• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৭ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২১ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কুমিল্লায় ভেজাল বীজ ও কীটনাশকের ব্যবসায় প্রতারিত কৃষক


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১:১৯ এএম
ভেজাল বীজ ও কীটনাশকের ব্যবসা
ভেজাল বীজ ও কীটনাশক

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের উপজেলাগুলোর হাট-বাজার জুড়ে কতিপয় সার ও বীজ ব্যবসায়ীরা উচ্চ মূল্যে আমদানীকৃত ভেজাল সার-বীজ ও কীটনাশকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলাগুলোর স্থানীয় কৃষি বিভাগ, বীজ দপ্তর ও বিএডিসিসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরের বাজার মনিটরিং না করায় ওইসব অসাধু কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ীরা নানাহ অজুহাতে প্রতারনার মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

স্থানীয় কৃষকদের একাধি সূত্র জানায়, জেলা দক্ষিনাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোর বীজ ও কীট নাশক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নানান কৃষিপণ্য কিনে প্রতিনিয়ত নানাও ভাবে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। ভেজাল বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী উঠেছে সর্বত্র। ওইসব অসাধু কৃষিপন্য ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পরে আগামীদিনে কৃষিখাত অলাভজনক পেশায় পরিনত কিংবা এলাকার কৃষকরা নানান ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন বিমুখ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারনা করছেন কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্ট বাজার পরিচালনা কমিটি এবং স্থানীয় কৃষি দপ্তরের মনিটরিং কমিটি এ ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব ভূমিকা নিয়ে এলাকার কৃষকদের মাঝে এখন প্রশ্নবিদ্দ। হাট-বাজারগুলোতে দেশী-বিদেশী বীজ-কীটনাশক প্রস্তুতকারক এবং ঠিকানা বিহীন নানান কৃষিপন্য যত্রতত্র বিক্রি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষকরা ফসল উৎপাদনে দূর্ভোগসহ নানাহ ভাবে প্রতারিত হচ্ছেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুম ঘিরে অসাধূ কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীরা আগে ভাগে নিত্য নতুন ব্রান্ডের বীজ-কীটনাশক মওজুদের পাশাপাশি ভেজাল বীজ ও কীটনাশক সরবরাহের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে।  এ অঞ্চলে সারের তেমন সংকট না থাকলেও সরকারী -বেসরকারী সার ডিলারগণ স্থানীয় ভাবে বিক্রির পাশাপাশি চোরা পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুম ঘিরে এ অঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার মেঃ টন সারের চাহিদা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের কাছে দেশীয় উৎপাদিত সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে সারসহ কৃষিপন্য পাইকারী-খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি ভাবে কিংবা অসাধু কৃষিপন্য ব্যবসায়ীরা ওইসব পন্যের বাজার মূল্য অনেকটা গোপনীয়তা রক্ষা করে যাচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে না জেনে না বুঝে  স্থানীয় কৃষকরা নানাও ভাবে প্রতারনার শিকার হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে পন্য অনুযায়ী যা দাম চাচ্ছে সে দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছে কৃষকদের কিন্তু ক্রেতাকে পন্য বিক্রির রশিদ দেয়া হচ্ছে না।

লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউপির দৌলতপুর গ্রামের কৃষক নাসির উদ্দিন মজুমদার বলেন, চলমান আমন মৌসুমে দৌলতগঞ্জ পূর্ব বাজার নূর মোহাম্মদ হাফেজ বীজ ভান্ডার থেকে আমার ৬৬ শতক জমির জন্য ৭০০৬ বীজ ধান কিনে রোপন করি কিন্তু ওই ধান বীজ রোপন থেকে পাকা পর্যন্ত ৫/৬ ভাগ নানান ভাইরাসে আক্রান্ত হলে উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে একাধিকবার কীটনাশক ঔষুধ ব্যবহার করেও ওই জমিকে ভাইরাস মুক্ত করতে পারি নাই। ফলে ফসল উৎপাদন প্রায় ৪০/৪৫ ভাগ কমে যায়। এলাকার লোকজন ভেজাল বীজ ও কীট নাশককে দায়ী করছেন সবাই।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওই ইউপির চরবাড়িয়া বøকে দায়িত্বরত মোঃ নূর হোসেন ভুঁইয়া ভেজাল বীজ ও কীটনাশকের ব্যবহারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি দপ্তর কর্মকর্তাদের নজরে আনা হয়েছে এবং আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে যাতে আমাদের এ পরিস্থিতির শিকার হতে না হয় তার জন্য আমরা আগে ভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

দেশসেরা বীজ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুপ্রীম সীড কোম্পানীর মার্কেটিং ম্যানেজার নাজমুল হাসান খন্দকার এ অঞ্চলের হাট-বাজার জুড়ে ভেজাল বীজ ও কীটনাশক বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের কোম্পানীর স্থানীয় ডিলার নাসির বীজ ভান্ডারের মালিক মোজাম্মেল হক খোকন নিজেই স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন বীজ সংগ্রহ করে প্যাকেটজাত করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন।

বিষয়টি আমাদের কোম্পানীর প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অবগত আছেন। ওইসব বীজের মান নিয়ে এলাকার কৃষকদের মাঝে নানাহ প্রশ্ন দানা বেধে উঠেছে।

এ ব্যাপারে লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারের নাসির বীজ ভান্ডারের মালিক খন্দকার মোজাম্মেল হোসেন খোকনের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে কোন তথ্য দিতে নারাজ। এমনকি আমরা সকল সেক্টর মেনেজ করেই এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি বলে দম্ভক্তি সুরে কথা বলেন।

ঢাকানিউজ২৪.কম / মশিউর রহমান সেলিম/কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image