• ঢাকা
  • শনিবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৬ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষকের স্বপ্ন পুরন করছে সোনালী আঁশ, রুপালি কাঠি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ আগষ্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৩৭ পিএম
চাষিদের উঠানে সোনালি আঁশসহ পাটকাঠির ছড়াছড়ি
পাটকাঠির ছবি

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ক্ষেত থেকে পাট কাটা প্রায় শেষ, এবার জাগ দিয়ে চলছে আঁশ ছাড়ানোর কাজ। গ্রামের রাস্তা, আর চাষিদের উঠানে সোনালি আঁশসহ পাটকাঠির ছড়াছড়ি।চলছে রোঁদে শুকোনোর কাজ।.

কৃষক-কৃষানীদের দিকে তাকালে বোঝা যাচ্ছে, ফলন ভালো হওয়ায় দিনভর কাজ করেও ক্লান্তি ছাপিয়ে কৃষকদের চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ। জেলার বিভিন্ন স্থানে হাসিমুখে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন পাট চাষিরা। এমনকি নারী-পুরুষ উভয়ে এক হয়ে কাজ করছেন সোনালি স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে।.

এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।.

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। বলা যায় এবার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে আরও ১৫৫ হেক্টরের বেশি জমিতে পাটের চাষ হয়েছে।.

রাণীশংকৈলের পাটচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও সোনালি আঁশ থেকে লাভ মিলত না। অনেকে পাট চাষ ছেড়ে অন্য ফসল চাষ শুরু করেন। যারা আবাদ ধরে রেখেছিলেন, তারা এখন লাভবান হয়েছেন। তাদের দেখেই আবারও পাট চাষে ফিরতে শুরু করেছেন কেউ কেউ।.

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানান, উপজেলায় পাট উৎপাদনে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবার। পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা আগামীতে আরও বেশি পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে। তিনি আরো বলেন,পাটের মান ভালো রাখার জন্য প্রবাহমান এবং পরিষ্কার পানিতে পঁচানোর জন্য কৃষকদের বলা হচ্ছে।.

উপজেলার গাজিরহাট গ্রামের চাষি রফিকুল জানান,গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় এ মৌসুমের শুরুতে অনেকেই পাটচাষ শুরু করেন। এতে আবাদও বেড়েছে, অনুকূল আবহাওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে।.

বাংলাগড় এলাকার আরেক কৃষক বলেন, ‘আমার দাদার আমল থেকে আমরা ধান পাট চাষ করি। চলতি মৌসুমে কয়েক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। দাম যাই হোক এ ছাড়া তো আমাদের উপায় নেই। তবে সব বছরের চেয়ে এবার পাটের দাম ভালো।’.

ঝুলঝাড়ী চেংমারি গ্রামের কৃষক আনেল পাল বলেন, ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১০থেকে ১২ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। সার, বীজ, নিড়ানি ও পাট কাটা, জাগ দেওয়ার জন্য কামলা, জাগ দেওয়ার পরিবহন খরচ বাবদ প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। মৌসুম শেষ পর্যন্ত দাম এভাবে থাকলে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হবে এবং পাট চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে।.

উত্তরবঙ্গের নেকমরদ বাজারের পাট ব্যবসায়ী ফয়জুল ইসলাম জানান, বাজারে প্রতি মন পাট বিক্রি হয়েছে ভালো-মন্দ প্রকার ভেদে ২ হাজার ৮শ’ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও। তবে লকডাউন আর না হলে সামনের দিনগুলোতে দেশের বড় বড় মোকামের ব্যাপারী এলাকার বাজারে আসলে পাটের দাম আরো বৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীরা।.

আরেক খুচরা পাট ব্যবসায়ী জানান, কৃষক বেশি দামের আশায় সময় গুনছে। তাই পাট বাড়ি থেকে বের করছে না। এভাবে পাট বাড়ি রেখে দিলে দাম যে বাড়বে না, তা চাষিরা বুঝছেন না।. .

ঢাকানিউজ২৪.কম / গৌতম চন্দ্র বর্মন

কৃষি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image