ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশময়মনসিংহহাদির হামলাকারীরা ভারতে পালিয়েছে কিনা শতভাগ নিশ্চিত নন বিজিবি

হাদির হামলাকারীরা ভারতে পালিয়েছে কিনা শতভাগ নিশ্চিত নন বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ : ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ মো. ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়েছে কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত নন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে মানব পাচারকারী টীম লিডার ফিলিপ স্নালকে গ্রেফতারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিজিবি। তালে আটক করে জিজ্ঞাসা করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে হামলাকারীদের পালানোর ব্যাপারে ব্যাপক গুঞ্জন ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ সম্পর্কে সোমবার দুপুরে স্থানীয় খাগডহরের মাল্টিপারপাস সেডে বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল সরকার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিং এ বলেন পুলিশ, বিজিবি এবং সোর্সের তালিকায় এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি বার বার আসছে। কারণ পাচারকারীদের সহযোগিতা ছাড়া সীমান্ত পাড়ি দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সেক্টর কমান্ডার আরো বলেন, তার নেতৃত্বে নালিতাবাড়ীর বারোমারি এলাকায় অপারেশন পরিচালিত হয় বিজিবির এবং ঢাকা থেকে আগত ও হালুয়াঘাট থানার পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে। কিন্তু ফিলিপকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী ডেলটা চিরান, শ্বশুড় ইয়ারসন রংডি এবং মানব পাচারকারী লুইস লেংমিঞ্জাকে আটক করে তাদের বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের পরিবারের তিনজনসহ এখন পর্যন্ত বিজিবি চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে সোমবার সকালে মানবপাচারকারী বেঞ্জামিন চিরামকে গ্রেপ্তার করা হয়। বতর্মানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় ওসমান হাদীর উপর গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। একই দিন অর্থাৎ শুক্রবার রাত ০৮ টা ৩০ মিনিট হতে ০৯০০ টার মধ্যে বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় ৩৯ বিজিবি সম্ভাব্য পাচারের রুট গুলি চিহ্নিত করে টহল এবং চেকপোষ্ট বসানো হয় সীমান্তের অধিকাংশ স্থানে। পরদিন অর্থাৎ শনিবারে পুলিশ এবং বিজিবি’র সমন্বয়ে যৌথ অপারেশনের প্ল্যান করা হয়। ঢাকা হতে আগত পুলিশ কর্মকর্তার সাথে বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডারের নিয়মিত যোগাযোগ এবং অপারেশন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার দুইটি স্থানে এক সাথে অপারেশনের প্ল্যান করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অবস্থানরত ফিলিপ
স্নালকে আটকের পরিকল্পনা করা হয়। পুলিশের আরেকটি টিম হালুয়াঘাট এলাকায় অপারেশন প্ল্যান করে। হালুয়াঘাটে অপারেশনের বিষয়ে বিজিবি কর্তৃক সোর্স এবং অন্যান্য বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করেছে। অপরদিকে নালিতাবাড়ীর বারোমারি এলাকায় অপারেশন পরিচালিত হয় বিজিবি’র নেতৃত্বে এবং ঢাকা হতে আগত ও হালুয়াঘাট থানার পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে। ফিলিপ কে পাওয়া যায় নি। তবে তার স্ত্রী ডেলটা চিরান, শ্বশুড় ইয়ারসন রংডি এবং মানব পাচারকারী লুইস লেংমিঞ্জাকে আটক করে বারোমারী বিওপি’তে আনা হয়। সেখানে বিজিবি, পুলিশ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই তিন জন কে পরবর্তীতে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের নিকট দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রিন্ট, অনলাইন এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular