• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১২ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেলেন গিরিধর দে


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৫৮ পিএম
গিরিধর
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকির হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন গিরিধর দে

সুমন দত্ত: দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করায় জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেলেন গিরিধর দে। তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স এ অধ্যয়নরত একজন শিক্ষার্থী। 

বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি রোধে তিনি ফেসবুকে একটি গ্রুপ খোলেন। যার নাম ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র'। যেখানে বাংলার আবহমান ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ছবি, ভিডিও, নথি, পত্রিকা, দলিল, দস্তাবেজ, সংকলন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন চর্চা ইত্যাদি প্রকাশ করে থাকেন।  

তার এই উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতে গত ২০ ডিসেম্বর সোমবার সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইন্সটিটিউটে গিরিধর দে'র হাতে পুরস্কার তুলে দেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও সিআরআইয়ের ট্রাস্ট্রি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। এদিন তার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা মোট ১৫ টি সংগঠনকে তুলে দেওয়া হয় এই পদক । 

 ১৬ জুলাই ২০১৬ সালে গিরিধর দে'র ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন "বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র" যাত্রা শুরু করে। জানা যায়, এপর্যন্ত  ৭০ হাজারের বেশি দুষ্প্রাপ্য ইতিহাস ভিত্তিক ছবি সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

 ভবিষ্যতে ডিজিটাল মিউজিয়াম চালু করতে চায় তারা । শুধু বাংলা ভাষাভাষীতেই নয় বহির্বিশ্বের নিকটও বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চায় তারা। বর্তমানে ফেসবুকে সংগঠনটির সক্রিয় ফলোয়ার সংখ্যা ১১ লাখ । প্রতি মাসে গড় পাঠক সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি । প্রতি কন্টেন্টের গড় রিচ প্রায় ১ লাখ এবং একটি ভালো মানের কন্টেন্ট প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষের নিকট পৌছায় । 

তথ্য বিকৃতি রোধে জ্ঞান ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ শীল দেশ গঠনের লক্ষ্যে বিগত ৫ বছর নিরলস ভাবে কাজ করছে সংগঠনটি ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।  

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের নেওয়া উদ্যোগই দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পৌঁছে দেবে । তিনি বলেছেন, তরুণদের মেধা, জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমরা আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে চাই । প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানকে সামনে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কাজেই আমরা আমাদের বর্তমান উৎসর্গ করেছি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যে, বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে ওঠে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবে আর বিশ্ব সভায় মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে বাঙালি জাতি এগিয়ে যাবে ।

শেখ হাসিনা বলেন, এসব উদ্যোগ সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি । এই উদ্যোগই পারবে আমাদের যে লক্ষ্য, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ হবে- সেই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে পারব ইনশাল্লাহ । তিনি বলেন তরুণদের এই উদ্যোগের জন্য আমি গর্বিত ।

 জয় বলেন, ‘যারা নিজেদের পরিশ্রম দিয়ে নিজেদের উদ্যোগে দেশের মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা সোনার বাংলার একটি উদাহরণ । জাতির পিতার সোনার বাংলার স্বপ্ন হচ্ছে উন্নয়নের স্বপ্ন । দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে সুস্থ থাকে, শান্তিতে থাকে, তাদের কোনো অভাব না থাকে; সেটাই হচ্ছে সোনার বাংলার স্বপ্ন । সে স্বপ্ন পূরণের জন্য অবশ্যই আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার পরিশ্রম করে যাচ্ছে । ডিজিটাল বাংলাদেশ সেই স্বপ্ন পূরণের একটা উদ্যোগ।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও সিআরআইয়ের ট্রাস্টি, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বলেন, তরুণদের দায়িত্ব দেওয়ার সময় এসেছে । তরুণদের সুযোগ করে দিতে হবে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর এ দৌহিত্র বলেন, তরুণ সমাজের হাতে সব তুলে দেবো । তারা আমাদের ভবিষ্যৎ এটা শুধু মুখে বললেই হবে না । তাদের হাতে আরও দায়িত্ব দেওয়ার সময় এসেছে । ব্যবসা, রাজনীতি সবখানে তরুণদের সুযোগ করে দিতে হবে । এতে সমর্থন দেবে এবং পাশে থাকবে ইয়াং বাংলা । 

গত ২০ ডিসেম্বর 'সেন্টার ফর রিসোর্স অ্যান্ড ইনফরমেশন' এর অঙ্গসংগঠন ইয়াং বাংলা আয়োজিত বিজয়ের ৫০ বছরে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের বিশেষ আয়োজনে বিজয়ী দলগুলোকে যাচাই বাছাইয়ের জন্য ছিল বিশেষ বিচারক প্যানেল। 

এই প্যানেলের সদস্য ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা, ইয়াং বাংলার আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, ডান অ্যান্ড ব্রেডস্ট্রিটের সিইও জারা মাহবুব, ডেইলি স্টারের সিনিয়র করসপনডেন্ট পরিমল পালমা, তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী ও টিভি উপস্থাপক তাসনুভা শিশির, জাতীয় পুরষ্কার বিজয়ী অভিনয় শিল্পী জয়া আহসান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন বিষয়ক অর্থনীতিবিদ আতিউর রহমান, উইমেন ইন ডিজিটাল আচিয়া খালেদা নিলা, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টি মফিদুল হক, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট শ্যামালতা রায়, চলচ্চিত্র পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত এবং পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আন্দোলনকারী শাহরিয়ার সিজার রহমান।

ঢাকানিউজ২৪.কম / এসডি

বিচিত্র সংবাদ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image