• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

শ্রীমঙ্গলে কালভার্ট ভেঙ্গে বিকল্প ব্রীজ, হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৩৩ পিএম
হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি
কালভার্ট ভেঙ্গে বিকল্প ব্রীজ

মোঃ জহিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে একটি  কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ভোগান্তি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়ন ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের সংযোগস্থলের কালভার্ট ভেঙ্গে দীর্ঘ  ২৪ দিন ধরে শ্রীমঙ্গল শহরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে ৬টি গ্রামের লোকের ।

এলাকাবাসী চলাচলের ভোগান্তির কথা শোনে খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আলাী রাজিব মাহমুদ মিঠুন কালীঘাট ও  আশিদ্রোন ইউনিয়নের ভাঙ্গা কালর্ভাট টি পরিদর্শনে যান।  

কালভার্টটি ভেঙ্গে পড়লে সেখানে বিকল্প রাস্তা না করার কারনে ঐ এলাকার চারটি চা বাগান, দুইটি খাসিয়া পুঞ্জি ও ১টি গারো পল্লীর মানুষজন শহরের সাথে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শ্রীমঙ্গল শহরে আসার বিকল্প রাস্তা থাকলেও সেই রাস্তা দিয়ে কোন প্রকার সিএনজি চলাচল করতে পারছে না। শুধু মাত্র মোটর সাইকেল আরোহীরাই চলতে পারছেন।

 ঐ এলাকার বেশির ভাগ লোকজনই নিম্ন-আয়ের। এসব মানুষের যাতায়াত করতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়াও ওইসব এলাকার কৃষকদের বাগান থেকে লেবু, নাগা মরিচ,আনারস,খাসিয়াদের পান ও চা বাগানের প্রক্রিয়াজাত চা পাতা শহরে পৌছাতে না পেরে অনেকেই ক্ষতির মুখে পরছেন।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা শহরের স্কুল কলেজে আসতে বাড়তি ভাড়া বহন করতে হয়, পড়তে হচ্ছে নানান ভোগান্তিতে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার কালিঘাট চা বাগানের কালিঘাট-ধলই সড়কের কালিঘাট চা বাগানের ১৬ নম্বর সেকশন এলাকায় গত ১৩ আগস্ট সকালে মাটি ধসে দীর্ঘদিন থেকে নড়বড়ে থাকা কালভার্টটি ভেঙ্গে পড়ে। দীর্ঘ ২৩ দিন থেকে  কালভার্টটি এখনো ভেঙ্গে ছড়ায় পরে আছে।

রাস্তা বন্ধ হওয়ায় দুই দিক থেকে আসা বিভিন্ন যানবাহন ভাঙ্গা কালভার্টের সামনে এসে থামছে। লোকজন যানবাহন থেকে কালভার্টের নিচে ছড়া দিয়ে পিচ্ছিল পথ ধরে  এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাচ্ছেন। বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকরা দুই থেকে তিনজন মিলে অনেক কষ্ট করে ছড়ার নিচ দিয়ে তাদের সাইকেল এপার ওপার করছেন।

নন্দরানী চা বাগানের শ্রমিক ও সিএনজি চালক শাকিল মিয়া বলেন, শ্রীমঙ্গল শহর থেকে আমাদের এলাকায় আসার রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে খারাপ অবস্থায় পড়ে আছে। এর মাঝে কালভার্টটি ভেঙ্গে রাস্তা বন্ধ হওয়ায় বেশ বিপদে আছে এই এলাকার ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ। তিনি বলেন, কালভার্টি  ভাঙ্গা থাকার কারণে সঠিক সময়ে হাসপাতলে নিয়ে যেতে না পারায় এরই মাঝে সিএনজির মধ্যে  দু'জন নারী চা শ্রমিক বাচ্চা প্রসব করেছে যা খুবই দুঃখজনক।

 আনারস বাগান মালিক ছায়েদ মিয়া বলেন, আমাদের বাগান থেকে লেবু আনারস, নাগামরিচ, পান নিয়ে বাজারে যেতে কনেক কষ্ট হচ্ছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় জিপগাড়ি চলাচল করছে না। আমরা বাগান মালিকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

জঙ্গলবাড়ি চা বাগানের ব্যাবস্থাপক এসএনএম মাহবুব আলম মিছবাহ্ বলেন, গত ১৩ আগস্ট কালভার্টটি ভেঙ্গে পরার পর এই কালভার্টের নিচে থাকা গ্যাস লাইনে সমস্যা হয়। পরে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর আমাদের চা বাগানের নিজস্ব খরচে আমরা কালভার্টের ভাঙ্গা অংশ সরানোর পর গ্যাস চালু হয়।  মানুষ অনেক কষ্ট করে চলাচল করছে। এছাড়া আমরা প্রক্রিয়াজাত চা পাতা শহরে উঠাতে পারছি না। এতে দিন দিন ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না করলে চা শিল্পের পাশাপাশি লেবু আনারস বাগান মালিকরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আলাী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, আপাতত বিকল্প ব্রীজ বানিয়ে দিচ্ছি যাতে করে লোকজন,কৃষকদের ফসল নিয়ে বাজারে যেতে পারে এবং এলাকাবাসীর ভোগান্তি যাতে কমে আমরা বিকল্প  ব্যবস্থা  করে দিচ্ছি।  তবে অচিরেই স্থায়ী ব্রীজ বানিয়ে দিবো সেটি কাজ চলছে।  
   

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image