ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিস্বাস্থ্য খাতকে নতুন করে সাজাতে হবে: অর্থমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতকে নতুন করে সাজাতে হবে: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাজেটে কেবল বরাদ্দ বা বিনিয়োগ বাড়ালেই স্বাস্থ্যসেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হবে না। এজন্য স্বাস্থ্যসেবার পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। পাশাপাশি এর গুণগত পরিবর্তনও আনতে হবে।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, সরকার প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে উদ্যোগ নিচ্ছে। কারণ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমবে। তা ছাড়া মানুষের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপরও চাপ কমে আসবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ পুরো স্বাস্থ্য খাতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজেদের দায়িত্ব ও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্য খাতে কিছু খারাপ চর্চা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পুরো প্রক্রিয়াকে ‘রিসেট’ করতে হবে। তবে স্বাস্থ্যসেবা আগের মতো চলতে থাকলে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এই সেক্টরের গুণগত পরিবর্তনে চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজস্ব পরিকল্পনা সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে বড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয়তা, অগ্রাধিকার, কার্যকারিতা এবং পরিবেশগত বিবেচনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতি বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, যেসব প্রকল্প থেকে জনগণ সর্বোচ্চ উপকার পাবে, সেসব প্রকল্পেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।’

মতবিনিময় সভায় চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন চাহিদার বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন প্রমুখ।

সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল ও অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বন্দর, বিমানবন্দর, ফ্রি জোন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রেল অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। যে অঞ্চলের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণেও চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলী নদীর ওপারে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে। 

বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular