• ঢাকা
  • বুধবার, ২০ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৫ অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

রাশিয়ার খাদ্য ও সার আমদানিতে নিশ্চয়তা দেবে ২৪ ব্যাংক


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২:১৫ পিএম
খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে
রাশিয়ান এগ্রিকালচারাল ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক:  রাশিয়া থেকে খাদ্য ও সার আমদানিতে বাংলাদেশের ঋণপত্র বা এলসির মূল্য পরিশোধে নিশ্চয়তা দেবে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশভিত্তিক ২৪টি আন্তর্জাতিক ব্যাংক। রাশিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের মূল্য মার্কিন ডলারে পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ। ফলে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধরত এ দেশ থেকে খাদ্য ও সার আমদানিতে বাংলাদেশের কোনো বাধা নেই। শিগগির রাশিয়া থেকে সার ও গম আমদানি হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেশের খাদ্য আমদানি, মজুত এবং রাশিয়া থেকে আমদানির সমস্যা নিয়ে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে কারনে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বেশকিছু ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।  ফলে ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সতর্ক। কিন্তু বাংলাদেশের গম ও সার আমদানির উল্লেখযোগ্য অংশ আসত রাশিয়া থেকে। দেশটির সঙ্গে এমওপি আমদানি নিয়ে বাংলাদেশের চুক্তিও রয়েছে। বিকল্প পদ্ধতিতে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন করা যায় কিনা তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পর্যালোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে রাশিয়া থেকে কৃষি ও চিকিৎসাসামগ্রী আমদানি নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গতকালের বৈঠক ডাকা হয়।

টিপু মুনশি বলেন, বৈঠকে রাশিয়া থেকে খাদ্য ও সার আমদানিতে সমস্যা এবং দেশের সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া থেকে খাদ্য ও সার আমদানিতে কোনো সমস্যা নেই।স্বস্তিদায়ক আমদানি ও স্বস্তিদায়ক পরিশোধ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে ওএমএসসহ খাদ্যবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এর আওতায় টিসিবির কার্ডধারীরাও ১০ কেজি করে চাল সুলভমূল্যে কিনতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, খাদ্য ও সার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বাইরে। ফলে রাশিয়া থেকে এসব পণ্য আমদানিতে অন্য কোনো মুদ্রা লাগবে না। ডলার দিয়েই আমদানি করা যাবে। রাশিয়ার জ্বালানি তেলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সরকার যেখান থেকে কম দামে জ্বালানি তেল পাবে, তাদের থেকেই আমদানি করবে।

তিনি বলেন, বৈঠকে রাশিয়ায় ওষুধ রপ্তানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওষুধ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। যুদ্ধের পরে নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়াতে ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। তবে নিবন্ধনসহ কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় রয়েছে। এসব বিষয় সমাধান করে ওষুধ রপ্তানির চেষ্টা করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়াতে তিন শতাধিক ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রধানত ২১টি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করে। ২১ ব্যাংকের মধ্যে ৫টি ব্যাংকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলে বাকি ১৬টি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে বাংলাদেশের কোনো অসুবিধা নেই। এর মধ্যে রাশিয়ান এগ্রিকালচারাল ব্যাংক, ব্যাংক অব মস্কো, গ্যাসপ্রম ব্যাংক, আলফা ব্যাংক, ইউনিক্রেডিট ব্যাংক, রোজব্যাংক, ট্রান্সক্রেডিট ব্যাংক, রাইফেসেন ব্যাংক, নোমাস ব্যাংক, এমডিএম ব্যাংক, ব্যাংক সেন্ট পিটার্সবার্গ, এ কে বার্স ব্যাংক এবং নরডিয়া ব্যাংক অন্যতম। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর খোলা ঋণপত্র বা এলসির নিশ্চয়তা বা কনফার্মেশন দিয়ে থাকে সাধারণত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলেরও বেশকিছু ব্যাংক কনফার্মেশন দিয়ে থাকে।

গত ২১ আগস্ট রাশিয়ার ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মানটিটস্কি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে বৈঠক করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে যেসব ক্ষেত্রে বাধা নেই, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে জানানোর অনুরোধ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিতে পারে বলে জানা গেছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image