• ঢাকা
  • শনিবার, ২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

এনজিও কে তুলাধোনা করল হিন্দু সংগঠনের নেতারা


ঢাকানিউজ২৪ ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ আগষ্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৪২ পিএম
হিন্দু, আইন
হিন্দু আইন বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, ছবি ঢাকানিউজ২৪ডটকম

সুমন দত্ত: হিন্দু পারিবারিক আইন পরিবর্তন কোনোভাবেই মেনে নেবে না বাংলাদেশের হিন্দু সমাজ। কতিপয় এনজিও বলছে হিন্দু আইন পরিবর্তনে সবার সায় আছে, কারো বিরোধ নেই। এ ধরনের মিথ্যা কথা বলে,  এর আগে সরকারকে হিন্দু আইন সংস্কারে প্রস্তাব দিয়েছিল এরা। পরে সরকারের মন্ত্রীরা হিন্দু নেতাদের সঙ্গে কথা বললে তাদের ভুল ভাঙ্গে। .

বিদেশ থেকে মোটা তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশে এসব কাজ করে যাচ্ছে মহিলা পরিষদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, নারীপক্ষ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান। ওই সব প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার থেকে শুরু করে গেটের দারওয়ান পর্যন্ত মুসলিম। তারা হিন্দু আইনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। .

প্রতিবছরই নির্দিষ্ট একটা সময়ে তারা এসব করে যায়। এবার তারা দেশের হিন্দু এলিটদের ধরে এসব কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে এবার আমাদের আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। .

শুক্রবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি হলে বাংলাদেশের বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতারা এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব বক্তব্য রাখেন। এদিন  আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু সংস্কার সমিতি সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্র নাথ, সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ড. জে কে পাল, হিন্দু মহাজোটের সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, প্রণব মঠের মহারাজ সঙ্গীতা নন্দ, সাবেক সচিব অরুণ চন্দ্র মালাকার (অবসর), শ্রী গুরু সংঘের সভাপতি মনোরঞ্জন দত্ত, ঢাকা জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট তাপস পাল প্রমুখ।  .

গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, আমরা জানতে পেরেছি। কয়েকটি এনজিও হিন্দু পারিবারিক আইন পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকারকে একটা খসড়া জমা দিয়েছে। বিদেশি পয়সায় চালিত এসব এনজিও হিন্দু সম্প্রদায়কে ধ্বংসের জন্য গোপনে এসব কাজ করে যাচ্ছে। হিন্দু আইন পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। তারপরও এসব এনজিওকে কে বা কারা অনুমতি দিল হিন্দু আইন পরিবর্তনের।.

তিনি বলেন, হিন্দু আইন পরিবর্তনে যারা বক্তব্য রাখছেন তারা কারা? অ্যারোমা দত্ত নামের যে মহিলা আইন পরিবর্তনের বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন, তিনি তো বহু আগে মুসলিম বিয়ে করে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছেন। তার কি কোনো অধিকার আছে এ বিষয়ে কথা বলার? শাহানা নামে এক নারী হিন্দু নারীদের নিয়ে ডেইলি স্টারে প্রতিবেদন লিখলেন। হিন্দু নারীর দু:খকষ্ট বয়ান করতে ১০-১২ বছর আগের এক ঘটনা টেনে আনলেন।যশোরের চায়ের দোকানী সেই নারীর দু:খকষ্টের কথা শুনে তার বুক ফেটে যাচ্ছে। .

প্রামাণিক বলেন, এতই যখন তার দু:খকষ্ট, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের ফুটপাতে আশ্রয়হীন অবস্থায় যেসব নারী দিন কাটাচ্ছে তাদের জন্য কেন তার কষ্ট হয় না? এসব কল্পিত গল্প লিখতে গিয়ে অনেক ফাকফোকর থেকে যায়। আমাদের চোখে এসব ধরা পড়ে।.

হীরেন্দ্র নাথ বলেন, আমাদের হিন্দু বিবাহে নারীর অধিকার সুস্পট সুন্দর। নারীরা বিয়ের সময় স্ত্রী ধন হিসেবে অনেক কিছু পান। সম্পত্তিও পান। অথচ এনজিও গুলো প্রচার চালাচ্ছে আমরা নারীদের কিছু দেই না।আমাদের সমাজের নারীরা কিছু পায় না। এটা মিথ্যা। আমাদের নারীরা কি রাস্তায় থাকে? এই মুহূর্তে আমাদের নারীদের কে দেখভাল করছে? কারা করছে? আপনাদের মতো এনজিওরা কি হিন্দু নারীদের দেখভাল করছে? আমাদের হিন্দু আইন পরিবর্তনের কোনো দরকার নেই। এই আইন সবচেয়ে ভালো। হিন্দুরা পিতৃকুলের ৭ পুরুষ ও মাতৃকুলের ৫ পুরুষ আত্মীয় স্বজনের মধ্যে বিয়ে করতে পারে না। যেটা আজ বিজ্ঞান সম্মত পৃথিবী স্বীকৃত।.

ড. জে কে পাল বলেন, বিবাহিত হিন্দু নরনারী মানে দুই দেহে এক আত্মা। আমরা নারীকে আলাদা চোখে দেখি না। আমরা বিবাহিত নারী পুরুষকে  এক করে দেখি। যারা হিন্দু আইনের পরিবর্তন চাচ্ছেন তারা হিন্দু নারীকে আলাদা করে দেখছেন। তাদের মতে হিন্দু নারীরা আলাদা করে সবকিছু ভোগ করবে। এভাবে হিন্দু নারী আলাদা হবে, ভাই বোন, স্বামী সবাই আলাদা হবে। তারপর হিন্দু পরিবার বলতে আর কিছুই থাকবে না।.

 তিনি বলেন, হিন্দু বিবাহ অন্য ধর্মের বিবাহের মতো নয়। কাউকে দেখতে সুন্দর পছন্দ হলো। এই মনে করে বিয়ে করা যায় না। বিয়ের পূর্বে কুষ্টি বিচার করত হয়। তারপর বিয়ে। যাকে তাকে হিন্দুরা বিয়ে করতে পারে না। ভারতে হিন্দু আইন পরিবর্তন করে। এখন কলকাতার ঘরে ঘরে তালাকের কান্না। তারা এখন ভুগছে। আমরা কি সেটি চাই। কেউ কেউ চায় আমরা তালাক দেই আর বিয়ে করি। তিনি আরো বলেন, হিন্দু আইন বেদ বিশারদ মুনি ঋষি দ্বারা তৈরি। আমাদের পার্লামেন্টে ওই ধরনের মুনি ঋষি কি আছে? যেহেতু এই সমাজে সেই মাপের কোনো মুনি ঋষি নাই তাই হিন্দু আইন পরিবর্তন করা যাবে না।     .

তিনি বলেন, কেউ যদি হিন্দু আইনে বিয়ে করতে আপত্তি থাকে, তিনি স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে করতে পারেন। সেই আইনে বিয়ে করলে তিনি সব কিছুর অধিকারই ওই আইন অনুসারে ভোগ করতে পারবেন।  . .

ঢাকানিউজ২৪ / সুমন দত্ত

সংগঠন সংবাদ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image