• ঢাকা
  • শনিবার, ৮ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২২ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

শ্রীমঙ্গলে রমেশের লেয়ার চা এখন বিশ্বজুড়ে খ্যাত


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৪০ পিএম
শ্রীমঙ্গলে রমেশের লেয়ার চা
রমেশের ৭-১১ লেয়ারের চা

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: পর্যটনের শহর ও চায়ের রাজধানী খ্যাত দুটি পাতা একটি কুঁড়ি দেশ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল অঞ্চল।

বছর জুড়ে শ্রীমঙ্গলে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের পদচারণে মুখিত হয় শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গলে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের একমাত্র আকর্ষণ শ্রীমঙ্গলের ১০ লেয়ারের চা, এই বিশ্ব খ্যাত ১০ লেয়ারের চায়ের আবিষ্কারক শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া চা বাগানের চা দোকানি রমেশ রাম গৌড়।

রমেশের কালার চা নিয়ে  ২০১২ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক ইংরেজি বইয়ে এই নিয়ে একটি পাঠ অন্তর্ভুক্ত করেছে প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়।  দেশ বিদেশে শ্রীমঙ্গলে খ্যাত আর রমেশেরে ৭ লেয়ার চা এখন এর পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। রমেশের চা এখন বিশ্বজুড়ে একটি ব্রান্ড হিসেবে পরিচিত।

প্রতিনিয়িত ব্যতিক্রমী কিছু আবিষ্কার করার ভাবনায় বিভোর ছিলেন বিভিন্ন কালার চায়ের আবিষ্কারক রমেশ রাম গৌড়।কথায় আছে চেষ্টাই সাধনার ফল করলে তার ফল পাওয়া এর অর্থ তার সাধনা, ভাবনা বিফলে যায়নি। প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা নাই তার নিজের নাম লিখতে হয় চিন্তা করে  আর সেই ব্যক্তির সাধনার ফলে তৈরী করেন ২০০২ সালের ২ জানুয়ারী কালার চা ।

চলুন জেনে নেই রমেশ রাম গৌড় কোন সালে কয় লেয়ারের চা আবিষ্কার করেন: ২০০০ সালে ২ লেয়ার, ৩, ৪ লেয়ারের ২০০৫ সালে, ৬ লেয়ারের চা ২০০৭ সালে,৭ লেয়ারের চা ২০০৯ সালে।৯ লেয়ারের চা ২০১০ সালে। ১০ লেয়ারের চা ২০১৬ সালে। ২০২০ সালে সর্বশেষ ১১ লেয়ারের আবিষ্কার করেন।রমেশ রাম গৌড় কালার চায়ের উদ্ভাবক রমেশ গৌড় প্রায় ১৮ জাতের চা তৈরী করতে পারেন।

মানুষ যখন কর্মপরিসরে ক্লান্তি বোধ করে তখন শরীরের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রের মত কাজ করে এক কাপ গরম চা।আর সেটা যদি হয় বিশ্বের প্রথম কালার চায়ের আবিষ্কারক রমেশ রাম গৌড়ের রঙ্গিন চা তাহলে তো আর কথাই নেই।তবে রমেশের চা খেতে হলে আপনাকে আসতে হবে দেশের অন্যতম পর্যটন খ্যাত এলাকা চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে।

শ্রীমঙ্গলে এই সাত কালারে চা স্বাদ নিয়েছেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও ৩৬ টি দেশের  রাষ্ট্রদূতরা এই বিশেষ চা পান করেছেন।

সরকারী এক হিসেবে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার পর্যটক শ্রীমঙ্গলে ঘোরতে আসে।কালার চায়ের স্বাদ নিয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রী ,মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা,বিচার বিভাগের জর্জ, সচিব,ডিসি, এডিসি, বিজিবি মেজর কর্ণেল, র‌্যাব কমিশনার, পুলিশ প্রধান,সেনাবাহিনীর মেজর কর্ণেল, নাট্য অভিনেতা, চলচ্চিত্র অভিনেতারা।

রমেশে সাত লেয়ার চা নিয়ে পঞ্চম শ্রেনীর পাঠ্যবইয়ে একটি পাঠ দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষামন্ত্রালয়।রমেশের একট একটা কালার চায়ের লেয়ার আবিষ্কার বা তার লেয়ার পরিবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১ বছর।রমেশ রাম গৌড় এখন ১১ লেয়ার চা আবিষ্কার করেছেন।
প্রতিটি স্তরে ভিন্ন রঙ্গ।সাত রঙ্গের চা বলে খ্যাত হলেও বর্তমানে চা পাবেন ৮ রঙ্গের। তবে ৮ রঙ্গ ৯ আসলে ৮টি ভিন্ন স্তরের চা।রঙ্গ আছে ২/১০টি। রঙ্গের বিন্যাস তৈরি হয় স্তরের জন্যই।

রহস্যজনক এই সাত রঙ্গের চা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও আকষনীয় বিষয়। কিভাবে একটি গ্লাসে সাতটা রঙের চা, দেখতে অনেকটা আকাশের রংধনুর মতো,একটা আরেকটার সঙ্গে মেশে না,একটি গ্লাসে ১০ লেয়ারে  চা,কিভাবে-বা তৈরি করা হয় এই রহস্যজনক চা। চা প্রেমিদেরও জানার আগ্রহ বেশি।

সাত রং চা হচ্ছে বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় উষ্ণ পানীয়।চায়ের এই স্বাদ নিতে চা প্রেমীরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসেন।শরবত-মিষ্টি স্বাদ থেকে শুরু করে ঝাঁঝালো লবঙ্গ সহ প্রতিটি স্তরের আলাদা আলাদা স্বাদ রয়েছে এবং বর্ণের দিক থেকে রংধনুর মতো বর্ণীল।
প্রথম লেয়ার দুধ, দ্বিতীয় লেয়ারে গ্রীন-টি, তৃতীয় লেয়ার দুধ চা, এরপর রং চা, তারপর সাদা চা, তারপর কফি এবং শেষ লেয়ারটি অরেঞ্জ ফ্লেভারে তৈরি করা হয়।

বাংলাদেশ উৎসব আমেজের দেশ।সুতরাং কোন ধর্মীয় উৎসব বা ছুটি উপলক্ষে ৭-রং চায়ের নাম এবং খ্যাতির জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকেরা এসে ভিড় জমায়।সকালে বা সন্ধ্যায় চায়ের কাপে চুমুক দিতে কে না চান।কাজ বা ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে কেউ কেউ চায়ে চুমুক দেন। প্রতিদিন আমরা কত রঙের চায়ে আর চুমুক দেই। দুধ চা নয়তো রঙ চা। কিন্তু এবার ঢাকায় বসে পান করুন চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল শহরে সাত,দশ  রঙের চা।

রহস্যজনক এই সাত রঙ্গের চা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকষনীয় বিষয়। কিভাবে একটি গ্লাসে সাতটা রঙের চা, দেখতে অনেকটা আকাশের রংধনুর মতো, একটা আরেকটার সঙ্গে মেশে না, কিভাবে-বা তৈরি করা হয় এই রহস্যজনক চা।

সাত কালার চায়ের জনক রমেশ রাম গৌড় হলেন এ চায়ের উদ্ভাবনকে সংযোজন করে এখন অনেকেই সাত কালার চা তৈরি করতে পারেন।তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন গৌরাঙ্গ বৈদ্য।তিনি এই সাত কালার চায়কে সংযোজন করে দিয়েছেন স্পষ্ট সাতটি লেয়ার, যা দেখতে অনেকটা আকাশের রংধনুর মতো।তাই গৌরাঙ্গ বৈদ্যকে বলা হয় আধুনিক সাত কালার চায়ের জনক। সাত কালার চা তৈরী রহস্য গৌরাঙ্গ বৈদ্যর কাছে জানতে চাইলে, প্রথমে বলতে না চাইলেও পরে মনের অজান্তে বলে ফেললেন, এটা একটা ঘনত্ব। এই চা তৈরি করা হয় ঘনত্বের উপর।

সাতটা রঙ বা সাতটি লেয়ার তৈরি করা হয় চা-পাতা ও চিনি দিয়ে।এটা তৈরি করা হয় প্রাকৃতিক জিনিসপত্র সবুজ চা (গ্রীন টি), কালো চা (ব্ল্যাক-টি), লেবু, আদা এবং দুধ।একটি স্বচ্ছ কাচের গ্লাসে স্পষ্ট বিভিন্ন লেয়ার।

এক এক চুমুকে এক একটি লেয়ারের স্বাদ।রমেশ ও গৌরাঙ্গ বৈদ্যর রহস্য ভেঙে এখন দেশের আরও দু’এক জায়গায় তৈরি হয় সাত লেয়ারের চা।সময় ও সুযোগের অভাবে যারা সিলেট মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গলে যাওয়া হয়নি বা বিশেষ স্বাদের এই চা পান করতে আসতে পারেন। কালার রঙ্গের চা প্রতিটি স্তরে ভিন্ন রঙ।সাত কালার চা বলে খ্যাত হলেও বর্তমানে চা পাবেন ১০ কালার। কালার বিন্যাস তৈরি হয় স্তরের জন্যই।

রমেশ রাম গৌড়  ঢাকা নিউজকে জানান, আমি ২০০০ সালে ময়নমসিংহের মুক্তা গাছা থেকে শ্রীমঙ্গলে চলে আসি। নিজ শহর শেয়ারের পার্টনার ব্যবসাতে লোকসান দেখিয়ে আমাকে বাদ দিয়ে দেয়। শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে চাকরী নেই কিন্ত অল্প বেতনে পরিবারের ব্যয় চালু সম্ভব না হলে চাকরী ছেড়ে ২০০১ সালে জানুয়ারীর দিকে বিটিআরআই কাকিয়িা চড়া বাজারে ছোট চায়ের দোকান দেই। ২০০১ সালের শেষের দিকে দোকানে বসে আবিষ্কার করি ২ কালার চা।দেশে তাক লাগিয়ে দেন তিনি প্রথম কালার চায়ের আবিষ্কার।

সেখান থেকে কালার চা আবিষ্কার করে তাকে আর পিছনে তাকাতে হল না।একে একে আবিষ্কার করতে থাকেন কালার  চা।আজ তিনি সফল কালার চায়ের আবিষ্কারক।

তিনি আরও জানান,আমার এই চা নিয়ে বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণা করা হয়েছে কোন ক্ষতিকারক ক্যামিক্যাল ব্যবহার করি না বলে আমাকে ছাড়পত্র দিয়েছেন।

বর্তমানে, নীলকণ্ঠ টি কেবিনের স্বত্বাধিকারী, রমেশ রাম গৌড়ের বর্তমানে দুটি দোকান রয়েছে।একটি শ্রীমঙ্গলের রামনগর মনিপুরী পাড়ায় অবস্থিত (যা নীলকণ্ঠ-১ নামে পরিচিত),এটি সর্ব প্রথম। পুরাতন শাখা অন্যটা ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়ন সেন্টার, কালীঘাট, শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত.এটা সাধারণত নীলকণ্ঠ-২নামে পরিচিত। নীলকণ্ঠের কেবিন প্রতিনিদন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

রমেশের কালার চায়ের টানে সেখানে যায় শুধু তা নয় রমেশের চায়ের দোকানে ১০ লেয়ার ছাড়াও আরও ১৮ রকমের চা পাওয়া যায়।

ঢাকানিউজ২৪.কম / মো.জহিরুল ইসলাম/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image