• ঢাকা
  • রবিবার, ১০ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২৩ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কুমিল্লার ২ বিএনপি নেতা হিরু-পারভেজ গুমের ৮ বছর


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৪২ পিএম
আজ কুমিল্লার ২ বিএনপি নেতা  হিরু-পারভেজ গুমের ৮ বছর
হিরু- পারভেজ নিখোঁজের কলংকময় দিন

মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা:  শনিবার এ দিন আসলে নীরবে- নিস্তব্দে কেটে যাচ্ছে কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চল বিএনপি’র প্রান পুরুষ এ অঞ্চলের গণ মানুষের নেতা লাকসামের দুই শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ন কবির পারভেজ নিখোঁজের ৮ বছর গুম দিবস।

শুধুমাত্র দু পরিবার ঘরোয়া ভাবে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন ছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নেয়নি কোন কর্মসূচি। অথচ বলতে বলতে দীর্ঘ ৮ বছর পার হলেও মনে হয় এইতো সেদিনের ঘটনা। ২০১৩ সালের এ দিনে যৌথ বাহিনীর ভয়াবহ নাটকীয় অভিযানের যন্ত্রনাময় সেই আর্তনাদের ভয়াল ৮টি বছর পার করছেন স্বজনরা। জেলার মানচিত্রে ওইদিন এ অঞ্চলের গণ মানুষের নেতা হিরু- পারভেজ নিখোঁজের কলংকময় দিন।

অপহৃত স্বজনদের একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের এ দিনে দু’পরিবার দাবী করছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ওই শীর্ষ নেতাদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ ৮ বছরেও তাদের কোন হদিস পাচ্ছে না। হিরু-পারভেজ গুমের সাথে স্বজনদের অনেকে তুলনা করেছেন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের সাথে। সে সময় যেমনি পাক-হানাদার বহিনী লোকজনকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গেলে তারা আর ঘরে ফেরত আসেনি। তেমনি কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে অপহৃত দুই নেতার পরিবার-পরিজনের।

সুত্রগুলো আরও জানায়, দীর্ঘ ৮ বছর জুড়ে চোখের জ্বলে দিন কাটছেন অপহৃত দু’শীর্ষ নেতার পরিবার-পরিজন ও
ভক্তদের। তাদের সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা প্রশাসনের ধারে ধারে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। দুই নেতা নিখোঁজে স্তব্দ হয়ে
পড়েছে বিগত ৮টি বছর এ অঞ্চলের অলি-গলি। থানায় ডায়েরী, কুমিল্লার কোর্টে মামলা তবুও থামছে না স্বজন-ভক্তদের
কান্না।

অপহৃত পারভেজের ছোট ভাই গোলাম ফারুক লাকসাম থানায় ডায়েরী ও কুমিল্লা কোর্টে মামলা দায়ের করলে তার তদন্ত ভার লাকসাম থানা পুলিশের উপর ন্যাস্ত হয়। পরবর্তীতে ওই মামলাগুলো পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে চলে যায়। মামলা ও ডায়েরী তদন্তে ৮ বছর পার হলেও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকা এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের সনাক্ত করতে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার লোকজনের ব্যর্থতাকে দায়ী করে তাদের রহস্যজনক নীরব ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন
স্বজনরা।

অপহৃতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, বিএনপি নেতা হিরু-পারভেজ নিঁখোজের ঘটনায় স্থানীয় থানায় পরিবারবর্গের দায়ের করা সাধারন ডায়েরী ও বিজ্ঞ আদালতে মামলা তদন্তে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কোন অগ্রগতি হয়নি। ওদের সন্ধানে কোন তথ্যই বের করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যরা। এমনকি স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের এ ব্যাপারে তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে সকল সংস্থার অনীহা ফলে সাধারন ডায়েরী ও মামলা অগ্রগতি এবং ভবিষ্যত নিয়ে উঠেছে এলাকার জনমনে হাজারো বির্তক।

স্থানীয় বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর এ দিনে র‌্যাব-১১ পরিচয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন সাদা পোষাকে লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি ও দৌলতগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরু ও পৌর বিএনপির সভাপতি- ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির পারভেজকে কুমিল্লা যাওয়ার পথে আলীশ্বর নামক স্থান থেকে এবং অপর বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীকে নিখোঁজ হিরুর মালিকানাধীন লাকসাম ফ্লাওয়ার মিল
থেকে নগদ টাকা ও বেশক’টি দামী মোবাইল সেটসহ আটক করে।

ঘটনার দিন সন্ধ্যা পৌনে ৮টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ করে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ওই যৌথবাহিনীর অভিযান চলে। ওইদিন গভীর রাতে অভিযানকারী যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আটক ১০ জনকে লাকসাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও অপর দুই শীর্ষ নেতা হিরু-পারভেজের ভাগ্যে কি ঘটেছে দীর্ঘ ৮ বছরেও সন্ধান দিতে পারেনি কোন সংস্থা।

সূত্রটি আরও জানায়,থানা পুলিশ মূল হোতাদের বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিলে, ওই নাটকীয় প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে মামলার বাদী গোলাম ফারুক অনাস্থা আবেদন জমা এবং একই সাথে মামলাটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি’র একাধিক শীর্ষ নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করে না পেয়ে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image