• ঢাকা
  • রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২৮ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কুমিল্লায় করোনার আগ্রাসনেও দূর্গা প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত কারিগররা 


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৪১ পিএম
প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত কারিগররা
কারিগররা ব্যস্ত প্রতিমা তৈরীতে

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা প্রতিনিধি: শরৎ মানেই দেবী দূর্গার আগমণ। সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজার দেরী নেই খুব বেশি। আগামী ১১ অক্টোবর আশ্বিনের ২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এ মহাউৎসব। মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের ফলে গত বছর থেকেই ভাটা পড়ছিলো এ মহাউৎসবের। সম্প্রতি লকডাউন উঠে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ বেড়েছে প্রতিমার চাহিদা। ফলে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত কারিগররা। .

বিশেষ করে কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক মন্দিরে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের প্রতিমা তৈরির  কারিগররা। ভাদ্র-আশ্বিনের ভয়াবহ খরতাপে হেমন্তের শেষ মূহূর্তে আগাম শীতের বার্তায় এ মহাউৎসবকে উৎসব মুখোর করে তুলতে দু’উপজেলার বিশেষ সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকার মন্দিরগুলোতে চলছে নানাহ রকম ব্যাপক প্রস্তুতি। আগামী ১০ অক্টোবর ঘট পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দূর্গাপূজার এ মহা উৎসব। তবে অদৃশ্য ভাইরাস করোনার ভয়াবহতায় এ উৎসব অনেকটাই ভাটা পড়েছে।.

লাকসাম পৌরশহরের সদর কালিবাড়ী, উত্তর বাজার বনিক্য বাড়ী, জগন্নাথ দেবালয়, দক্ষিণ লাকসাম স্বর্গীয় নিরঞ্জন বনিকের বাড়ী, পশ্চিমগাঁও সাহাপাড়াসহ উপজেলা দুটোর বিভিন্ন দূর্গামন্দিরে স্থানীয় ও দেশ- বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মৃৎ শিল্পীরা রাত-দিন প্রতিমা তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।  ওই স¤প্রদায় অধ্যুষিত এলাকার পাড়া-মহল্লায় এবং বাসা- বাড়ীতে পারিপারিক পূজা মন্ডপে হরেক রকম প্রতিমা তৈরী করছেন কারিগররা। শারদীয় এ মহা উৎসবের এক-একটি আধুনিক প্রতিমা তৈরী করতে কেউ কেউ ব্যয় করছেন কয়েক লাখ টাকা। এবারে লাকসাম উপজেলায় ৩৫টি পূজা মন্দিরে দূর্গা উৎসব পালিত হবে। আসন্ন এ দূর্গা পূজা ঘিরে সরকার ১৭টি নির্দেশনা জারি করার পাশা-পাশি উপজেলা - পৌর সভা ও থানা পুলিশ প্রশাসন পৃথক পৃথক ভাবে শান্তি শৃংখলা রক্ষার্থে নিয়েছে  বিশেষ ব্যবস্থা।.

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাক্তার শচিন্দ্র চন্দ্র দাশ ও সাধারণ সম্পাদক দূর্জয় সাহা জানায়, অশুভ শক্তি কিংবা অসুর শক্তি বিনাশ ঘটিয়ে শুভ সুর শক্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ শারদীয় দূর্গা পূজার মূল দর্শন। সা¤প্রদায়িক স¤প্রতি বজায় রাখতে এবং জনজীবনে সকল ভেদা-ভেদ ভুলে সার্বজনীন এ মিলন মেলাই শারদীয় মহা উৎসবের নামকরন। এ অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্যান্য স¤প্রদায়ের লোকজনের সাবির্ক সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় আমরা শান্তিপূর্ন ভাবে সব ধরনের পূজা উদযাপন করতে পারছি। আমাদের সকল অনুষ্ঠানে সার্বজনিন লোকজন উপস্থিত থাকেন। বিশেষ করে আমরা সকল ধর্মের লোকজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বন্ধনে এ অঞ্চলে বসবাস করছি। তবে অদৃশ্য ভাইরাস করোনার কারনে আমাদের এ মহা উৎসব এবারে অনেকটাই নিরবে কেটে যাবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে যতটুক সম্ভব সীমিত পরিসরে এ আয়োজন চলবে।.

পৌর শহরের একাধিক দূর্গা মন্দিরের প্রতীমা কারিগররা জানায়, আসন্ন শারদীয় দূর্গা পূজা ঘিরে হরেক রকম ডিজাইন ও কারুকাজসহ প্রতিমার সমাপনী কাজ সারতে সময় লাগে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস। বছরের বেশির ভাগ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিমা তৈরীর কাজে ব্যস্ত থাকেন। বাপ-দাদার পেশা হিসাবে দীর্ঘ ৩৫/৪০ বছর এ কর্মজীবনের অনেক অজানা তথ্য এ প্রতিনিধির কাছে তুলে ধরেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা । তাদের পৈত্রিক বাড়ী শরিয়তপুর,চাঁদপুর ও নোয়াখালি জেলায়। চলতি বছরের আষাঢ় মাস থেকে বিভিন্ন দূর্গা মন্দিরের জন্য দূর্গা প্রতিমার কাজ চুক্তিভিত্তিক শুরু করেন তারা এবং কাজ শেষ হবে আগামী দুই/ চার দিনের মধ্যে।  .

তারা আরও জানায়, এ অঞ্চলের শারদীয় মহা উৎসবে দূর্গা প্রতিমা তৈরীতে খড়-কুটা, পাট, সূতা, বাঁশ, রশি ও মাটিসহ বিভিন্ন কাঁচামাল দিয়ে দূর্গা প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু প্রতিমায় মাটি আস্তর শুকালে রংয়ের ডিজাইন ও কারুকাজ শুরু করবো। কোন কোন ক্ষেত্রে তারা ছোট প্রতিমা ৩০০ টাকা থেকে ৭/৮’শ টাকা এবং বড় প্রতিমাগুলো ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিমা তৈরির মুজুরী হিসাবে পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন এবং ফাঁকে ফাঁকে চুক্তির মাধ্যমে নানা রকম সাইজের প্রতিমা বিক্রিও করেন। .

পশ্চিমগাঁও ঠাকুরপাড়া কালি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি তথা কুমিল্লার হিন্দু সম্প্রদায় নেতা  প্রকৌশলী শিশির কুমার আচার্য্য জানায়, আসন্ন শারদীয় দূর্গা পূজার এ মহা উৎসব করোনা ভাইরাসের কারনে গতবারের চেয়ে এ বছর অনেকাটাই সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পালন করা হবে। দূর্গা প্রতিমা তৈরী অনেকটা ব্যয় বহুল হলেও ইতিমধ্যে এ সকল আয়োজন প্রায় সম্পন্নের পথে। এ অঞ্চলে আবহমান কাল ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসব মুখর পরিবেশে এ দূর্গা পূজা মহা উৎসবটি পালন করে আসছেন। এ এলাকার সার্বজনীন লোকজন পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে এ মহা উৎসব গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে এ অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্বল দৃষ্টান্ত। আমি আশা করছি সাম্প্রপ্রদায়িক সম্প্রীতির এই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে দেশ ও জাতির কল্যানে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে সচেষ্ট হবে। . .

ঢাকানিউজ২৪.কম / মশিউর রহমান সেলিম

উৎসব / দিবস বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image