নিউজ ডেস্ক : সরকারি উপদেষ্টা পরিষদের সাম্প্রতিক বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা নেটওয়ার্ক শক্ত করতে মোট ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ভাতা ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নজরকারা পদক্ষেপ হচ্ছে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা প্রত্যেককে ৫,০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শাসন ব্যবস্থায় প্রায় ২,৭০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হবে।
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে তাদের জীবিকার ভার কমে আসবে এবং অসামরিক জীবনযাত্রায় সহায়তা বাড়বে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে মোট ৬২ লাখ করা হয়েছে। অধিকাংশ বয়স্করা এখন মাসিক ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা পাবেন, এবং ৯০ বছরের ঊর্ধ্বদের জন্য ভাতা বাড়িয়ে এখন তারা মাসিক ১,০০০ টাকা পাবে।
প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বিচ্ছিন্ন পরিবারের ভাতা ও সুবিধা পরিমিতভাবে বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা উপবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ও অনুদানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জরুরি চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার, স্ট্রোক প্রভৃতি গুরুতর রোগের জন্য এককালীন চিকিৎসা ভাতা দ্বিগুণ করে ১,০০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
ভিজিএফ কর্মসূচি ক্ষেত্রে জরুরিভিত্তিতে ২,৭৩,৫১৪ জন জেলেকে নতুনভাবে ভিজিএফ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ভিজিএফ উপকারভোগীর সংখ্যা ৬০ লাখে উন্নীত করা হবে।
এই ভাতা বৃদ্ধির ফলে সরাসরি সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রায় ২,৭০০ কোটি টাকার ব্যয় বাড়বে। অর্থনৈতিকভাবে এটি নিম্নআয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে, স্থানীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং দরিদ্রত্ব হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান ও জীবনমান রক্ষাই এই উদ্যোগের মূল ভাবনা। একই সঙ্গে প্রবীণ, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা বাড়ানো রাষ্ট্রীয় নৈতিক দায়বদ্ধতা হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
সঠিক ও সময়মতো বিতরণ হলে হাজারো পরিবার আর্থিকভাবে স্বস্তি পাবে এবং সামাজিক সুরক্ষার দৃশ্যমান উন্নতি দেখা দেবে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




