ঢাকা  শুক্রবার, ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeকৃষিহাওর এলাকার ২০ শতাংশ ধানও কাটা হয়নি

হাওর এলাকার ২০ শতাংশ ধানও কাটা হয়নি

নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, হাওর এলাকার ২০ শতাংশ ধানও কাটা হয়নি। কিন্তু কৃষি বিভাগ বলছে- হাওর এলাকার ৮২ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে।

সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বিরাইমাবাদ গ্রামের খোকন মিয়া বলেন, ‘কাউয়াদীঘি হাওরের কালাপানি বিল এলাকার ১০ কিয়ার (বিঘা) জমিতে ব্রি-৯২ জাতের ধান আবাদ করছিলাম। কাছি (কাস্তে) লইয়া জমিনে যাওয়ার আগেই সবখানি জাগা (আধা কাচা ধান) বুকহিমা (বুকসমান) পানিতে ডুবে গেছে। চাষ, চারা লাগানো, সার, গ্যাস, বীজতলার খরচসহ ওই জমি চাষে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। সব বৃষ্টির জলে ভেসে গেছে।’

রাজনগর উপজেলার কদমহাটা গ্রামের শাহীন মিয়া জানান, তিনি এ বছর ৩০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে মাত্র ১০ বিঘা জমির ধান কাটতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সব ধান পানিতে ডুবে গেছে। প্রতিদিন হাওরে পানি বাড়ছে। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে জোঁকের ডরে কেউ পানিতে কেউ বেশি টাকায়ও ধান কাটতে রাজি হচ্ছে না।’

একই দশা বিরাইমাবাদ গ্রামের মুকিত মিয়া, মশাহিদ মিয়াসহ অনেকের। জুমাপুর গ্রামের সাহেদ মিয়া জানান, বুড়িকোনা, বড়কাপন, রছুলপুর, রায়পুরসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ কাউয়াদীঘি হাওরে ফলানো ফসলের ২০ ভাগ ধানও কেটে আনতে পারেননি। অনেকের কাটা আঁটি বাঁধা ধান ও মাড়াই করা পানির তলে চলে গেছে। হাওরের ৮০ ভাগ ধান ডুবে গেলেও কৃষি বিভাগের লোকজন ৮২ ভাগ ধান কাটার মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। একে তো মানুষের মনে ফসল হারানোর জ্বালা। অন্যদিকে কৃষি বিভাগের মনগড়া পরিসংখ্যানে তালিকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার বিরাইমবাদ গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ নির্মিত রাস্তার মাঝে অনেক কৃষক ধান কেটে আঁটি জমিয়ে রেখেছেন। প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় মাড়াই দিতে পারছেন না। যারা মাড়াই করেছেন তারা বস্তাবন্ধি করে রেখেছেন। কিন্তু রোদ না থাকায় শুকাতে না পারায় আঁটি কিংবা মাড়াই করা ধানে ধানের চারা গজাচ্ছে। অনেকের ধান পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলার ৭টি উপজেলার হাওরের ২২শ হেক্টরের বেশি জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ২০ হাজার কৃষক। কৃষিগ্রস্ত কৃষক ও নষ্ট হওয়া ফসলি জমির তালিকা প্রস্তুতে প্রতিটি উপজেলা কৃষি অফিসাররা সরেজমিন তদন্ত করে তালিকা প্রস্তুত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে আকাশ-পাতাল প্রভেদ হওয়ার সুযোগ নেই। তবে কিছুটা হেরফের হতে পারে। কৃষকরা সাধারণত ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে বলে থাকেন। কৃষি অফিসাররা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করছেন। তাই ফারাক খুব বেশি হবে না।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular