থান ঘটে, গণঅভ্যুত্থানের কোন মাস্টারমাইন্ড থাকে না এবং গণঅভ্যুত্থানের নিয়তি বিপ্লব নয়, বেহাত বিপ্লব।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদের পরিচয় শুধু লেখনীর মাধ্যমে নয়। তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট; তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি রাজনীতি করে গেছেন। যেখানে অন্যায় দেখতেন, সেখানে তিনি ভূমিকা রাখতেন। যখন ইরাকে আমেরিকা হামলা চালালো, এর প্রতিবাদে তিনি সাদা বেশভূষা ধারণ করলেন। তার সঙ্গে আমার সর্বশেষ কথা হয়েছে কীভাবে বুর্জোয়া দলগুলো ছাড়িয়ে বামপন্থী, প্রগতিশীল শক্তির আন্দোলন এবং ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়া যায়। এজন্য তাকে কমরেড আবুল মকসুদ বলতে চাই।



