অর্থনীতি ডেস্ক: মাগুরার শালিখায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম)-সহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন-মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মহিতুল ইসলাম, আড়পাড়া জোনাল অফিসের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রাণী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রাণী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জিএম এস এম শাহিন আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তে জিএম মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর জোন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্য তিনজনকে মাগুরা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জিএমকে বরখাস্তের পর মহম্মদপুর জোনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এস এম শাহিন আহসানকে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জিএম হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শালিখা আড়পাড়া কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি বিদ্যুৎ বিল ইস্যু করা হয়। এতে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল ধরা হয় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গ্রাহকের অনুমোদিত লোড ছিল ২ কিলোওয়াট। মিটার পরিবর্তনের সময় ডিমান্ড চার্জের নির্ধারিত ঘরে ভুল করে মিটারের ৯ ডিজিটের সিল নম্বর বসে যাওয়ায় বিলের অঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
হিসাব অনুযায়ী, ডিমান্ড চার্জ বাবদ যেখানে ৮৪ টাকা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ভুল তথ্যের কারণে ওই খাতে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা দেখানো হয়। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ হয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়।
অস্বাভাবিক বিল হাতে পাওয়ার পর গ্রাহকের পরিবার বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়কে জানায়। ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। তবে এর আগেই বিষয়টি নজরে আসার পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিলটি সংশোধন করে।
সংশোধিত হিসাবে আলেয়া খাতুনের প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ বিল হওয়ার কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি ১ হাজার ৯৬৩ টাকা পরিশোধ করেন।
আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম মো. রেজাউল করিম ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘মিটার পরিবর্তনের সময় অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে চলে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছিল। গ্রাহকের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর দ্রুত বিল সংশোধন করা হয়েছে।’




