নিউজ ডেস্ক : গাজীপুর, গুরুতর নির্যাতনের শিকার ১১ বছর বয়সী শিশু মোহনাকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। মোহনা বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জটিল আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস টেলিফোনে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন ও চিকিৎসার দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চয়তা দেন।
ঘটনাটি উদ্বেগজাগানো, কারণ পুলিশ প্রতিটি দিক থেকে তদন্তে এগিয়ে এসেছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী মোহনাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে, অভিযুক্ত করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বিথী রহমানসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সবসময়ই এই নির্যাতনে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলায় বলা হয়েছে মোহনাকে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করা হয়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগদগে ক্ষত দেখা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মোহনাকে শুধু শারীরিক না, মানসিক অবস্থায়ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ও নিয়মিত মনোরোগ কেন্দ্রিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গত বছর জুন মাসে উত্তরা পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় মোহনাকে গৃহকর্মী হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে নির্যাতনের সময় তাকে বাড়ির বাইরে কোনো সময়ই পরিবারে দেখা করতে দেওয়া হয়নি, এবং শেষবার তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছিলেন ২ নভেম্বর।
পরে ৩১ জানুয়ারি মোহনাকে অসুস্থ অবস্থায় তার পরিবারকে দেওয়া হয়। তার বাবা গোলাম মোস্তফা, যিনি পেশায় হোটেল কর্মচারী, মোহনাকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ঘটনায় ঘটে যাওয়া নির্যাতন প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মাননীয় আদালত নির্যাতনের মামলায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় পাওয়া যাবে না এবং তদন্ত দিয়ে দ্রুত আদালতে মামলা প্রক্রিয়া চালানো হবে।
উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন বলেন, “এ ধরনের নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়” এবং অভিযুক্তদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি মোহনাকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার ভয় পাবার কিছু নেই; তারা তার পাশে রয়েছে। এছাড়া তিনি মোহনাকে সহায়তার জন্য তার বাবাকে কর্মসংস্থানেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
শিশুটি বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তাকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দরকার, এবং রোগীর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যথাযথ খাবার, ঔষধ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
এই ঘটনাটি শিশু সুরক্ষা এবং সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার দাবি জোরদার করেছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




