ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeশিরোনাম৩০ বছরের আবেগ ও স্মৃতির মেলবন্ধন: ফর্টিস রিসোর্টে ঢাকা কলেজ ’৯৬ ব্যাচের...

৩০ বছরের আবেগ ও স্মৃতির মেলবন্ধন: ফর্টিস রিসোর্টে ঢাকা কলেজ ’৯৬ ব্যাচের জমকালো ‘সামার ফেস্ট’

৩০ বছরের আবেগ ও স্মৃতির মেলবন্ধন: ফর্টিস রিসোর্টে ঢাকা কলেজ ’৯৬ ব্যাচের জমকালো ‘সামার ফেস্ট’

##খেলাধুলা, ফল উৎসব, সুইমিংপুলে সাঁতার ও সাংস্কৃতিক আড্ডায় মেতেছিলেন এক সময়ের সহপাঠীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

তিন দশকের পুরনো বন্ধুত্ব আর কৈশোরের সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থনে এক অনন্য মিলনমেলায় মেতে উঠেছিল ঢাকা কলেজের এইচএসসি ১৯৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর বাড্ডার ঐতিহ্যবাহী ‘ফর্টিস ডাউনটাউন রিসোর্ট’ (বড় বেরাইদ, ফকিরহালি রোড) প্রাঙ্গণে অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘ঢাকা কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন এইচএসসি ’৯৬ সামার ফেস্ট-২০২৬’। অতি অল্প সময়ের প্রস্তুতি ও উদ্যোগে আয়োজিত এই মিলনমেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন ১০০-এরও বেশি সহপাঠী বন্ধু। দীর্ঘ ৩০ বছর পর অনেক বন্ধুর সাথে পুনরায় দেখা হওয়ায় এক আবেগঘন ও অনাবিল আনন্দের অব্যাক্ত অনুভূতি তৈরি হয় পুরো রিসোর্ট জুড়ে।

দুপুর ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই উৎসবে ছিল নানামুখী আয়োজন। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থক বন্ধুদের মধ্যকার একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। প্রীতি ম্যাচ হলেও মাঠের লড়াইয়ে তা রূপ নিয়েছিল চরম উত্তেজনা ও উপভোগ্য এক পেশাদার দ্বৈরথে। টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হয়, যা বন্ধুদের ফুটবলীয় সৌহার্দ্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। খেলা শেষে শুরু হয় জ্যৈষ্ঠের চিরন্তন ঐতিহ্য ‘মৌসুমী ফল উৎসব’। উৎসবের টেবিলে সাজানো ছিল আম, জাম, লিচুসহ হরেক রকমের রসালো দেশী ফল। তীব্র গরমের মাঝে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধুরা দলবেঁধে সুইমিংপুলের শীতল জলে সাঁতার কেটে ও জলকেলিতে মেতে উঠে শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে যান।

সময়ের পরিক্রমায় অনেকের বাহ্যিক অবয়বে পরিবর্তন আসলেও বন্ধুদের আড্ডা ও মনন ছিল চিরযৌবনা। সন্ধ্যার ছায়া নামতেই শুরু হয় মূল আড্ডা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে পেশাদার শিল্পীদের পাশাপাশি মঞ্চে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেন ঢাকা কলেজেরই কৃতি বন্ধুরা। চমৎকার সব গান পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে মাতিয়ে রাখেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের পরিচালক মহব্বত হোসাইন, মজনু, অভিজিত, প্রকৌশলী মনজুর আলম ও টেক্সটাইল ব্যবসায়ি সাইদুর রহমান প্রমূখ। পুরোনো দিনের জনপ্রিয় সব গানের তালে পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক জাদুকরী আবহে রূপ নেয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে এক রাজকীয় নৈশভোজের (বুফে ডিনার) মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে উৎসবের।

গুণীজনদের মিলনমেলা: এই আনন্দ উৎসবে অংশ নেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন পেশার স্বনামধন্য বন্ধুরা। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নিউজ প্রডিউসার খোরশেদ আলম আকাশ, সিনিয়র সাংবাদিক খোরশেদ আলম সীমান্ত, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাসুদ রানা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তোফাজ্জল হোসেন সাগর, আর্মি হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত কর্নেল তৌহিদুজ্জামান জনসন, বিকেএসপির পরিচালক কর্নেল আব্দুল মাবুদ শান্ত এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের পরিচালক মহব্বত হোসাইন, রংপুর রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি মহিবুল ইসলাম খান প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করার নেপথ্যে বিশেষ অবদান রাখেন ঢাকা কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন এইচএসসি ‘৯৬-এর নির্বাচিত সভাপতি ডা. মো. আশরাফুল হাসান মানিক, সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদ আলম তুলিত, সামার ফেস্টের আহবায়ক রায়হান আজাদ টিটো, সদস্য সচিব মহব্বত হোসাইন এবং সমন্বয়কারী প্রকৌশলী আহসানউজ্জামান দুলাল ও প্রকৌশলী সুজাউদ্দিন সুজন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular