• ঢাকা
  • শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২১ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবসে পর্যটকে মুখরিত ‘গজনী অবকাশ’


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ ফেরুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০:১০ এএম
পর্যাটন সমাগম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা
গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র

জাহিদুল হক, শেরপুর প্রতিনিধি: বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে পর্যটক ও স্থানীয়দের পদভারে মুখরিত ছিল ভারত সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী গারো পাহাড়ের ‘গজনী অবকাশ’ পর্যটন কেন্দ্র।

এবার পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকেই এ পর্যটন কেন্দ্রের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ভ্রমণপ্রেমী। ফলে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা এখানে দেখা যায় আন্দময় পরিবেশ। পর্যাটন সমাগম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এই পর্যটন কেন্দ্রের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব সহজেই আকৃষ্ট করে আগত পর্যটকদের। প্রকৃতি এখানে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। পাহাড় টিলা আর সমতল ভূমিতে সবুজের সমারোহ। শাল, গজারী, সেগুন, ছোট-বড় মাঝারি টিলা, লতাপাতার বিন্যাস প্রকৃতি প্রেমিদের নিশ্চিত দোলা দিয়ে যায়। অপরূপ রূপের
চাদর মোড়ানো পাহাড় আর সেই পাহাড়ের পাশ ঘেঁষেই রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন করে দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত ব্রীজ, ক্যাবল কার, জিপ লাইনিং, হৃদের পাশে স্থাপিত বোট ক্লাব ও আনন্দ পার্ক পর্যটন কেন্দ্রে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এখানে রয়েছে পাহাড়ের বুক জুড়ে তৈরী সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে। পায়ে হেঁটে পাহাড়ের স্পর্শ নিয়ে লেকের পাড় ধরে হেঁটে যাওয়া যাবে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে। পড়ন্ত বিকেলে ছোট ছোট নৌকায় করে ঘুরার জন্য রয়েছে লেক। লেকের বুকে নৌকায় চড়ে পাহাড়ের পাদদেশে কফি আড্ডা আর গান এখানে আগত দর্শনার্থীদের জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা তৈরী করবে।

গারো মা ভিলেজেও ছোঁয়া লেগেছে নতুনত্বের। মাশরুম ছাতার নীচে বসে বা পাখি ব্রেঞ্চে বসে পাহাড়ের ঢালে আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, দিগন্তজোড়া ধান ক্ষেত আর পাহাড়ী জনপদের ভিন্ন জীবনমান উপভোগ করা যাবে খুব সহজেই। আগত শিশু দর্শনার্থীদের জন্য চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্কের পাশাপাশি এবার নতুন যুক্ত হচ্ছে শিশু কর্ণার। এসব দৃশ্যাবলি দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গজনী অবকাশের বিভিন্ন জায়গায় কেউবা তুলছেন সেলফি, কেউবা নিজ ও প্রিয়জনের ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন নিজের মোবাইল ফোনে। রাইডে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক ছিল সকাল থেকেই মুখরিত। শিশুদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় পার্কের ফটকে লম্বা লাইন দেখা যায়। এ সময় শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এ শিশুপার্কটি। বিভিন্ন রাইডে চড়ে ও খোলামেলা পরিবেশ পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা। শিশুদের সঙ্গে অনেক অভিভাবককেও আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায়।

ময়মনসিংহের পর্যটক নাঈম ও সেতু দম্পতি বলেন, বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আমরা এখানে ঘুরতে এসেছি। গারো পাহাড় ও পর্যটন কেন্দ্রে তৈরী কৃত্রিম দৃশ্যগুলো তাদের মনে অনেক আনন্দ দিয়েছে। নতুন রাইডগুলো স্থাপনের জন্য জেলাপ্রশানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবসায়ী মিজান বলেন, অন্যদিনের তুলনায় আজকে প্রচুর দর্শনার্থী আসছে। এতে আমাদের বিক্রিও অনেক ভালো হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশদারের ইজারাদার হান্নান সরকার বলেন, আজ সোমবার (১৪ ফেব্র: ছোট-বড় প্রায় তিন শতাধিক গাড়ি দিয়ে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটছে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আল মাসুদ বলেন, বর্তমানে গজনী অবকাশে দর্শনার্থী বেড়েছে। এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল থাকায় নিরাপত্তার কোন সমস্যা নেই। এছাড়া আগত দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারে তার জন্য পোশাক ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image