ঢাকা  শুক্রবার, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকহোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ করতে চান ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ করতে চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে গত শনিবার হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজের অনুষ্ঠানে তৃতীয়বারের মতো হামলার শিকার হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ হামলার পর রিপাবলিকানরা হোয়াইট হাউসে একটি বলরুম তৈরি করার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন।

তবে ট্রাম্পের ওপর এ হামলা নতুন নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই ও ১৫ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ হামলার শিকার হন তিনি। কয়েক বছর ধরে এ রকম হামলার টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন মার্কিন রাজনীতিকরা।

শনিবার রাতে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারের বলরুমে উপস্থিত অনেকের কাছে হামলার দৃশ্যটি ছিল ভীষণ পরিচিত–গুলি ছোড়া, বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক আর স্বাভাবিক পরিস্থিতি যেন হঠাৎ সহিংসভাবে ভেঙে পড়ার অনুভূতি।

এরিকা কার্ক, যার স্বামী রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ক গত সেপ্টেম্বরে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন, তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কংগ্রেসম্যান স্টিভ স্ক্যালিস–যিনি ২০১৭ সালে রিপাবলিকান সতীর্থদের সঙ্গে বেসবল অনুশীলনের সময় এক হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন, তাকেও নিরাপত্তা বাহিনী সরিয়ে নেয়।

স্বাস্থ্যসচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রকেও একইভাবে বের করে নেওয়া হয়, যিনি তার বাবা ও চাচাকে আততায়ীর গুলিতে হারিয়েছিলেন।
উপস্থিত অনেক সাংবাদিক ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে অনুষ্ঠিত সমাবেশেও ছিলেন, যেখানে এক হামলাকারী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং সেটা তার কান ছুঁয়ে যায়। পরে অবশ্য সিক্রেট সার্ভিসের স্নাইপারের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হয়।

বর্তমানে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতা নিত্যসঙ্গীতে পরিণত হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে, যেকোনো জায়গায় আঘাত হানতে পারে। এ রকম পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘ট্রাম্পের বহু সমালোচকও স্বীকার করবেন, শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসের সংবাদ ব্রিফিংয়ে তার মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা ও সৌহার্দের সুর ছিল।’ তবে আবার রবিবার সন্ধ্যায় সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, যা এই ধরনের গুলির ঘটনাকে উৎসাহিত করেছে। এর পর কথোপকথনটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী নোরাহ ও ডোনেল কথিত হামলাকারীর লেখা ম্যানিফেস্টো সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। ট্রাম্প তখন তাকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘ভয়ংকর’ বলে সমালোচনা করেন।

এখন ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান মিত্রদের নীতিগত লক্ষ্যও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বাকস্বাধীনতা ও ডেমোক্র্যাটিক সক্রিয়তার ওপর দমন-পীড়নের আশঙ্কায় উদ্বুদ্ধ বামপন্থিদের একাংশ ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব ছড়িয়েছে, যে হামলাটি নাকি প্রেসিডেন্টের মর্যাদা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই সাজানো হয়েছিল। তবে গুলির ঘটনার পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া মূলত অন্যদিকেই কেন্দ্রীভূত ছিল। তার মনোযোগ ছিল হোয়াইট হাউসে একটি বিশাল বলরুম নির্মাণের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে।

গত রবিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানান, “শনিবারের ঘটনাটিই হলো সেই ‘ঠিক কারণ’ যার জন্য তিনি বলরুমটি চান।” বলরুমটির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়েরকারী ঐতিহাসিক সংরক্ষণ গোষ্ঠীকে লেখা এক চিঠিতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেছেন, ‘এই কাঠামোটি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনার মামলাটি প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবার এবং তার কর্মীদের জীবনকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।’ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য বলরুমটিকে সুস্পষ্টভাবে অনুমোদন দিয়ে একটি আইন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংবাদদাতাদের নৈশভোজের কথা উল্লেখ করে হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেন, ‘এ ধরনের অনুষ্ঠান করার জন্য এটি একটি নিরাপদ পরিবেশের জন্যই বলরুমটি একটি সমাধান হবে।’

তবে শনিবারের ঘটনা থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো শুধু একটি বলরুম দিয়ে পুরোপুরি সমাধান করা যাবে না। কারণ একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের আতিথ্য দেওয়া একটি ভবনে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারলেন তা খুঁজে বের করতে হবে। এ ছাড়াও মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস কর্তৃক স্থাপিত নিরাপত্তা পরিধি যথেষ্ট ছিল কি না। এবং অন্যান্য অংশের অতিথিদের স্ক্রিনিং করা উচিত ছিল কি না, এসবেরও উত্তর খুঁজতে হবে।

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস শিগগিরই সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রেসিডেন্ট সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোর জন্য প্রোটোকল ও কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করতে। যার মধ্যে এই গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনও অন্তর্ভুক্ত আছে।

তবে দেখা যাচ্ছে, পিটসবার্গের কাছে একটি মেলা প্রাঙ্গণে বাটলারকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প তার খোলা জায়গায় জনসভা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তিনি সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিতে উপস্থিত হওয়া এবং ছোট পরিসরে বক্তৃতা ও গোলটেবিল বৈঠক করতে বেশি পছন্দ করেন। বড় আকারের জনসমাগমগুলো এখন ইনডোর অ্যারেনায় স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষে অংশগ্রহণকারীদের স্ক্রিনিং করা সহজ হয়। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন আসন্ন হওয়ায়, ট্রাম্পকে নির্বাচনি প্রচারে নামতে হবে যাতে তিনি তার সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারেন। এই সমর্থকরা প্রায়শই বাড়িতেই থেকে যান যখন তিনি প্রার্থী হিসেবে থাকেন না। আত্মরক্ষামূলক মানসিকতা একজন প্রেসিডেন্টকে আরও নিরাপদ করে তুলতে পারে। কিন্তু এর জন্য রাজনৈতিক মূল্যও দিতে হতে পারে। সূত্র: বিবিসি

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular