নিউজ ডেস্ক : সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করুন।


তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শব্দদূষণের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার কাজে তাদের ভূমিকা অপরিহার্য, সামাজিক বার্তা প্রচার করে তারা তরুণ প্রজন্মের আচরণ পরিবর্তন করতে সহায়ক হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে আতশবাজি সীমাবদ্ধ রাখা হবে যাতে বৃহত্তর জনজীবন ঝুঁকিমুক্ত থাকে এবং ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে সবাই নিরাপদে অংশগ্রহণ করতে পারে।

এতে ‘আর নয় শব্দদূষণ, জয় হোক সুস্থ জীবন’ স্লোগান সামনে ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোঃ কামরুজ্জামান, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ডা. ফারহিনা আহমেদ এবং ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে অংশগ্রহণ করেন এবং জনসম্মুখে এই বার্তাটি প্রচার করেন।
প্রায় দশটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গত পাঁচ জানুয়ারি থেকে দশ দিনব্যাপী মোবাইল কোর্ট ও ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে, যা শোভাযাত্রার মাধ্যমে সমাপ্তি পেল। প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, মোবাইল কোর্ট ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনগুলোর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত অনুচিত হর্ন বাজানোর কারণে বহু মামলা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। তিনি বললেন, প্রশাসনিক অনুশাসন ও ধীরে ধীরে জনগণের বদলানো অভ্যাসই শব্দদূষণ কমাবে।
মঙ্গলবার ১৭ জানুয়ারি মোটর শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা স্থানীয় নেতৃত্বও এই নির্দেশনার প্রতি সমর্থনসহ আন্তরিকতা দেখিয়েছে। মোটর শোভাযাত্রার আয়োজনে সামিল হন বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-মিনিট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর শাখার শ্রমিক নেতা মোঃ তাজুল ইসলাম তাজেল বলেন, “অযথা হর্ন বাজাবেন না—সবার কাছে অনুরোধ রইল; ধর্মীয় স্থান, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে হর্ন না বাজানো হবে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা তারাবীর সময়ে হর্ন বন্ধ রাখার বিশেষ অনুরোধ জানালাম।”
উপদেষ্টা রিজওয়ানা আরও বলেন, তরুণ নেতৃত্বকে শ্রবণশক্তি রক্ষা করতে সমাজকে আরো সংবেদনশীল হতে হবে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলতে আহ্বান করেছেন যাতে আগামী প্রজন্ম শ্রবণশক্তি বজায় রাখে এবং শহরচিত্র আরও সহনশীল হয়।
ডিএমপি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা নির্দিষ্ট এলাকা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে মনিটরিং বাড়াচ্ছে এবং শীঘ্রই আরও কড়াকড়ি আরোপ করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উদ্যোগ পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যগত সুবিধা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ আরও ব্যাখ্যা করেছেন, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট নির্যাতনমূলক স্থানসমূহে অডিও ভলিউম নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থায়ী মনিটরিং টিম গঠন করা হবে এবং শিক্ষামূলক ও আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। ডা. ফারহিনা আহমেদ বলেন, “শব্দদূষণ কেবল অল্প সময়ের অস্বস্তি নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদী শ্রবণঘাতসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়”—এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বিস্তার করে।
গ্রীন ভয়েসের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা ক্যাম্পেইনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে; তারা স্কুল ও কলেজে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়েছে। শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে এবং বৃদ্ধাশ্রমে ‘নীরব জোন’ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে, বিশেষ করে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট ও নবজাতক ইউনিটের কাছাকাছি স্থানগুলোতে শব্দ নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা হবে।
উত্তরোত্তর কার্যকরতা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ডেটা-ভিত্তিক মনিটরিং ও জরিমানা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা হবে এবং জনগণের সহমত নিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি গঠন করে নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় ব্যবসা ও গণপরিবহন মালিকদেরও অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে, এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কাঠামোবদ্ধ আইনি ব্যবস্থা কঠোরভাবে গ্রহণ করা হবে। শহরকে শান্তি ও সুস্থতায় ফিরিয়ে আনা হবে নিশ্চিত।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




