• ঢাকা
  • রবিবার, ১০ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২৩ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

আশুরা ও মহররমের তাৎপর্য


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ আগষ্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৪২ পিএম
আশুরা, তাজিয়া
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল, ফাইল ছবি

 সৈয়দ শাকিল আহাদ 

হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। কোরআন-হাদিসের আলোকে যে কয়টি মাস বিশেষ তাৎপর্যের এর অন্যতম এই মহররম। বিশেষ করে মহররমের ১০ তারিখ যা ‘আশুরা’ হিসেবে পরিচিত, এদিন আল্লাহর রহমত ও বরকতের ধারা চালু হয়। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজাই ছিল মুসলমানদের ওপর ফরজ।

পরবর্তী সময়ে এই দিনের রোজাকে নফল করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, এদিন রোজা রাখলে আল্লাহর অনুগ্রহে পেছনের যাবতীয় পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। অনেকেরই ধারণা রাসুলের দৌহিত্র হোসাইন (রা.) শহীদ হওয়ার কারণেই এদিনের মর্যাদা। অথচ এটা সঠিক নয়। রাসুল (সা.) অনেক আগেই এদিনের তাৎপর্যের কথা বলেছেন, কোরআনেও এর কথা উল্লেখ হয়েছে। আর হোসাইন (রা.)-এর শহীদ হওয়ার ঘটনা রাসুলের ইন্তেকালের প্রায় ৬০ বছর পরে। তবে কারবালার ঘটনা এদিনের তাৎপর্যকে আরও বাড়িয়েছে।

আশুরার দিনটিকে অন্যদিনের ওপর কেন প্রাধান্য দিয়েছেন এর আসল কারণ আল্লাহই ভালো জানেন। এটা নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটির প্রয়োজনও নেই। লোকমুখে প্রসিদ্ধ, এদিনে বিভিন্ন নবীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ঘটেছে। কেয়ামতও এদিনে হবে। কিন্তু এসবের পক্ষে শক্তিশালী কোনো প্রমাণ নেই। শুধু ফেরআউনের কবল থেকে মুসা (আ.)-এর সম্প্রদায়ের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি এদিনে হয়েছে বলে শক্তিশালী বর্ণনা পাওয়া যায়। মূলত, আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছে করলে যেকোনো দিনকে অন্য দিনের ওপর মর্যাদা ও প্রাধান্য দিতে পারেন। আমাদের উচিত সেদিনের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য বুঝে এর ওপর আমল করা।

যেহেতু আল্লাহ এ দিনটিকে তার রহমত ও বরকতের জন্য নাজিল করেছেন এ জন্য এদিনের পবিত্রতা হলো, দিনটি এমনভাবে কাটাবে যেভাবে কাটানোর কথা রাসুলের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সুন্নত হিসেবে এদিনে শুধু রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, এদিন রোজা রাখলে সারা বছরের গোনাহের প্রতিদান হয়ে যায়। তবে রাসুলের নির্দেশ হলো ইহুদিদের সামঞ্জস্য থেকে বাঁচার জন্য ১০ মহররমের সঙ্গে আগে-পরে মিলিয়ে আরও একদিনের রোজা রাখা। তবে কেউ শুধু আশুরার রোজা রাখলে গোনাহগার হবে না।

আশুরার দিন রোজা ছাড়া অন্য কোনো আমলের কথা জোরালোভাবে প্রমাণিত না। যেমন অনেকেই মনে করেন আশুরার দিন শিন্নি পাকিয়ে বিতরণ করতে হবে। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। তবে একটি দুর্বল হাদিসের সূত্রে উল্লেখ আছে, যিনি এদিন পরিবার-পরিজন ও অধীনস্তদের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করবেন আল্লাহ তার উপার্জনে বরকত দেবেন। হাদিসটি সূত্রের দিক থেকে ততটা শক্তিশালী না হলেও এটি আমলে কোনো বাধা নেই। বরং এটা করলে আল্লাহর রহমত লাভের আশা করা যায়। বরং দিনটি আল্লাহর ইবাদত, তাকে স্মরণ এবং রোজা রেখে কাটাবে।

পবিত্র আশুরার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে এসে একটি ট্রাজেডি যুক্ত হয়েছে, যা ঐতিহাসিক কারবালা ট্রাজেডি হিসেবে প্রসিদ্ধ। এদিন কারবালা প্রান্তরে রাসুলের দৌহিত্র হযরত হোসাইন (রা.) সপরিবারে শহীদ হন এজিদ বাহিনীর হাতে। মূলত অসৎ চরিত্রের এজিদকে মেনে না নেওয়ার কারণেই সেদিন হোসাইন (রা.)কে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এজিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সেদিন হোসাইন (রা.) তার আদর্শে অবিচল থেকেছেন। নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েও আপস করেননি। তিনি চেয়েছিলেন সত্য, ন্যায় ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে। এজন্যই তিনি জগদ্বাসীর জন্য আদর্শের প্রতীক হয়ে আছেন।

এই কারবালার ঘটনায় আমাদের জন্য রয়েছে মহান শিক্ষা। জীবনচলার অনন্য পাথেয়। ফোরাতের কূলঘেঁষে বিস্তৃত কারবালা আজও নীরব ভাষায় মুসলিম উম্মাহকে আহ্বান করছে। সেই আহ্বান হলো অসৎ চরিত্রের রক্তচোখে আতঙ্কিত না হওয়ার। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার। শান্তি ও নিরাপত্তার অন্তরায় মানবতাবিরোধী অভিশপ্তদের সঙ্গে আমরণ সংগ্রাম করার। কবির ভাষায় আশুরার শিক্ষা হলো, ‘ত্যাগ চাই, মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহি না।’ আল্লাহর যে মহাসত্যকে জগতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য হোসাইন (রা.)সহ অসংখ্য মহামানব আত্মত্যাগ করেছিলেন, সেই ইসলামকে যাবতীয় কুসংস্কার, পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করার সংকল্প করতে হবে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে হবে। ঘটনাবহুল আশুরা থেকে নিজের জীবনচলার কিছু পাথেয় জোগাড় করতে পারলেই এর তাৎপর্য ও শিক্ষার মূল্যায়ন করা হবে।

মহররমের ১০ তারিখ তথা আশুরায় ইসলামি শরিয়তের মানদণ্ডে তাৎপর্য, ফজিলত যেমন আছে তেমনি কিছু করণীয় ও বর্জনীয় কাজও রয়েছে। যা সমাজে প্রচলিত। আশুরার এসব তাৎপর্য, ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো কী?

মহান আল্লাহ তাআলার কাছে বছরের বেশ কিছু দিন মাস ও মুহূর্ত বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন। এসবের মধ্যে হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ ইয়াওমে আশুরাও একটি। এই আশুরা শব্দটি আরবি। এটি অর্থ দশম। শব্দটি হিজরি বর্ষের ১০ তারিখকে বুঝায়। হিজরি বছরের হিসেব মতে বৃহসপতি সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে আশুরার শুভক্ষণ। যা শুক্রবার সন্ধ্যা তথা সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

আশুরার তাৎপর্যপূর্ণ :-  ফজিলতফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর মধ্যে অনন্য আশুরা। আশুরার অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ফজিলত আছে। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-১. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনাতে এলেন তখন ইয়াহুদিগণ আশুরার দিন রোজা রাখতেন। তারা জানাল, এ দিন মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের উপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার দিক থেকে তাদের চেয়ে তোমরাই অধিক হাকদার। কাজেই তোমরা (আশুরার দিন) রোজা রাখ।’ (বুখারি)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আশুরার দিন সম্পর্কে আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, এই দিন জাহেলি যুগের লোকেরা রোজা রাখত…।’ (মুসলিম)

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, জাহেলি যুগে মক্কার কুরাইশ বংশের লোকেরা আশুরার রোজা রাখত এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আশুরার রোজা রাখতেন।’ (মুসলিম)

আফসোসের বিষয়!অনেক মানুষই জানে না যে, আশুরার করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো কী? এ দিনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু

ঢাকানিউজ২৪.কম / এসডি

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image