• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ০১ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কুমিল্লায় আতংকের মাঝেও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৩৮ পিএম
সরকারি বিধি নিষেধ যেন থমকে দাড়িয়েছে
বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা

 মশিউর রহমান সেলিম, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার লাকসাম পৌর এলাকা সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার সকালে  ৩৭টি দূর্গা প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ওইদিনে পূজামন্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে চলছে এ মহা উৎসবের আমেজ। তবে গত কয়েক দিনের তাপদাহের প্রভাব উপেক্ষা করে সম্প্রতি কুমিল্লায় নানুয়া দিঘী এলাকায় এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘিরে আতংকের মাঝেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা, অদৃশ্য ভাইরাস করোনায় অর্থনৈতিক মন্দাভাব তারপরও পুজামন্ডপ গুলোতে দর্শনার্থী ও পুজারীর উপস্থিতি ছিল অনেকটাই কম।  ওইসব সংকট উত্তরণ, মহা উৎসবে অংশগ্রহন এবং সরকারি বিধি নিষেধ যেন থমকে দাড়িয়েছে। এদিকে বিশেষ কারণে মহা অষ্টমীতে কুমারি পুজা এবার কোন পুজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয়নি।.

স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীদের একাধিক সূত্র জানায়, শুক্রবার দশমীর দিনে হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন পূজা অর্চনা ও আরতী এবং প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ মহাউৎসব শান্তিপূর্ন পরিবেশে  পালন করেছে। এ মহাউৎসবে প্রথম দিনে কৈলাশ থেকে মা দুর্গা পিতৃগৃহে ঘোড়ায় চড়ে আগমন এবং বিজয়া দশমীতে স্বামীর বাড়ীতে পালকিতে চড়ে ফিরে যাবেন। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি মহানবমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আয়োজনে এ মহা উৎসবটি পালন করেছেন। দূর্গা দেবীর বির্সজন ঘিরে লাকসাম উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি এবং উপজেলা প্রশাসন ও  থানা পুলিশের সার্বিক  তত্ত্বাবধানে সবক’টি মন্দিরে নেয়া হয়েছে কঠোর পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওইদিন লাকসাম পৌর শহরের ১২টি দূর্গা প্রতিমা ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ দিঘীতে এবং পৌরশহরের ও উপজেলার দুর্গা মন্দির গুলোর প্রতিমা ডাকাতিয়া নদী ও বিভিন্ন স্থানে বিসর্জন দিয়েছে।.

সূত্রটি আরও জানায়, দূর্গা প্রতিমা বিসর্জন কালে সনাতন ধর্মীয় নেতারা বলেন, অশুভ শক্তি কিংবা অসুর শক্তি বিনাশ ঘটিয়ে শুভ সুর শক্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ শারদীয় দূর্গা পূজার মূল দর্শন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং জনজীবনে সকল ভেদা-ভেদ ভুলে সার্বজনীন এ মিলন মেলাই শারদীয় মহা উৎসবের নামকরন। এ অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্যান্য স¤প্রদায়ের লোকজনের সাবির্ক সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় আমরা শান্তিপূর্ন ভাবে সব ধরনের পূজা উদযাপন করতে পারছি বলে এ অঞ্চলের সকল পেশার মানুষকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। অপরদিকে কুমিল্লায় সম্প্রতি অপ্রীতিরকর ঘটনার জের ধরে লাকসাম পুরো শহর ও উপজেলা সকল পূজামন্ডপগুলো নিরাপত্তা চাদরে ঘিরে রেখেছিলো স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।.

এছাড়া উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও উন্নয়ন সমন্বয়কারী মহব্বত আলীর সার্বিক মনিটরিংয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর তৎপরতায় ৩৭টি পূজা মন্ডপের মধ্যে ৩৬টিতে আনন্দ মুখোর ও শান্তি শৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে বিজয়াদশমী পর্যন্ত কথোও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পৌরশহরের পূর্ব লাকসাম কালী বাড়ী পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিচালনা পরিষদের ভুমিকা ও কর্মকান্ড অনেকটাই প্রশ্নবিদ্দ ছিলো। বিশেষ করে মিনতী রানী সাহা (৩৫) এর গলার চেইন ছিনতাই, তার মেয়ে পূর্নিমা রানীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টা, রিক্সাচালক মুসলিম মিয়াকে মারধর ও বহিরাগত যুবকদের আড্ডা-মাদকসেবনসহ নানাহ বির্তর্কিত কর্মকান্ড চলছিলো মহাঅষ্টমীর রাতে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্ব ও ভুমিকা নিয়েও নানান কথা উঠেছে।.

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা লাকসাম উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু দূর্জয় সাহা জানায়, শারদীয় দূর্গা পূজার এ মহা উৎসব গতবারের চেয়ে এ বছর কুমিল্লার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘিরে এবং অদৃশ্য ভাইরাস করোনার কারণে অনেকটাই সীমিত আকারে এ দূর্গা পূজা মহাউৎসবটি পালন করছি। পূর্বলাকসাম কালী বাড়ীর ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। শুক্রবার দেবী বির্সজনের পরে সভা ডেকে ওই মন্ডপে কি ঘটেছিলো তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাকসাম উত্তর বাজার বনিক্য বাড়ির  পুজা উৎযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু শিশির চন্দ্র আচার্য্য জানান, চলমান এ দূর্গামহোৎসব গত বছরগুলোর চেয়ে এবার করোনার কারণে অনেকটাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তিপূর্ন  ভাবে পালিত হয়েছে। স্থানীয় সার্বিক প্রশাসন  ও দলীয় নেতাকর্মীসহ সকল পেশার মানুষ পূজা মন্ডপগুলো সর্বদা তদারকি করেছেন। এতে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ন পরিবেশ সমগ্র উপজেলায় বজায় ছিল।.

এ ব্যাপারে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.কে.এম সাইফুল আলম জানায়, কুমিল্লার অপ্রীতিকর ঘটনার জের ধরে এ এলাকায় আমরা সার্বিক প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকল ব্যবস্থা নিয়েছি। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ন ভাবে সনাতন ধর্মালম্বীরা তাদের এ মহাউৎসব পালন করেছে। এ বিষয়ে লাকসাম পৌরমেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের জানায়, লাকসাম পৌরশহর সহ উপজেলার সবক’টি পূজা মন্ডপে শান্তিপূর্ন ভাবে এ মহা দুর্গাৎসব পালন করেছে। এ উৎসবে সরকারি ভাবে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পক্ষে এবং পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পূজামন্ডপে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
    .

 . .

ঢাকানিউজ২৪.কম / মশিউর রহমান সেলিম

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image