• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৩ ফেরুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কাশ্মীরে সুফিবাদের ওপর আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৩৯ এএম
সম্মেলনে জার্মানি, তুরস্ক, ফ্রান্স, তুরস্ক, তানজানিয়া
সুফিবাদের ওপর আন্তর্জাতিক সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক:  শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এবং সহনশীলতার সুফিবাদের ওপর গুরুত্বারোপ করে জম্মু ও কাশ্মীরের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে আন্তর্জাতিক সুফি সম্মেলনের আয়োজন করেছে ভয়েস ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস। অনুষ্ঠানে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ উপস্থিত হন।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভারতীয় সুফিরা এই আধ্যাত্মিক বার্তার মাধ্যমে কাশ্মীরি এবং ভারতীয় সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সংযুক্ত করার চেষ্টা করে আসছেন বলে জানা যায়।

সম্মেলনে জার্মানি, তুরস্ক, ফ্রান্স, তুরস্ক, তানজানিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল সহ নয়টিরও বেশি দেশের সুফি থেকে শুরু করে একাডেমিয়া, ধর্মতত্ত্ববিদ, নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক ইস্যু বিশেষজ্ঞ এবং ইসলামিক পণ্ডিতসহ এবং সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের হিন্দু, শিখ ও অন্যান্য ধর্মের পণ্ডিতরাও সম্মেলনে যোগ দেন।

এবারের সম্মেলনে কাশ্মীরে সুফিবাদের ওপর বেশি করে জোর দেওয়া হয়েছে। কাশ্মীরে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ হত কয়েক দশক ধরে সংঘাত ও সহিংসতার কেন্দ্রস্থল ছিল কাশ্মীর। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সহাবস্থান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং যে ভ্রাতৃত্বের জন্য কাশ্মীরের যে সুপরিচিত ছিল তা সেই ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার জন্য পিছু লেগে আছে চরমপন্থীরা।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে ভয়েস ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেহেরিয়ার দার বলেন, কাশ্মীরে এই ধরনের সম্মেলন পরিচালনা করা আমাদের জন্য আনন্দের।

বাংলাদেশের সুফি নেতা সৈয়দ তৈয়বুল বাশার বলেন, এটি ছিল আমার প্রথম কাশ্মীর সফর, এখানকার মানুষদের অতিথি-পরায়ণে আমি মুগ্ধ। মানবতাকে বাঁচান এবং সেবা করুন। শান্তির জন্য সুফিবাদকে প্রচার করার চেয়ে ভাল উপায় আর কী, যা মানুষের মধ্যে শান্তি সহনশীলতা এবং ঐক্য এবং এই বার্তাটি ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত। মুসলিম হিসাবে আমরা যেকোন ধরনের উগ্রবাদ ও চরমপন্থীর তীব্র বিরোধিতা করি, এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায়ও সুফিবাদকে প্রচার করতে হবে। সুফিবাদের বাণী শান্তি, নিরাপত্তা, প্রেম, সহনশীলতা ও সেবার অন্যতম। সুফিবাদের মাধ্যমে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে পরবর্তী প্রজন্ম এবং সমগ্র মানবতাকে রক্ষা করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থা প্রচারে বিশেষ অবদান রাখায় সৈয়দ তৈয়বুল বাশারকে সুফিবাদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সম্মানিত এবং পুরস্কৃত করা হয়।

মালদ্বীপ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলরের বলেন, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার সাথে আধুনিক বিশ্বে মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা গুরুত্বপূর্ণ এবং সকল মানুষের সম্প্রীতিতে বসবাস করা উচিত। এ জন্য সুফিবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কারওয়ানি-ইসলামী ইন্টারন্যাশনালের প্রধান, মাওলানা গুলাম রসুল হামি বলেন, ঋষি, সুফি এবং বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ ধর্মের সাধক সহ সমস্ত ধর্মের মানুষের আবাসস্থল হচ্ছে ভারত। এজন্য ভারতের জনগণকে ধৈর্য, সংযম এবং নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ভালবাসার অনুশীলনের পাশাপাশি পারস্পরিক বোঝাপড়া বিকাশের অনুরোধ করেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ফ্রান্স থেকে আবদুল শাকির বার্মপোহল, জার্মানির ইব্রাহিম শুল্টজে, বাংলাদেশের সৈয়দ তৈয়বুল বাশার, শ্রীলঙ্কার আবদুল আজিজ মোহাম্মদ নাজারদিন, মুফতি মোহাম্মদ উসমান গ্র্যান্ড মুফতি নেপেল, মালদ্বীপের সাউদুল্লাহ আলী, তানজানিয়ার শেখ আল-হাদ মুসা সেলিম গ্র্যান্ড মুফতি, আহমেদ সিলাইন প্রমুখ।

এছাড়াও সুইজারল্যান্ড, দিল্লি থেকে গোলাম রসুল, ডাঃ তৌসিফ আহমদ, সাইদ হাসান মানতাকি রিসার্চ একাডেমীর পরিচালক, অধ্যাপক মঞ্জুর আহমদ তানতারি, অধ্যাপক ফায়াজ আহমদ নিকা, শিয়া নেতা সৈয়দ নাজির হুসাইন, লাদাখের ইউটি থেকে মোহাম্মদ সাদিক, বিহার থেকে মোহাম্মদ জাবরিল, শিয়া আলহাজ ইসলামের নেতা।

আরও ছিলেন, সৈয়দ আবিদ হুসেন, অধ্যাপক শহীদ রসুল, অধ্যাপক বশির আহমেদ, সতিন্দর সিং সেক্রেটারি গুরুদ্বারা পারবান্ধক কমিটি, সতীশ মহলদার সভাপতি জেএন্ডকে পিস ফোরাম, ইউপি থেকে অধ্যাপক মোহাম্মদ আফজাল, আজমির শরিফ রাজস্থান থেকে সৈয়দ কামেরিউদ্দীন, দিল্লি থেকে রউফ-উল-রসুল নকশিবন্দি, নাজিমুদ্দিন নাজিদ।

কাউসি, ভয়েস ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের সাধারণ সম্পাদক, জিশান ফারুক দার, উত্তান মিশন ট্রাস্টের সভাপতি, সামিয়াজ সোফি, ঝু লাম নবী দার, শেখ জাভিদ নকিশবন্দী পার্টন অল ইন্ডিয়া তানজিম-উল-আমা-ই-ইসলাম দিল্লি এবং অধ্যাপক মুশতাক আহমেদ দার অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারত ও বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং ঐক্যের প্রার্থনার মাধ্যমে এই সম্মেলন শেষ হয়।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image