• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বিনা টেন্ডারে কাজ সম্পাদনে অনিয়মের অভিযোগ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:০৫ পিএম
বিনা টেন্ডারে কাজ সম্পাদনে অনিয়মের
অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিধিমালা উপেক্ষা করে কোনো দরপত্র ছাড়াই অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ও  সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে। অনিয়মের মাধ্যমে বিশাল অংকের ওই কাজটি করায় এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিধিমালা ২০০৮ অনুযায়ী ক্রয় প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য চারটি পদ্ধতি হলো - ওটিএম, এলটিএম, আরএফকিউ এবং ডিপিএম।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা টেন্ডারে পেশীশক্তির প্রদর্শনী বন্ধের জন্য ইলেকট্রনিক টেন্ডার সিস্টেম ই-জিপি চালু করেছেন। এতে যেকোন ব্যক্তি যেকোন টেন্ডারে সহজেই অংশ গ্রহণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সবার জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতি হলো ই-জিপিতে ওটিএম এবং এলাকা কেন্দ্রিক হলে এলটিএম।

এছাড়া আরএফকিউ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় এইচওপিই  (হোপ) এর অনুমতি সাপেক্ষে যা মোট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ১০-২০% এবং  এই ডিপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় আরো সীমিত পরিমাণে।

কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের শতভাগই ব্যয় করা হয় ওটিএম এবং এলটিএম পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে আরএফকিউ এবং ডিপিএম পদ্ধতিতে যা সরকারি ক্রয় বিধি মালা ২০০৮ এর নিয়ম বহির্ভূত। উক্ত বরাদ্দ দিয়ে উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরীন সড়কটিকে নামে মাত্র মেরামত করা হয়। উপজেলা পরিষদের মসজিদের ওযু খানাও নামে মাত্র মেরামত করা হয়। শুধু মাত্র একটি ড্রেন সঠিক ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো উক্ত কাজের জন্য যে টেন্ডারটি করা হয় তা কোন পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়নি।

কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত ফাহিম ট্রেডার্সের মজিদুল ইসলাম জানান, ওই কাজের সাথে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন এবং তিনি এ
ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তিনি সরাসরি বলছেন যে, উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ও সদ্য সাবেক ইউএনও মাহমুদা বেগম সমন্বিতভাবে কাজটি সম্পাদন করেছেন যা আইন মোতাবেক নয়।

এলজিইডি’র কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী  মোজাম্মেল হোসেন, উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঠিকাদার নিয়োগ করেই আরএফকিউ পদ্ধতিতে এই কাজটি করা হয়েছে। কাজ সম্পন্ন করার পর ঠিকাদার মজিদুল বিলের চেক নিয়ে গেছেন। এ সংক্রান্ত ব্যাপারে বক্তব্যে তার স্পষ্ট কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। অথচ ই-জিপি ওটিএম পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দিয়ে শতভাগ আরএফকিউ পদ্ধতিতে ক্রয় করা কোন ভাবেই বিধি সম্মত নয়।

কেন্দুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ৩০ জুন চলে এসেছে তাই আরএফকিউ পদ্ধতিতে দ্রæত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা
কোয়াটারে পানি জমে থাকে তাই সাড়ে ১১ শত ফুট আরসিসি ড্রেন নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসার দেয়াল উচুঁকরণ, ভাঙ্গা রাস্তা পাকাকরণ করা হয়েছে। এই কাজটি সম্পন্ন করায় ভূক্তভোগীরা খুব খুশী।

উপজেলা চেয়ারম্যান আরো বলেন, টেন্ডার দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ করানোর পদ্ধতি অনেক লম্বা সময়ের ব্যাপার। তাই কাজটি সাবেক ইউএনও মাহমুদা বেগমের সমন্বিত ভাবে সম্পন্ন করেছেন।

 এ প্রসঙ্গে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন বলেন, এই কাজটি কিভাবে এবং কারা করেছে তা আমার জানা নেই। তিনি বলেন উপজেলা পরিষদের হর্তাকর্তা ছিলেন সদ্য সাবেক ইউএনও মাহমুদা বেগম এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সাহেব। উনারা প্রয়োজন মনে করলে আমাদের ডাকতেন। উপজেলা পরিষদের কোন কাজের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।

ওই বিষয়টি ফেইসবুকে পোস্ট আকারে প্রকাশ করেন মানবাধিকার সংস্থা- বাংলাদেশ আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন (বাসক) কেন্দুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি  শাহ
আলী তৌফিক রিপন। বর্তমানে বিষয়টি দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে যায়।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image