• ঢাকা
  • সোমবার, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৬ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ইউরোপ-আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার ওপর কাজ করবে কি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৩৮ এএম
বিশ্ব মানচিত্র
যেসব দেশ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে (কমলা কালার)

সুমন দত্ত

রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। চীন এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহাল রাখবে তার দেশ। চীনের এই এক ঘোষণাতেই আমেরিকার সব জারি জুরি শেষ হয়ে গেছে। এমনটাই মনে করে অর্থনীতি নিয়ে যারা কাজ করেন।  কারণ  ইউরোপ ও আমেরিকার অধিকাংশ কোম্পানি চীন পণ্য বানায় ও সেখান থেকে পুরো পৃথিবীতে বিক্রি করে।। 

অন্যদিকে রাশিয়া এশিয়ার আরেক বড় অর্থনৈতিক শক্তি ভারতকে ২৫ পারসেন্ট ডিসকাউন্টে ক্রুড তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। ভারত সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবে কিনা তা বিচার বিশ্লেষণ করছে। ভারতের পার্লামেন্টে দেশটির তেল ও জ্বালানি মন্ত্রী হারদিপ পুরি বলেছেন, রাশিয়ার তেল বিক্রির প্রস্তাব গ্রহণ করতে যাচ্ছে তার দেশ। তবে টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তাদের। যেমন  ব্যবসার বীমা, নিরাপত্তা, পেমেন্ট কীভাবে হবে এসব নিয়ে কথা হচ্ছে। এজন্য প্রস্তাবে সম্মতি জানাতে সময় লাগছে।

 রাশিয়া ভারতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। পশ্চিমা যেসব দেশ রাশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেই সব কোম্পানিকে ভারতে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারত এসব সুবিধা জনক প্রস্তাব গ্রহণ করবে। সেটা এক প্রকার নিশ্চিতই বলা যায়। কারণ ভারত তার নিজ জাতীয় স্বার্থ সবার আগে বিবেচনা করে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটসা আইনকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়া থেকে এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স কিনেছে ভারত। আর রাশিয়া জানে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে কোনো দেশ যদি তার দেশের পণ্য কিনতে পারে তবে সেটা ভারত। কারণ ভারত এখন এমন একটি শক্তি যে সে সিদ্ধান্ত নিতে কাউকে পরোয়া করে না। 

এস-৪০০ মিসাইল নিয়ে বাইডেন প্রশাসন ভারত নিয়ে মিডিয়ায় হম্বিতম্বি শুরু করলে থামিয়ে দেন আমেরিকারই রাজনীতিবিদরা। টেক্সাস থেকে নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, ক্যাটসা আইনে ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে সেটা হবে বড় ধরনের মুর্খামি। আমেরিকার বিভিন্ন কৌশলে ভারত অংশীদার। ভারতকে নিয়ে আমেরিকার কয়েকটি পরিকল্পনা আছে। সেগুলো সব ভেস্তে যাবে যদি ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

রাশিয়ান তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোকে তেলের সরবরাহ বাড়াতে হবে। সৌদি আরব এরই মধ্যে মার্কিন দাবি শোনার মতো অবস্থানে নেই। কারণ সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি সহায়তা থেকে আমেরিকা হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরে গেছে। জামাল খাশোগী হত্যা নিয়ে সৌদি যুবরাজকে আসামি বানিয়েছে আমেরিকার প্রচার মাধ্যম। এছাড়া ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এবং পরমাণু চুক্তি কার্যকর করতে যাচ্ছে। এসবই সৌদি আরবের স্বার্থের বিপরীত। 

এজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তদবির সৌদি আরব শুনবে না। সেটা আকার ইংগিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে ডলারের চাহিদা কমিয়ে দিতে সৌদি আরব চীনের সঙ্গে লেনদেনে ইয়ুান ব্যবহার করবে। এ ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ইউরোপের কয়েকটি দেশ রাশিয়ার সঙ্গে তেল গ্যাসের বাণিজ্য ছিন্ন করবে না। জার্মানি ও হাঙ্গেরি সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে, রাশিয়ান তেল ও গ্যাস কেনা বন্ধ হবে না। রাশিয়ান তেল গ্যাসের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তারা মানবে না। 

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে এই বলে সতর্ক করেছে তারা যেন রাশিয়ান ইউরেনিয়ামের ওপর  নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে।  কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ওই রাজ্যগুলিতে যেসব কোম্পানির পারমানবিক বিদ্যুৎ প্লান্ট রয়েছে সেগুলোতে  ইউরেনিয়াম সরবরাহ করে রাশিয়া। নিষেধাজ্ঞা দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা তৈরি হবে। বিদ্যুতের দাম বেড়ে যেতে পারে। এজন্য বাইডেন প্রশাসনকে এসব নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। 

ইউরোপ ও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে রাশিয়াও বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আগামী কয়েকমাস গম সাপ্লাই বন্ধ রাখবে রাশিয়া। এই গমের ওপর নির্ভরশীল ইউরোপের দেশগুলো। এতে বিশ্ববাজারে গমের দাম বাড়বে। সেটাকে কীভাবে সামাল দেবে ইউরোপ ও আমেরিকা তা দেখার অপেক্ষায় আছেন পুতিন।

 রাশিয়া, ইরান কিংবা আফগানিস্তানের মতো দেশ নয়। নিষেধাজ্ঞা দিলাম, আর কেউ রাশিয়ার মাল কিনতে পারবে না, এমনও নয়। রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তার পণ্য অন্যদেশ কে দেবার ক্ষমতা রাখে। তাই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা একটা কাগুজে বাঘ ছাড়া আর কিছু নয়। যেসব রুশ ব্যবসায়ীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তারা নিজেদের ব্যবসা ক্ষেত্র পরিবর্তন করার পর যখন পুরোমাত্রায় আবার ব্যবসা শুরু করবে তখন রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের দাম আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। তখন বরং কমবে ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের দাম। 

বিশ্লেষণ সুমন দত্ত, তথ্য সূত্র. দ্যা ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেস, পিটিআই, এনডিটিভি, টাইমস নাও, ওয়াশিংটন পোস্ট, আরব নিউজ, ইউএসটুডে, স্পুটনিক,তাস নিউজ।

ঢাকানিউজ২৪.কম / সুমন দত্ত

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image