• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১১ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ ফেরত চাই: পঙ্কজ ভট্টাচার্য


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০:০৭ এএম
সেই সম্প্রীতির চেতনা হারাতে বসেছে
জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য

নিউজ ডেস্ক:  শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সাম্প্রতিক সময়ে সনাতন ধর্মালম্বী সম্প্রদায়ের শারদীয় দূর্গোৎসবে কথিত কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে দেশব্যপী সনাতন ধর্মালম্বী সম্প্রদায়ের পুজামন্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাঙ্গচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হত্যা ও অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্য সভাপতিত্বে ঐক্য ন্যাপের উদ্যোগে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সভার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুল মুনায়ের নেহেরু।

অনুষ্ঠিত সভায়  সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, নাজমুল হক প্রধান সাবেক এম পি, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাসদ, ডাক্তার শহিদুল্লাহ শিকদার সভাপতি মন্ডলীর সদস্য গণতন্ত্রী পার্টি, সালেহ আহমেদ সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন,  সঞ্জীব দ্রং সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, এ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ, রঞ্জিত কুমার সাহা সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ঐক্য ন্যাপ,  অলিজা হাসান সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ঐক্য ন্যাপ, হারুনার রশিদ ভুঁইয়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- ঐক্য ন্যাপ, হেদায়েতুল ইসলাম সভাপতি ঢাকা মহানগর ঐক্য ন্যাপ, সুব্রত রঞ্জন তালুকদার  প্রমুখ। সভা সঞ্চালা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, বাঙালী জাতির ইতিহাসের অন্যতম জাতীয় উৎসব দূর্গাপুজা, হাজার বছর ধরে এই জনপদে সকল ধর্মালম্বীরা এই উৎসাবে মেতে উঠে, নিজেদের মাধ্যে সম্প্রীতির যে ধারা গড়ে উঠেছে তাতে ধর্ম-বর্ণ আর জাতি ভেদাভেদ এই উৎসবে থাকে না। সকলের অংশ গ্রহন এই মাটিতে ঈদ-পূজায় সকলে একাকার হয়ে আনন্দে মেতে উঠে।

তিনি বলেন, দূর্ভাগ্যজনক সত্য বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে। ৩০ লক্ষ শহীদানের আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে ১৯৭১ সালে সাম্প্রদায়িকতার কবর রচনা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫০ বছরের মাথায় দাঁড়িয়ে বাঙালী জাতি সেই সম্প্রীতির চেতনা হারাতে বসেছে। ঠুনকো অজুহাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নেমে আসে। ক্ষমতার পালাবদলের  হাতিয়ার হয়ে উঠে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে ৩৩টি জেলায় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছে। এই সরকারের সময়ে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নাসির নগর, চট্টগ্রাম, পাবনা জেলার সাথিয়া, গোপালগঞ্জ-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন হয়েছে। সর্বশেষ এবারের শারদীয় দূর্গোৎসবে মন্দিরে মন্দিরে নজিরবীহিন আক্রমন, প্রতিমা ভাঙ্গচুর, হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুন্ঠনের ঘটনায় বিশ্ববিবেক হতভম্ব দেশের বিবেকবান মানুষ এখন অসহায়। আমরা এই জঘন্য ঘটনার নিন্দা জানাই।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূল শাস্তি প্রদান করতে হবে। সংখ্যালঘুদের উপর সকল অত্যাচারের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার করতে হবে। হেফাজতের সাথে আপোষ করে পাঠ্যপুস্তকে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করতে হবে। সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বাতিল করতে হবে।

সভায় সাবেক সাংসদ ও বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার আশেপাশে আয়ুব-ইয়াহিয়া আর মোস্তাকের প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনার আন্তরিক ইচ্ছার প্রতিফলন কোথাও দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামীলীগে কৌশলে সাম্প্রদায়িকতাবাদীরা অবস্থা পাকাপোক্ত অবস্থান নিয়েছে। রংপুর ও কুমিল্লার ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখেছি প্রশাসন অকার্যকর ছিলো। আজকে সরকার ও প্রশাসনে স্বাধীনতা বিরোধীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।  আপনি ছাড়া জনগণের পক্ষে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image