• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্যেও সার পাচ্ছেন না ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১৩ পিএম
পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্যেও সার পাচ্ছেন না
সার পাচ্ছেন না ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: কৃষিতে  স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। ধান,গম সহ সব ধরনের সবজি উৎপাদনের জন্য বেশ পরিচিত এ জেলা। অন্যান্য জেলাগুলির তুলনায় এখানকার কৃষকরা স্বাবলম্বী হলেও বর্তমানে সার এর কৃত্রিম সংকটের কারনে বড় ধরনের সমস্যায় পরেছেন তারা। অন্যদিকে জ্বালানি তেল ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারের কৃত্রিম সংকটে বাজারে বেশি দাম দিয়েও সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে চরম হতাশ ও অনিশ্চয়তা ভুগছেন চাষীরা। অপরদিকে সংকট নয়, পর্যাপ্ত পরমাণের সার মজুদ রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, জেলার ইউরিয়া সারের চাহিদা ৮১৪৮ মে.টন, বরাদ্দ ৩৭২৪ মে.টন, উত্তোলন করা হয়েছে ৩০৫৫ মে.টন, সার মজুদ রয়েছে ৯৬৯ মে.টন। টিএসপি সারের চাহিদা ২৯৯৩ মে.টন, বরাদ্দ ৯৬৭ মে. টন, উত্তোলন ৬৬৬ মে. টন, মজুদ ৪৪৩ মে. টন। ডিএপি সারের চাহিদা ৪২৮৩ মে. টন, বরাদ্দ ১৮৪৬ মে.টন, উত্তোলন ১৭৫৪ মে.টন, মজুদ ৯৭৪ মে. টন। আর এমওপি সারের চাহিদা ৪৪৭৬ মে.টন, বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮৫৭ মে. টন, উত্তোলন করা হয়েছে ১৪৬৮ মে.টন, মজুদ রয়েছে ৫৩৯ মে. টন সার।

অতিরিক্ত টাকা দিয়েও সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করে সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে ময়নুল নামে এক কৃষক করে বলেন, ‘ডিলারদের কাছে সার কিনতে গেলে বলে সার নেই। আমরা সার ছাড়া কিভাবে কৃষি করবো। ইদ্রিস আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা পটাশ (এমওপি) সার খুচরা বাজারে কিনতে গেলে ১৮০০ টাকা, ইউরিয়া ১৪০০টাকা নিচ্ছে। তাও আবার প্রথম ধাপে সার পেলেও এখন বেশি দামেও সার পাওয়া যাচ্ছে না।

ডিলাররা বলছেন, সরকারের নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু খুচরা সার বিক্রেতা ডিলাদের কাছে সার না পেয়ে সার বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। তাই কৃষকরা সার পারছে না বলে জানান তারা। সদর উপজেলার শিবগঞ্জ বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা আলম বলেন, আমি প্রায় গত দুই মাস থেকে সার পাচ্ছি না। দোকানে কৃষকরা সারের জন্য ভিড় করছে।

আমন ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রাসায়নিক সার দিতে না পেরে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে কৃষকরাজানান, দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি কিন্তু সার পাওয়া যাচ্ছে না। সময় মতো সার দিতে না পারলে ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আব্দুল আজিজ জানান, পরিবহনের সমস্যার কারণে  সময় মতো সার আসতে না পারায় সংকট দেখা দিয়েছিলো। কিন্তু এখন সার পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ রয়েছে ।

প্রতিদিন কোন না কোন সারের ডিলারের দোকান বা ইউনিয়ন পর্যায়ে সার না পেয়ে কৃষকরা ক্ষোভ নিয়ে ফিরে আসলেও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহাবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সারের কোন সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণের সার রয়েছে। সার নিয়ে সুনিদৃষ্ট অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

কৃষি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image