ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধ৩০ কোটি টাকার প্রতারণা: গুজরাট থেকে প্রতারক গ্রেপ্তার

৩০ কোটি টাকার প্রতারণা: গুজরাট থেকে প্রতারক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিজের পরিচয় লুকাতে মাথায় কৃত্রিম চুল পরা এবং তিনটি ভিন্ন ভুয়া নাম ব্যবহার করা ৫৬ বছর বয়সি এক প্রতারককে গুজরাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের নামে ৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানান।

অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত রশন ভূষণ শেঠ মুম্বাই ও গুজরাটের ৪২ জন ভুক্তভোগীকে মাসে ৫ শতাংশ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। এই প্রতারণার অর্থ দিয়ে তিনি বিলাস বহুল ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি ও ঘড়িসহ চরম বিলাসী জীবনযাপন করতেন।

তিনি আরও জানান, জুলাই মাসে গুজরাটের ভালসাদ এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে ইওডব্লিউ শেঠকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তকারী সংস্থার মতে, বিনিয়োগকারীদের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে এবং তাদের অর্থ যে শেয়ার বাজারে লেনদেন হচ্ছে তা বোঝাতে শেঠ ভুয়া লাভের স্টেটমেন্ট তৈরি করে দেখাতেন। সংগৃহীত মূল মূলধন প্রায় ৫ কোটি টাকা হলেও, এক প্রবাসী নারীসহ ভুক্তভোগীদের দাবি করা মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ দশমিক ২৬ কোটি টাকা।

প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে গত এপ্রিলে, যখন কান্দিভালির বাসিন্দা সঞ্জয় হীরালাল শাহ (৬০) মুম্বাইয়ের পুলিশ কমিশনারের কাছে তার পরিবারের সঙ্গে ১০ দশমিক ৮১ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ জানান।

তদন্তে দেখা যায়, শেঠ ২০২০ সালে ইনভেস্টলোক নামে একটি ট্রেডিং অ্যাপ তৈরির অযুহাতে সঞ্জয় শাহর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। এরপর তিনি তাদের পরিবারকে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে রাজি করান। সিওন এবং মাতুঙ্গার ফ্ল্যাটে মিটিংয়ের সময় জালিয়াতি করা এক্সেল শিট দেখিয়ে একইভাবে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও ফাঁদে ফেলেন তিনি।

প্রতারণা দীর্ঘদিন চালিয়ে যেতে তিনি শুরুতে লাভ হিসেবে ছোট ছোট কিস্তিতে প্রায় ৩ দশমিক ৮ কোটি টাকা প্রদান করেছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি সমস্ত পেমেন্ট বন্ধ করে দেন এবং এপ্রিল থেকে আত্মগোপনে চলে যান।

প্রযুক্তিগত নজরদারির সহায়তায় ইওডব্লিউ-এর একটি দল শেঠের অবস্থান গুজরাটের ভালসাদে একটি আবাসিক ভবনে চিহ্নিত করে। পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দারা হাউসকিপিং কর্মীর ছদ্মবেশে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করার আগে সেখানে টানা তিন দিন নজরদারি চালান এবং অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশ তদন্তে উঠে এসেছে যে শেঠ বিভিন্ন সময়ে তিনটি পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন তরুণ বয়সে জয়েশ হাসমুখভাই শাহ, দিল্লিতে থাকাকালীন রাহুল অতুলভাই পারেখ এবং মুম্বাইয়ে রশন ভূষণ শেঠ।

ওই কর্মকর্তা জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে একটি বিএমডব্লিউ, একটি মার্সিডিজ, একটি মাহিন্দ্রা থার গাড়ি, ১৪টি বিলাসবহুল ঘড়ি, ১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকার সোনার গহনা এবং নগদ ১৭ লাখ টাকা জব্দ করেছে। এছাড়া তার ৩টি আবাসিক সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ১ সেপ্টেম্বর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে ৩৭ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে সেলুনের কর্মীরাও রয়েছেন যারা শেঠের উইগ রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। তাদের সাক্ষ্য পুলিশকে তার আসল পরিচয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে। ইওডব্লিউ অন্যান্য ভুক্তভোগীদেরও তাদের বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular