• ঢাকা
  • সোমবার, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৬ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

নদী রক্ষায় সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: ওয়াটারকিপার্স


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ ফেরুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:২৭ পিএম
নদীকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নদী রক্ষায় আইন শীর্ষক ৬ষ্ঠ নদীকথন

নিউজ ডেস্ক:  ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম এর দূষণবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রকল্পের আয়োজনে “নদী রক্ষায় আইন” শীর্ষক ৬ষ্ঠ নদীকথন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী ওয়াশপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূষণবিরোধী শক্তিশালী প্রচেষ্টা তৈরির উদ্দেশ্যে ইউএসএআইডি, এফসিডিও এবং কাউন্টারপাটর্ ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় দূষণবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই) এর অন্তর্ভূক্ত সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) কে সাথে নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম গঠন করেছে।

প্রকল্পের আওতায় নদী দূষণ রোধে পরিচালিত রিভার টকি/নদীকথনে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক এবং ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ এর নির্বাহী পরিচালক জনাব শরীফ জামিল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ডঃ সৈয়দা নাসরিন, নদীপাড়ের কম্যুনিটির প্রতিনিধি সারমিন রহমান এবং মানিক হোসেন। এছাড়াও নদীদূষণ রোধের সাথে যুক্ত স্থানীয় কমিউনিটির্ভিত্তিক সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ নদীকথন অনুষ্ঠানটি অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ www.facebook.com/waterkeepersbangladesh; Ges KvD›UvicvU© B›Uvib¨vkbvj Gi cvi cÖK‡íi Aax‡b cwiPvwjZ cvi AbjvBb cøvUdig di wmGmI Gi †dmeyK MÖæc https://www.facebook.com/groups/210635139965490 †_‡K mivmwi m¤úªPvi Kiv nq|

নদীকথনে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, একটা দেশের সম্পদ হলো নদী এবং নদীর সাথে অনেক জীবস্বত্বার সম্পর্ক রয়েছে। নদীকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারলে নদীর ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। নদীর গুনগত মান ঠিক করা উচিৎ।

বিশ্বনেতারা যখন কপ বা জলবায়ু সংক্রান্ত অন্যান্য সম্মেলনে বসবে তখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আইনী নীতিমালা তৈরি করতে হবে অন্যথায় বিশ্বের মানুষ এক বিশাল পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। আমাদের নদী রক্ষা না করতে পারলে নদীমাতৃক বাংলাদেশের মাকেই মেরে ফেলা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মাদ গোলাম সারোয়ার বলেন, যেখানে কারখানা আছে সেখানে পরিবেশ দূষণ ঘটবেই। আইনের মাধ্যমে সেটাকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। সেই নিয়ন্ত্রণ নেয়ার যতগুলো উপাদান তা আমাদের আইনে রয়েছে।

২০১৯ সালে নদীকে ‘জীবন্ত সত্ত্বা’ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে তা আমাদের জন্য একটি যুগান্তকারী রায়, সারা বিশ্বে মডেল হয়ে আছে। ৭২ এর সংবিধান উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রকে আরেকবার স্মরন করিয়ে দেয় যে, নদী একটি প্রকৃতিক সম্পদ এবং সাধারণ মানুষের সম্পদ। ফলে কেউ এটাকে ধ্বংস করতে পারবে না। এটার সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

তিনি বলেন, দেশের নদী রক্ষার জন্য একটি কমিশন করা হয়েছে। সেই কমিশন সুপারিশ করতে পারে। কিন্তু কার্যকর কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। এটি এখন দন্তহীন বাঘে পরিনত হয়েছে।
নদী রক্ষায় আদালতের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড.সৈয়দা নাসরিন বলেন, নদী রক্ষায় আদালতের ভূমিকা সব সময় ইতিবাচক। কোর্ট ইতোমধ্যে নদী রক্ষায় অনেকগুলো যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন নদী অবৈধভাবে দখল-দূষণ যেটুকু কমেছে সেখানেও আদালতের ভূমিকা রয়েছে।

স্থানীয় কমিউনিটির প্রতিনিধি সারমিন রহমান বলেন, ছোটবেলায় নদীকে যেমন জীবন্ত দেখেছেন এখন তা পলিথিন, শিল্পকারখানার বর্জ্য দ্বারা ভর্তি হয়ে ভয়াবহ রকম দূষিত হচ্ছে। নদী দূষণ নিয়ে যতরকম গবেষণা হয় সেখানে স্থানীয় মানুষজনদের কে সম্পৃক্ত করা হয় না। যে কারনে আইন প্রনেতা ও নীতিনির্ধারকদের কাছে স্থানীয় মানুষজনদের সমস্যা ও মতামত পৌছায় না। ছোট বেলা থেকে বাচ্চাদের কে পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

স্থানীয় কমিউনিটির প্রতিনিধি মানিক হোসেন বলেন  সীমানা পিলার দেওয়ার ফলে জমির দাম অনেকগুন বেড়ে গেছে যার ফলে নদী দখলকারীরা তা ভরাট করে লাভবান হচ্ছে। “নদী রক্ষায় আইন” শিরোনামে অনুষ্ঠিত নদীকথনে অংশগ্রহণকারীগণ অভিযোগ করেন, দূষিত পানির কারণে মানুষের অনেক ধরনের পানিবাহিত রোগ হচ্ছে। নদীকে বাঁচানোর আন্দোলনে সকলে একসাথে কাজ করার জন্য অংশগ্রহণকারীগণ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এই নদীকথনের ধারাবাহিক আয়োজন করে নদীর বিভিন্ন রকম সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে যাবে। পাশাপাশি দেশের অন্যন্য নদী অববাহিকায় মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নদী থেকে নদীর সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার বিষয়ে উৎসাহিত করা আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আবহাওয়া / পরিবেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image