ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
HomeUncategorized১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা প্রায় ১৯ লাখ টাকা

১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা প্রায় ১৯ লাখ টাকা

অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রায় ১৫০ বছর পর ফেরত এসেছে ধার নেওয়া একটি বই। দীর্ঘ সময় পর বইটি ফেরত দেওয়ায় লাইব্রেরির নিয়ম অনুযায়ী, গ্রহীতার ওপর প্রায় ১৯ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স বইটি গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী শহর কিয়ামার পাবলিক লাইব্রেরিতে ফেরত দেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। বাড়ি সংস্কারের সময় একটি পুরোনো ফায়ারপ্লেসের ইটের গাঁথুনির ভেতরে রাখা একটি চায়ের বাক্সে বইটি খুঁজে পান তিনি।

কিয়ামা লাইব্রেরির ম্যানেজার মিশেল হাডসন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিলে বইটি দেরিতে ফেরত দেওয়ার জরিমানা প্রায় ১৮ দশমিক ৭ লাখ রুপি হবে। বইটির মলাটের ভেতরে মুদ্রিত ব্রিটিশ সাপ্তাহিক তিন পেন্স বিলম্ব ফি এবং ১৮৭২ সালে লাইব্রেরিটি চালু হওয়ার সময়কার প্রচলিত নিয়মাবলীর ভিত্তিতে এই জরিমানা গণনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এত পুরোনো কোনো বই এর আগে তাদের লাইব্রেরিতে ফেরত আসেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যান্য লাইব্রেরির অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর পর বই ফেরত আসার ঘটনা দেখা গেলেও ১৫০ বছর পর ফেরত আসা বই একেবারেই বিরল।

লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বইটি এখন গ্রন্থাগারের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। বইটির প্রকৃত ধারগ্রহীতা কে ছিলেন, তা আর জানা সম্ভব নয়। কারণ ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার রেজিস্টার বা দিনলিপি হারিয়ে গেছে। বইটির ভেতরেও এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে সর্বশেষ পাঠকের পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

হাডসন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো সূত্র নেই। বইটিতেও এমন কিছু নেই, যা থেকে সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় জানা যাবে।

লাইব্রেরির সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী, নতুন বই নেওয়ার আগে আগের বই ফেরত দেওয়া এবং সব বকেয়া পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক ছিল। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার নিতে পারত, তবে শর্ত ছিল পরিবারের অন্তত ছয়জন সদস্য পড়তে জানতে হবে। এছাড়া নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে বই ইস্যু করা হতো না।

মজা করে হাডসন বলেন, ‘হয়তো এ কারণেই তারা বইটি আর ফেরত দেয়নি।’

দীর্ঘদিন চিমনির পাশে পড়ে থাকায় বইটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইব্রেরির ম্যানেজার বলেন, গ্রন্থাগারটি চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হারিয়ে গিয়েছিল। এখন বইটি লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে।

হাডসন বলেন, ‘এবার আমরা বইটিকে আর বাইরে যেতে দেব না। এটি ফেরত আসার জন্য আর ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular