• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ০১ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

জানাযা ও লাশের রাজনীতি হয় যেভাবে


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:০২ পিএম
বঙ্গবন্ধু, শেখ মুজিব
উপরে বঙ্গবন্ধুর কবর নিচে জিয়ার কবর ইনসেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

সুমন দত্ত.

 বাংলাদেশের সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর  রহমানের মরদেহ নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম। সম্প্রতি বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইংগিত করে বলেছেন, আগামীতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জিয়ার লাশ গুমের অভিযোগে মামলা হতে পারে। তার আগে বিএনপিকে ক্ষমতায় যেতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জিয়ার কবরে তার লাশ আছে কিনা, সেটা পরীক্ষা করে দেখা হবে। .

এর আগে ডা. জাফরউল্লাহর প্রশ্ন তুলেছেন লাশ নিয়ে রাজনীতি কেন? জাফরুল্লাহর মতো অনেকেই একই মনোভাব পোষণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতি দিচ্ছেন।.

 আমার এই ক্ষুদ্র মনে, প্রশ্ন জাগে যারা এর আগে বলে বেড়াতেন, বঙ্গবন্ধু এত বড় নেতা, তার জানাযায় গুটি কয়েক লোক কেন? তখন জাফরউল্লাহর মত সুশীলরা কেন নীরব থাকেন? তখন তাদের বলা উচিত, মৃত ব্যক্তির জানাযা নিয়ে এসব বলা ঠিক না। জাফরুল্লাহ গংরা অতীতে তাদেরকে সাবধান করেছিলেন কি?.

 সেই স্কুল জীবন থেকে শুনে আসছি বঙ্গবন্ধু হত্যার সমর্থনে তার জানাযাকে ঢাল বানানোর কাহিনী। .

বিএনপি ও তার সমমনা লোকজন বঙ্গবন্ধু হত্যাকে জায়েজ করতে শেখ মুজিবের জানাযার প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। তারা তাদের সমর্থকগোষ্ঠীদের বলেন, দেখ জিয়ার মৃত্যুতে তার জানাযায় কত লোক। আর বঙ্গবন্ধু ছিল গণতন্ত্র হত্যাকারী, এ কারণে তার মৃত্যুতে জানাযায় কেউ শরিক হয়নি।.

 এই বিকৃত ইতিহাসটা আমার স্কুলের সহপাঠীদের মুখে শুনেই ৮০ দশকে  বড় হয়েছি। পরে জানলাম বন্দুকের নলের মুখে জাতির জনকের জানাযা হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ করা লোকজন সেদিন পালিয়ে গিয়েছিল প্রাণ ভয়ে।  .

বঙ্গবন্ধুর জানাযা নিয়ে এদেশে রাজনীতি হয় বলে, জিয়ার লাশ নিয়ে রাজনীতি হয়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।.

বিএনপি আগে বঙ্গবন্ধুর জানাযা নিয়ে রাজনীতিটা বন্ধ করুক। তারপর দেখবেন আওয়ামী লীগ জিয়ার লাশ নিয়ে রাজনীতি ছেড়ে দেবে। বঙ্গবন্ধুর জানাযায় লোক নাই, জিয়ার কবরে লাশ নাই। এটাই এখন এদেশের রাজনীতি।.

সত্যি কথা বলতে কি, জাতি আজও জানতে পারেনি জিয়ার খুনি কারা। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পরিচয় জানা গেলেও, জিয়ার খুনিদের আজও জানা যায়নি। জিয়া হত্যা নিয়ে তদন্ত হলেও সেই তদন্তের রিপোর্ট আজও প্রকাশ হয়নি। .

বিএনপির মতো রাজনৈতিক দল তিনবার ক্ষমতায় এসেও জিয়া হত্যার তদন্ত নিয়ে বিচার বিভাগের অনুসন্ধান জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। কি আছে জিয়া হত্যার তদন্ত প্রতিবেদনে। .

কেন বিএনপি তার প্রতিষ্ঠাতার হত্যা তদন্ত রিপোর্ট অপ্রকাশিত করে রেখেছে? এ ঘটনার সঙ্গে জিয়ার কবর লাশ সংক্রান্ত বক্তব্য আছে কি? আমরা কেউ তা জানি না। আর এসব ঘিরেই ছড়াচ্ছে গুজবের ঢালপালা। .

জিয়ার মৃত্যু সম্পর্কে বিভিন্ন মানুষের মুখে শুনেছি। তাকে অত্যন্ত নৃশংস কায়দায় হত্যা করেছে খুনিরা।.

 ঘাতকরা এক ম্যাগাজিন গুলি জিয়ার মুখ মণ্ডলে শেষ করে। এরপর তার লাশ টেনে হিচরে এক পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিমান বিধ্বংসী কামানের গোলা দিয়ে তার দেহকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তার লাশের অবশিষ্ট কোনো অংশ ছিল না। তার লাশ কেউ খুঁজে পায়নি। .

এই ইতিহাস যদি সত্য হয়। তাহলে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরে  তার লাশ না থাকারই কথা। আর যদি এটা মিথ্যা হয় তবে জিয়ার কবরে তার লাশ থাকবে। সবকিছুর সমাধান দিতে পারে জিয়া হত্যা নিয়ে বিচার বিভাগের সেই অপ্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদন। .

 সরকারের কেউ কেউ হয়ত আনঅফিশিয়ালি সেই তদন্ত প্রতিবেদন দেখেছেন বা শুনেছেন। কারণ সরকারি রেকর্ড দেখা বা জানা তাদের জন্য মামুলি ব্যাপার। .

হয়ত সেই সূত্র হতেই প্রধানমন্ত্রী ও অন্যরা বলছেন জিয়ার কবরে তার লাশ নাই।  .

 বঙ্গবন্ধুকে গণতন্ত্র হত্যাকারী। আর জিয়াকে গণতন্ত্রের জন্মদাতা। এসব বলে এখন আর রাজনীতি চলবে না। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তিনিই এদেশের নায়ক। জিয়ার মতো সেনা সদস্যরা তার হাত থেকেই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। .

তা না হলে যিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধই করেননি, তিনি কীভাবে বীর উত্তম খেতাব পেলেন? বঙ্গবন্ধু ভুল লোকদের মুক্তিযুদ্ধ খেতাব দিয়েছিলেন। যার প্রমাণ হয় এসব লোকদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ দেখে। যে মুক্তিযোদ্ধারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু নাম নিয়ে শহীদ হয়েছিলেন, সেই মুক্তিযোদ্ধারা কি কখনও তাকে হত্যা করতে পারে?.

 গোলাম আযম গং রা যেমন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেতে পারে না। তেমনি সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধারা কখনও বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কথা চিন্তা করতে পারে না। .

খোন্দকার মোশতাক, জিয়াউর রহমান, ফারুক, রশিদ, ডালিম, নূর, রাশেদ, মহিউদ্দিন, বজলুল হুদা এদের কেউ স্বাধীনতার পক্ষের লোক ছিল না। এরা সকলেই ছিল মীরজাফর।  এদের মুক্তিযুদ্ধ খেতাব এখন  আইন করে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।  এসব লোকের যুদ্ধ পরবর্তী কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, এরা দেশকে কোন দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছিল। .

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই এরা বাংলাদেশকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে। তাহলে  স্বাধীনতার চেতনা কোথায়? ইসলামি প্রজাতন্ত্র তো পাকিস্তানের চেতনা। জিয়ার মত লোকরা যদি সত্যি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেন, তাহলে তার উপস্থিতিতে এসব কি করে হয়? তিনি যদি গণতন্ত্রের জন্মদাতা হোন, এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত না হোন, তাহলে কেন তিনি আইন করে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার ও জেলে চার নেতার হত্যার বিচার বন্ধ করলেন? কারো বিচার বন্ধ করা কিংবা তাতে বাধা দেওয়া কি গণতন্ত্রের সঙ্গে যায়? বাংলাদেশের সংবিধান কি সেটা সমর্থন করে ? .

জিয়া কেন পাকিস্তানপন্থীদের তার দলে টানলেন? বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া গোলাম আযম গংদের দেশে ফিরিয়ে আনলেন। এসব কর্মকাণ্ড কি একজন খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে যায়? এসব ইতিহাস নির্মাণ করার জন্য জিয়া আজ বিতর্কিত ব্যক্তি। ইতিহাসের খলনায়ক।.

লেখক: সাংবাদিক
 . .

ঢাকানিউজ২৪.কম /

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image