নিজস্ব প্রতিবেদক: হেপাটাইটিস বি ভাইরাস এইডস চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর। যার মাত্রা ৫০ থেকে ১০০ গুন বেশি। প্রতি বছর বাংলাদেশে বহু মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হোন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকা না কেনার কারণে ৯৩ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬)ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে ‘হেপাটাইটিস প্রতিরোধে প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সহযোগিতায় এই গোলটেবিল আলোচনা আয়োজন করে দৈনিক খোলা কাগজ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার সম্পাদক মো. আহসান হাবীব। এতে উপস্থাপনা করেন প্রনব আচার্য।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী। অন্যান্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পুলিশ সুপার হসপিটালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. এবিএম খোরশেদ আলম ভূঞা, টিবি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক হলেন ডা. আয়েশা আক্তার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মাজহারুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ডা. দীপক কুমার মিত্র এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, হেপাটাইটিস মূলত পাঁচ ধরনের ভাইরাস (এ, বি, সি, ডি ও ই) দিয়ে হয়। এর মধ্যে ‘এ’ ও ‘ই’ ছড়ায় দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে, যেখানে ‘ই’ ভাইরাস গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
অন্যদিকে ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ রক্ত এবং দেহরসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। বিশেষ করে ‘বি’ ভাইরাস শরীরের বাইরেও সাত দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। অসচেতনতার কারণে সেলুনে একই ব্লেড ব্যবহার, অনিবন্ধিত দন্তচিকিৎসকদের জীবাণুযুক্ত যন্ত্রপাতি এবং ফার্মেসিতে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ পুনরায় ব্যবহারের ফলে এই ভাইরাস মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত। গত দুই বছরে টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ৫০ লাখ শিশু বি ভাইরাসের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যা ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রায় দুই বছর টিকাদান বন্ধ রাখার পেছনে যারা জড়িত ছিলেন, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। তারা এই ভাইরাসের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন।
অন্যান্য বক্তার বলেন, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস রক্তদান, মুখের লালা, ইনজেকশন সিরিঞ্জ বা সুচ, মাদক, অনিয়ন্ত্রিত যৌন মিলন, গর্ভবতী মায়ের থেকে সন্তানের মাঝে এবং শুক্রাণু বা ডিম্বাণুর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ছড়ায়। এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে টিক নেওয়া একমাত্র সুরক্ষার উপায়। এই ভাইরাসের ফলে মানুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশে তরুণ-তরুণীরা বিয়ে করতে চান না। জাপানে ৩০ শতাংশের বেশি ছেলে-মেয়ে বিয়ে করতে অনাগ্রহী। এর কারণ হলো, তাদের চাহিদা কমে যাচ্ছে। গবেষণায় উঠে এসেছ, হেপাটাইটিস বি এজন্য অনেকটা দায়ী।




