• ঢাকা
  • বুধবার, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৭ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

সূর্যমুখীতে হাসি কৃষকের মুখে


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ১১ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৪১ পিএম
সূর্যমুখী, হাসি, কৃষক
ঠাকুর গাঁওয়ে সূর্যমুখীর জমিতে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকের।

গৌতম চন্দ্র বর্মন (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি    

ঠাকুর গাঁওয়ের কৃষকের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের মাঝে হলুদের সমাহার। সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়েফুলের হলুদ রঙে ঝলমল করছে চারপাশ। সূর্যের দিকে মুখ করে আছে ফুল। সকালে পূর্ব দিকে তাকিয়ে হাসলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আবর্তনে ফুলের দিক হয় পরিবর্তন। এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে কার না মন জুড়ে যায়।

আবার এই ফুল যদি হয় বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ তা হলেতো কথা নেই। কারণ বহুমুখী পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ উৎকৃষ্ট তৈলজাতীয় এ ফসল মানে-গুণে অনন্য। পৃথিবীতে এর চাহিদাও ব্যাপক। বিশ্বে এ ফুলের স্থান চতুর্থ। বিশ্ববাজারে সয়াবিনের পর সূর্যমুখী স্থান দখল করে নিয়েছে। রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে সূর্যমুখীর আবাদ হয় বেশি। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাব সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয় ষাটের দশকে। তারপর থেকে থেমে নেই কৃষকেরা।

তারই প্রেক্ষিতে বাণিজ্যিক বিষয়টি মাথায় রেখে বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাজির মোড় (বিজিবি ক্যাম্পের পাশে), শিবগঞ্জ, রুহিয়া থানার ঢোলারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এনিয়ে কৃষি কর্মকর্তা বাম্পার ফলনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

রুহিয়া থানার ঢোলারহাট মুখাবন্দি গ্রামের কৃষক ছবি লাল (৫০) এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। গতবছরও একই জমিতে সূর্যমুখী চাষ শুরু করেছিলেন। জমিটি প্রকৃতি প্রেমীদের উপভোগের বিষয় হয়ে উঠেছে। দলে দলে তারা এখানে আসছেন এবং ছবি তুলে পোস্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর পাঁচ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে কম। এ পর্যন্ত প্রায় এক দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১২ মেট্রিক টন। তবে প্রতি হেক্টরে দুই দশমিক ৫০ মেট্রিক টনের মতো উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা কৃষি বিভাগের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শতভাগ জমিতেই ভালো বীজ পাওয়ার আশা করছে বিভাগটি।

 

ছবি লাল বলেন, জেনেছি সূর্যমুখীর বীজ পশুখাদ্য হিসেবে হাঁস, মুরগিকে খাওয়ানো হয়। এই বীজ যন্ত্রে মাড়াই করে তেল বের করা হয়।

তিনি আরও বলেন যে ঘিয়ের বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখীর তেল ব্যবহৃত হয় যা বনস্পতি তেল নামে পরিচিত। এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে। এছাড়াও এতে ভিটামিন এ, ডি ও ই রয়েছে। ভিটামিন ‘ই এর ক্যান্সাররোধী গুণাবলীর কথাও জানা গেছে। এ কারণে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হই।

ছবি লাল আরও বলেন যে আপাতত এক বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। পরবর্তীতে আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় তেল জাতীয় ফসলের প্রযুক্তি বিস্তার ও দানা জাতীয় ফসলের প্রযুক্তি বিস্তার প্রদর্শনীর আওতায় সূর্যমুখীর চাষ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার চাষীদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কাটাই-মাড়াই শুরু হবে এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে সূর্যমূখীর বাম্পার ফলন হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

 

ঢাকানিউজ২৪.কম / এম আর

আরো পড়ুন

banner image
banner image