• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৭ অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

সাধারণ মানুষের জন্য ডিসি অফিসের দরজা খোলা রাখুন: হাইকোর্ট


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ২২ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:২৯ পিএম
ডিসি অফিসের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা
হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক : দুঃখজনক হলেও সত্যি, ডিসি অফিসে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারেন না। সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার সুযোগ পান না।

আপনাদের অফিসের দরজা ও জানালা মোটা পর্দায় আবৃত থাকে। যার কারণে মানুষ আপনাদের ছবি পর্যন্ত দেখতে পায় না। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে আপনারা কী ধরনের জীবনযাপনে অভ্যস্ত। চাকচিক্যময় জীবনযাপন করেন। কীভাবে ক্ষমতার প্রয়োগ করে থাকেন। সেটাও জানি।

সোমবার (২২ আগস্ট) আদালত অবমাননার মামলায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইদুলুল ইসলামকে কঠোরভাবে সতর্ক করে এসব কথা বলেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ কুষ্টিয়ার ডিসিকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনাকে সতর্ক করছি। এখন থেকে ডিসি অফিসের দরজা ও জানালা খোলা রাখবেন। যেন জনগণ আপনাদের চেহারা দেখতে পায়। আপনার দরজা-জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করবেন না।

হাইকোর্ট বলেন, ডিসি হলো সরকারের হার্ট। আপনাকে জনগণের জন্য সেভাবে কাজ করতে হবে। অথচ আপনারা একটা দরখাস্ত পর্যন্ত রিসিভ করেন না। এখন থেকে কোনো ধরনের উন্নাসিকতা দেখাবেন না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভালো কাজ করলে দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে।

এ সময় আদালত প্রশ্ন রেখে বলেন, কোথাও চুরি-ডাকাতি হচ্ছে, সরকারি সম্পত্তি দখল হয়ে যাচ্ছে–এসব অভিযোগ না পেলে কি আপনি বসে থাকবেন। বসে থাকার সুযোগ নেই।

পরে হাইকোর্ট আদালত অবমাননার ঘটনায় রুলের শুনানির জন্য আগামী ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। ওইদিন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও নিলাম করা সম্পত্তি গ্রহণকারী ব্যবসায়ীকে আদালতে হাজির থাকতে হবে।

গত ১১ আগস্ট আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরও ১৩৩ কোটি টাকার সম্পত্তি ১৫ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রি করার ঘটনায় ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসাইন, কুষ্টিয়ার ডিসি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, এসপি মো. খায়রুল আলম, সদর থানার ওসি মো. সাব্বিরুল আলম ও নিলামে সম্পত্তি নেয়া ব্যবসায়ী আব্দুল রশিদকে তলব করেন হাইকোর্ট।

২০১৭ সালে মো. শফিকুল ইসলাম কুষ্টিয়ার পোড়াদহের আইলচারা বাজারে অবস্থিত ধান, চাল, আটা ও ভুসি উৎপাদনের তিনটি প্রতিষ্ঠান বন্ধক রেখে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৩৬ কোটি টাকা, পরের বছর তা বাড়িয়ে ৪২ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। তারপর থেকে তিনি নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। তবে করোনা মহামারির কারণে প্রতিষ্ঠান তিনটি দীর্ঘসময় বন্ধ থাকায় একটা সময় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন শফিকুল ইসলাম।

এ কারণে ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শফিকুল ইসলামকে খেলাপি দেখিয়ে তার বন্ধকি সম্পত্তি নিৃলামে তুলতে গত ২৪ মার্চ দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়। পরে ১৮ এপ্রিল নিলাম আয়োজন করে ১৩৩ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি মাত্র ১৫ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আইন ও আদালত বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image