• ঢাকা
  • সোমবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৫ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

শাহজাদপুরে অস্তিত্ব সংকটে বাঁশ ও বেত শিল্প


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৪ জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৪২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে বাঁশ ও বেত শিল্প
বাঁশ ও বেত শিল্প

শাহজাদপুর প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ : বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রাচীন শিল্পগুলো বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। যান্ত্রিক যুগে হারিয়ে যাচ্ছে নানান শিল্প ও শিল্পকর্ম। অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বিভিন্ন কুটির শিল্প। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সময়ের সঙ্গে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প। এর সাথে অতপ্রতো ভাবে জরিয়ে থাকা মানুষ গুলো আজ নিরুপায় হয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

কিন্তু জীবন জীবিকার তাগিদে এ শিল্প রক্ষা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান আধুনিক যুগে বেত ও বাঁশের তৈরি পণ্যের আর কদর নেই বললেই চলে। এক সময় বাঁশ ও বেতের তৈরি ডালা, কুলা, ঝাঁকা, টুকরি, টোপা, ডোলা, পাখির খাঁচা, গরুর মুখের টোনা সহ মাছ ধরার জন্য পলো ইত্যাদি আসবাবপত্র দিয়ে মানুষের প্রতিদিনের কাজ কর্মের চাহিদা মিটতো কিন্তু বর্তমানে এসব ব্যবহার নেই বললেই চলে। ফলে এ কাজের সাথে জড়িত মানুষের জীবন জীবিকার জন্য ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ফলে এই কুটির শিল্প রক্ষা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

এক সময় গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেত ও বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করতেন। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত প্রায় সবখানেই চোখে পড়তো এর আসবাবপত্র। সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে এসব চিরচেনা চিত্র। প্লাস্টিক ও অন্যান্য বিভিন্ন সামগ্রীর কদর বেড়ে যাওয়ায় এসব কুটির শিল্পের চাহিদা এখন আর তেমন নেই। বর্তমানে বাজার দখলে অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের।

উপজেলার এনায়েতপুর হাটে বাঁশের তৈরি কুলা কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, বাঁশের তৈরি কুলা কিনতে আসছিলাম কিন্তু এটির দাম শুনে তো এখন তা কেনার সাধ হারিয়ে ফেলেছি, এর চাইতে প্লাস্টিকের কুলাই ভাল। দামও অনেক কম। এখন মনে হচ্ছে প্লাষ্টিকেরটাই কিনতে হবে।

বাঁশ ও বেতের কারিগর আবু বক্কার বলেন, বর্তমানে বেতের তৈরি আসবাবপত্রের ব্যবহার আগের মতো নেই। তবে বাঁশের কিছু জিনিসপত্র বানাই। কিন্তু এগুলোও মনে হয় আর তৈরি করতে পারব না। কারণ বেত সহজেই পাওয়া যায়না। আর বাঁশের আসবাবপত্র যতটুকু তৈরি করি ততোটুকু বিক্রি বিক্রয় করতে পারিনা। তাহলে এ কাজ করে কি করব ?

জীবনই যদি না চলে তাহলে এ শিল্প রক্ষা করে কি হবে। এগুলো বাজারে বিক্রি করতে আসলে ক্রেতা সংকটে পড়তে হয়। দাম বেশি হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, বর্তমানে আগের তুলনায় বাঁশের দাম অনেক বেশি ফলে বাঁশের তৈরি জিনিসের দাম একটু বেশি তো হবেই।

আমরা কম দামে কাঁচামাল কিনতে পারলে আমাদের তৈরিকৃত জিনিস পত্রের দামও কম হবে। এছাড়া অল্প টাকায় কারিগর পাওয়াও কষ্টকর হয়ে পরেছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রাচীন ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে যাবে, ফলে আগামী প্রজন্ম বাঁশ ও বেত দিয়ে যে আসবাব পত্র তৈরি হয় এ সম্পর্কে তাদের কোন ধারনাই থাকবে না। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে এ জাতীয় শিল্পের তৈরী আসবাবপত্র দেখতে আগামী প্রজন্ম যাদুঘরে যাবে। কারন তখন এগুলো শুধু যাদুঘরেই শোভা পাবে।
 

ঢাকানিউজ২৪.কম / মাসুদ মোশাররফ/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image