• ঢাকা
  • শনিবার, ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি বাস্তবায়নে বিলসএর সংবাদ সম্মেলন


ঢাকানিউজ২৪ ; প্রকাশিত: রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:০৯ পিএম
লিখিত চুক্তি নেই ৯৯ শতাংশের বেশী গৃহশ্রমিকের
বিলস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক:   ঢাকা শহরে কর্মরত গৃহশ্রমিকদের উপর ২০২১ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, গৃহশ্রমিকদের গড় মজুরি প্রতি মাসে ৪৫০০ টাকার কিছু বেশী এবং এদের ৯০ শতাংশই ৭০০০ টাকার কম মজুরি পেয়ে থাকেন। তবে যেসব গৃহশ্রমিকের কারিগরী প্রশিক্ষণ রয়েছে তাদের গড় আয় অপ্রশিক্ষিতদের তুলনায় ভাল। নিয়োগকারীর সাথে কোন লিখিত চুক্তি নেই ৯৯ শতাংশের বেশী গৃহশ্রমিকের ।.

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের জন্য কোন ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেই। সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটিরও ব্যবস্থা নেই।  অন্ততঃ ২৮.২ শতাংশ গৃহশ্রমিকের মজুরি হ্রাস পেয়েছে কোভিড-১৯ অতিমারী পরিস্থিতির সময়। অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা’র সহায়তায় “সুনীতি” প্রকল্পের আওতায় ২৮৭ জন গৃহশ্রমিকের ওপর “গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি বাস্তবায়ন নিরীক্ষা এবং উওরণের উপায়”  শীর্ষক সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী অন্যান্য সংগঠনসমুহের মধ্যে রয়েছে গণসাক্ষরতা অভিযান, হ্যালোটাস্ক, নারী মৈত্রী, রেড অরেঞ্জ ও ইউসেপ বাংলাদেশ। বিলস পরিচালিত এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ছিলেন অনাবাসিক (লিভ আউট) এবং ৪০ শতাংশ ছিলেন আবাসিক (লিভ ইন) গৃহশ্রমিক।.

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ অনুমোদন দেয়। এতে নিয়োগকর্তা, কর্মচারী এবং সরকারের দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট সংজ্ঞা সহ ১৬ টি বিধান রয়েছে। তবে সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ১৪ শতাংশ গৃহশ্রমিক সরকার ঘোষিত এই নীতি সম্পর্কে জানেন এবং তাদের নিয়োগকারীরা এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, আবাসিক গৃহশ্রমিকদের মধ্যে ৩৮.৬ শতাংশের বয়সই ১৮ বছরের নীচে ।.

রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ জাতীয় প্রেসক্লাবে বিলস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিলস এর উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইন, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী গীতা রাণী অধিকারী, গবেষণা পরিচালনাকারী টিমের প্রধান জাকির হোসেন খান সহ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংগঠনসমুহের নেতৃবৃন্দ, গৃহশ্রমিক প্রতিনিধি ও মিডিয়াকর্মীবৃন্দ।.

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ৭২.২ শতাংশ গৃহশ্রমিকের মজুরি কাজের ধরণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে; কর্মঘন্টার ওপর ভিত্তি করে ৬.১ শতাংশের এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ৮.১ শতাংশের মজুরি নির্ধারিত হয়ে থাকে। আবাসিক গৃহশ্রমিকদের মধ্যে ২০ শতাংশের মজুরি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় এই সব আবাসিক গৃহশ্রমিকদের মধ্যে ১৩.৬ শতাংশ কোন মজুরি পান না, তারা শুধুমাত্র থাকা ও খাওয়ার বিনিময়ে শ্রম দিয়ে থাকেন।  সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে সকল গৃহশ্রমিক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন তাদের গড় আয় অপ্রশিক্ষিতদের তুলনায় ভাল এবং যেসব গৃহশ্রমিক বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা গৃহস্থালি সম্পর্কিত  জিনিসের উপর প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তারা ৯০০০ টাকার বেশি উপার্জন করেছেন, যেখানে গড় মজুরী ৪৬২৯ টাকা।.

গৃহশ্রমিকদের মাত্র ০.৭ শতাংশের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের সাথে লিখিত চুক্তির কথা জানা যায়। সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, বেশিরভাগ আবাসিক গৃহশ্রমিক(৫১.৩ শতাংশ) তাদের স্বজনদের দ্বারা নিয়োগ পেয়েছেন এবং বেশিরভাগ অনাবাসিক গৃহশ্রমিক (৪৩.৪ শতাংশ) অন্যান্য গৃহশ্রমিকের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। এ ছাড়াও ৬৪ শতাংশ গৃহশ্রমিকের কোন সাপ্তাহিক বা মাসিক ছুটি নেই। আবাসিক গৃহশ্রমিকদের মধ্যে ৩৮.৬ শতাংশের বয়সই ১৮ বছরের নীচে ।.

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, অন্ততঃ ৩১.৫৮ শতাংশ আবাসিক এবং ৩৬.৪২ শতাংশ অনাবাসিক গৃহশ্রমিক বলেছেন, তাদেরকে শারীরিক ও মানসিক চাপ নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জবরদস্তিমুলক শ্রম দিতে হয়েছে। আবাসিক গৃহশ্রমিকদের ৪১.২৩ শতাংশ এবং অনাবাসিকদের ২৪.৮৬ শতাংশ বলেছেন, তারা গালিগালাজের শিকার হয়েছেন। ১৮ বছরের নীচে যাদের বয়স, তাদের ৫০ শতাংশই কোন না কোন ধরণের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। .

গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ তে উল্লেখ করা হয়েছে, ”কোন ক্রমেই গৃহকর্মীর প্রতি কোনো প্রকার অশালীন আচরণ অথবা দৈহিক আঘাত অথবা মানসিক নির্যাতন করা যাবে না। তবে দেখা গেছে, গৃহশ্রমিকদের কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী তাদের অভিযোগ করার সুযোগ খুবই সীমিত। বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, আমাদের দেশে গৃহশ্রমিকদের অবদান গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট (জিডিপি) এর অন্তর্ভুক্ত নয়। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক খাতে নিযুক্ত শ্রমিকরা কল্যাণ তহবিলের পরিধিতে থাকলেও গৃহশ্রমিকদের জন্য এ জাতীয় কোনও সুনির্দিষ্ট তহবিল নেই।.

এ গবেষণায়, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ এর মধ্যে যে সমস্ত সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে তা হলো, শ্রম সম্পর্কিত আইন এবং জিডিপি প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে গৃহশ্রমিকদের কাজের স্বীকৃতি না দেওয়া, সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারিত না থাকা, গৃহশ্রমিকদের পদ্ধতিগত পরিসংখ্যানের অনুপস্থিতি, ট্রেড ইউনিয়ন বা সমিতি গঠনের বিধানের অভাব, গণমাধ্যমে প্রচার ও নিরক্ষরতার কারণে নীতি সম্পর্কে শ্রমিকদের সচেতনতার অভাব, হয়রানি, নির্যাতন, জবরদস্তিমুলক শ্রমের জন্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণের অভাব, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিতে নিবন্ধণ ও তথ্যের অভাব, মনিটরিং সেলের কার্যকারিতার অভাব এবং সামাজিক অধিকারের অভাব।.

যে সকল বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, গৃহস্থালী কাজকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি পেশা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করা, তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার প্রদান, জাতীয় জরিপে গৃহশ্রমিকদের  পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া, হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ প্রদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও  গৃহশ্রমিকদের হেল্পলাইন নম্বর ব্যবহারে সক্ষম করে তোলা, গৃহশ্রমিকদের জন্য অভিযোগ  কেন্দ্র স্থাপন, এতে মহিলা পুলিশদের দায়িত্ব প্রদান ও প্রতিটি ওয়ার্ড / ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ান স্টপ-সার্ভিস চালু করা, গৃহশ্রমিকদের বেতন কমপক্ষে গার্মেন্টস খাতের সম পরিমাণ বৃদ্ধি করা, বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব বোনাস প্রদান করা, সরকার কর্তৃক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, গর্ভকালীন সময়কালে এবং সন্তান প্রসবের পর কমপক্ষে ৬ মাসের সবেতন ছুটি প্রদান এবং সরকারী উদ্যোগে গৃহশ্রমিক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা ইত্যাদি।.

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, নীতিনির্ধারক এবং ট্রেড ইউনিয়ন একত্রে মিলে সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর জন্য সুপারিশ প্রদান করতে পারে। এই সুপারিশগুলির মধ্যে কোভিড-১৯ সংকট এবং গৃহকর্মীদের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।. .

ঢাকানিউজ২৪ /

গণমাধ্যম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image