• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৬ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

আমেরিকায় সংবিধান নয়, গর্ভপাতের বৈধতা ঠিক করবে প্রশাসন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৪৫ পিএম
খসড়া নথি কয়েক সপ্তাহ আগে ফাঁস হয়ে যায়
গর্ভপাতের বৈধতা ঠিক করবে প্রশাসন

নিউজ ডেস্ক:    আমেরিকায় মহিলাদের পাঁচ দশকের অধিকার কেড়ে নিল সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। গর্ভপাতের সংবিধানিক অধিকার বাতিল করা দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার বা না দেওয়ার ভার প্রতিটি প্রদেশের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।

গর্ভপাতের সংবিধানিক অধিকার বাতিল করা দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার বা না দেওয়ার ভার প্রতিটি প্রদেশের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।

এমন রায় যে সুপ্রিম কোর্ট দিতে পারে, তার খসড়া নথি কয়েক সপ্তাহ আগে ফাঁস হয়ে যায়। তা নিয়ে দেশ জুড়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক এবং প্রতিবাদও।

১৯৭৩ সালে ‘রো বনাম ওয়েড’ মামলায় আদালত গর্ভপাতকে বৈধ বলে ঘোষণা করে। এ বার সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়ের উল্টো পথে হেঁটে গর্ভপাতের বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি প্রদেশগুলির হাতে ছেড়ে দিয়েছে।

গর্ভপাতের সংবিধানিক অধিকার খারিজ করার পক্ষে মত দেন ছ’জন আইনজীবী এবং বিপক্ষে তিন জন। গর্ভপাতের সংবিধানিক অধিকার খারিজ করার পক্ষে মত দেন ছ’জন আইনজীবী এবং বিপক্ষে তিন জন।

মিসিসিপিতে গর্ভধারণের ১৫ সপ্তাহ পর গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার আইনকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলাতেই আদালত এই রায় দিয়েছে।

মনে করা হচ্ছে, এই রায়ের ফলে আমেরিকার অর্ধেকেরও বেশি প্রদেশ গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে। এর সঙ্গে গর্ভপাতের বিরুদ্ধে নানা রকম বিধি-নিষেধ আরোপ করবে।

ইতিমধ্যে আমেরিকার ১৩টি প্রদেশ গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় ছিল। শীর্ষ আদালতের রায়ের পর তারা গর্ভপাতকে পাকাপাকি ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

শীর্ষ আদালতের রায়ের পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, ‘‘গর্ভপাত নিয়ে পাঁচ দশক আগের রায়কে বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট মারাত্মক ভুল করেছে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমেরিকানদের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে আদালত।’’ তাঁর মতে, এই রায়ের ফলে দেশ ১৫০ বছর পিছিয়ে গেল।

তবে এই রায় দক্ষিণপন্থী ও ধর্মীয় রক্ষণশীলদের কাছে বড় জয়। ১৯৭৩ সালে গর্ভপাতকে বৈধতা দেওয়ার বিরুদ্ধে যাঁরা আন্দোলন করে আসছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে রায় জানার পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই রায়কে ‘ঈশ্বরের সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই রায়কে মৌলিক অধিকারের উপর আক্রমণ বলে মন্তব্য করেছেন।

এই রায়ের খসড়া নথি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ চলছিল। শুক্রবারও রায় ঘোষণার পর একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে গর্ভপাত মোটেই বন্ধ হবে না। গর্ভপাত করানোর জন্য মহিলাদের সেই সব দেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে, যে সব দেশে গর্ভপাত বৈধ।

গর্ভপাতের পদ্ধতি হিসাবে ওষুধ খাওয়া বর্তমানে আমেরিকায় জনপ্রিয়। ‘দুই-পিল (টু-পিল)’ পদ্ধতিতে আমেরিকান মহিলারা সাধারণত গর্ভপাত করিয়ে থাকেন।
তথ্য বলছে, এই পদ্ধতিতে ৫৪ শতাংশ মহিলা গর্ভপাত করিয়ে থাকেন। ২০২০ সালে এই ওষুধটি অনুমোদন করে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image