• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

'প্যান্ডোরা পেপারস' নামে অর্থ কেলেংকারী ফাস


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক
pandora papers

নিউজ ডেস্ক:  কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক লেনদেনের গোপনীয়তার ওপর 'প্যান্ডোরা পেপারস' নামে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)।

স্থানীয় সময় রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার স্ত্রী চেরি ব্লেয়ার থেকে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর দুর্নীতির চিত্র। এ ছাড়া আজারবাইজান ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট, বর্তমান এবং সাবেক ৩৫ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

রোববার আইসিআইজে এক টুইটবার্তায় জানায়, বিভিন্ন মাধ্যমে গোপনে সংগ্রহ করা এক কোটি ১৯ লাখ নথি পর্যালোচনা করে প্যান্ডোরা পেপারস তৈরি করা হয়েেেছ। ১১৭টি দেশের ছয় শতাধিক সাংবাদিক এ বিশাল কর্মযজ্ঞে যুক্ত রয়েছেন। বিশ্বের প্রায় সব দেশ ও অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির চিত্র উঠে এসেছে তাদের প্রতিবেদনে।

প্যান্ডোরা পেপারস কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও যাদের নাম জড়িয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী  গেনাডি তিমচেঙ্কোর স্লেটলানা ক্রিভোনোগিখের নামও রয়েছে।
আরব বিশ্বের দীর্ঘকাল ক্ষমতাসীন রাজা জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ নিজে দানশীল হিসেবে পরিচিত। সেই তিনিই নিজ দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন, লন্ডনসহ বড় বড় শহরে বিলাসবহুল ভবন কিনেছেন বলে প্যান্ডোরা পেপারসে উঠে এসেছে।

এদিকে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী শওকত তারিনসহ দেশটির প্রায় ৭০০ ব্যক্তির নাম এসেছে প্যান্ডোরা পেপারসে। তাদের বেশিরভাগই অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে প্রচুর সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

পাচারের অর্থে করমুক্ত কোম্পানি (ট্যাপ হ্যাভেন) পরিচালনার জন্য বিশ্বে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত দেশ পানামা, সুইজারল্যান্ড ও বেশ কিছু দ্বীপ-দেশ।

আইসিআইজে রোববার টুইটবার্তায় ইঙ্গিত দিয়েছে, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতার জন্য এবারও বড় বড় মুখ বিপাকে পড়েছেন। এবার অন্যতম বড় মুখ চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আনদ্রেজ বাসিস। ১৩ মিলিয়ন ডলার পাচার করে ফ্রান্সে বিলাসবহুল বাড়ি কেনার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

করমুক্ত কোম্পানি পরিচালনার সুযোগ থাকায় বিশ্বজুড়ে বিশেষ পরিচিতি রয়েছে পানামার। দেশটি এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্যাপ হ্যাভেন লিস্টে রয়েছে। ফলে প্যান্ডোরা পেপারসেও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে দেশটির সরকারের। এরই মধ্যে আইসিআইজের কাছে তারা চিঠি লিখেছে। চিঠিতে তারা অনুরোধ করেছে, পানামা সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের ভুল ধারণা তৈরি হয়, এমন কোনো কাজ যেন না করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সংস্থাটি।

বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়ে গড়ে ওঠে অফশোর শেল কোম্পানি। নিজ দেশকে ফাঁকি দিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, রাজপরিবারের সদস্য, বিনোদন ও ক্রীড়াজগতের তারকারা এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন। পানামার মতো দেশে গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়। আইসিআইজের বিশদ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সেই চিত্র।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image