• ঢাকা
  • সোমবার, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৬ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বান্দরবানে আপেল কুলের বাম্পার ফলন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০১:২১ পিএম
ম্রোলং পাড়া, নোয়া পাড়া, বসন্তপাড়ার আশপা
বান্দরবানে আপেল কুল

নিউজ ডস্ক   বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে কীটনাশকমুক্ত আপেল কুল চাষ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে চাষ করায় আপেল কুলের দাম ভালো পাচ্ছেন চাষীরা। পাহাড়ে এই ফলের ফলনও বেশ ভালো। সেইসাথে এই কুল মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।

মাঘ-ফাল্গুনের এই সময়টাতে বান্দরবানের চিম্বুক সড়কের পাশে থাকা ম্রোলং পাড়া, নোয়া পাড়া, বসন্তপাড়ার আশপাশের পাহাড়ি বাগানগুলোতে আপেল কুল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কীটনাশক ব্যবহার হয় না বলে চিম্বুক পাহাড়ের আপেল কুলের দাম একটু বেশি। সমতলের চেয়ে পাহাড়ি কুল মিষ্টি বেশি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।

পরিপূর্ণ একটি গাছে এক থেকে দুই মণ আপেল কুল পাওয়া যায়। বাগান থেকে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। আর খুচরা পর্যায়ে আপেল কুল বিক্রি করা হয় ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, প্রতিবছর আপেল কুল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন তারা। তারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে পাইকাররা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনে খুচরা বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে বিক্রি হয় আপেল কুল।

কৃষি বিভাগ জানায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে ১২ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন কুল আবাদ হয়েছে। আর ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১ হাজার ৪৭৭ হেক্টর জমিতে ১১ হাজার ৭২৭ মেট্রিক টন কুল আবাদ হয়েছে।  

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান জেলায় আপেল কুলে ভালো ফলন হওয়ায় চাষিরা আপেল কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।   

পাহাড়ি এলাকায় আপেল কুলের ফলন ভালো হয়। বর্ষাকালে চারা বোনার পর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে গাছে কুল আসতে শুরু করে। এক থেকে দুই মাসের মধ্যে কুল বিক্রি করা যায়। এরপরে কাণ্ডের উপরে কিছু অংশ রেখে গাছের ওপরের বেশ কিছু অংশ কেটে ফেলতে হয়।  এ থেকে আবার নতুন করে ডাল-পালা গজায় এবং ফল আসতে শুরু করে।  

মৌসুমি ফল উৎপাদনে পার্বত্য চট্টগ্রামের খ্যাতি রয়েছে দীর্ঘকাল ধরেই। গত কয়েক দশকে আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস ও অন্যান্য ফলনের পাশাপাশি কুল চাষ করছেন পাহাড়ি জেলার চাষীরা। ন্যায্যমূল্য পাওয়া, অনুকূল আবহাওয়া ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ এবং রোগবালাই কম হওয়ায় পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে কুল চাষ দিন দিন বাড়ছে। অনেকে মৌসুমি চাষাবাদের পরিবর্তে স্থায়ীভাবে নিজের জমিতে কুল চাষ করছেন। পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুল চাষ হচ্ছে বান্দরবানে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাউ কুল, আপেল কুল, নারকেল কুল, বল সুন্দরী এবং কাশ্মীরী কুল আবাদ হচ্ছে। তবে খেতে টক হওয়ায় দেশী জাতের কুলের চাহিদা কম। এক্ষেত্রে মিষ্টি জাতের কুলের চাহিদা রয়েছে। আকার ও মান অনুযায়ী স্থানীয় বাজারে এক কেজি কুল ৫০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার কৃষক সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা জানান, আমি পাঁচ বছর আগে তিন একর জমিতে আপেল কুল, বল সুন্দরী ও স্থানীয় দেশী জাতের কুল চাষ করি। গত কয়েক বছরে ফলের ভালো দাম পেয়েছি। তাই নতুন করে চাষের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এ বছর এক লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছি। বাগানে অবশিষ্ট যে কুল আছে, তা থেকে আরো লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের বোধিপুর গ্রামে নিজ জমিতে কুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন হেমো কুমার চাকমা।

তিনি বলেন, এ বছর আমি ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করে দেড় লাখ টাকার কুল বিক্রি করতে পারব। গত বছরও আমি এক লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছি। একই ইউনিয়নের বৃদ্ধা গুরিমিলা চাকমা জানান, আমি ১০ বিঘা জমিতে দুটি বাগান করেছি। এরই মধ্যে ৫০-১০০ টাকা দরে খুচরা কুল বিক্রয় করেছি। আমি আশাবাদী এ বছর ৩০ হাজার টাকার কুল বিক্রি করতে পারব।

রাঙ্গামাটি জেলা শহরের বনরূপা বাজারের ফল ব্যবসায়ী সোনামনি চাকমা জানান, ক্রেতাদের কুলের প্রতি ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা মূলত চাষীদের বাগান থেকে কুল সংগ্রহ করি এবং শহরে এনে বিক্রি করি। অনেকেই অনলাইন ব্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুল পাঠাচ্ছেন।

অনলাইনের মাধ্যমে পাহাড়ের মৌসুমি ফল বিক্রি করে থাকেন অনন্ত চাকমা। অনন্ত জানান, আমি অনলাইনের মাধ্যমে মৌসুমি ফল বিক্রি করি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের চাহিদা অনুপাতে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিই। এখন মূলত পাহাড়ে উৎপাদিত আনারসের পাশাপাশি কুলের চাহিদা রয়েছে। কুলের মধ্যে মিষ্টি জাতের বল সুন্দরী কুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, যা আমরা খুচরা দামে ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি করছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাঙ্গামাটিতে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ টন। পাহাড়ের কৃষকরা কুলের ভালো দাম পাওয়ায় চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। দিন দিন চাষীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা মূলত কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পরামর্শ দিয়ে থাকি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, পাহাড়ে আগে থেকেই কুল আবাদ হচ্ছে। তিন জেলার মধ্যে বেশি আবাদ হয় বান্দরবানে। উৎপাদিত এসব কুল দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই যাচ্ছে। এখন তো ডিজিটাল যুগ। অনেকে অনলাইনের মাধ্যমে মৌসুমি ফলের ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে কুলও বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

কৃষি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image