• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ভারতে আটকে থাকা ১৫ বাংলাদেশির দেশে ফেরার আকুতি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৫৩ এএম
ভারতে আটকে থাকা বাংলাদেশি
ভারতে আটকে থাকা ১৫ বাংলাদেশি

ডেস্ক রিপোর্টার: কলকাতা বন্দরে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশি জাহাজের ১৫ নাবিক এক মাসের বেশি সময় ধরে আটকা পড়ে আছেন সেখানকার একটি হোস্টেলে।

কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর কর্তৃপক্ষ (সাবেক কলকাতা বন্দর) এবং জাহাজটির বাংলাদেশি মালিকপক্ষের ‘উদাসীনতায়’ এত দিন ধরে সেখানে আটকে থাকতে হচ্ছে অভিযোগ করে দ্রুত উদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তারা।

তবে জাহাজের মালিকপক্ষ বলছে, জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় এখনো নাবিকদের ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। তাদের দ্রুত ফেরাতে ভারতীয় দূতাবাস, সেখানকার বাংলাদেশি দূতাবাস এবং জাহাজের স্থানীয় এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

গত ২৪ মার্চ কলকাতা বন্দরের একটি জেটিতে কন্টেইনার তোলার সময় বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজে ‘এমভি মেরিন ট্রাস্ট-১’ কাত হয়ে ডুবে যায়। জাহাজে থাকা ১৫ নাবিকের সবাই জীবিত উদ্ধার পান।

আরও  পড়ুন: পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

৮৩ মিটার দৈর্ঘ্যের ও পাঁচ মিটার ড্রাফটের ২৪৪ কন্টেইনার (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) ধারণক্ষমতার জাহাজটিতে সে সময় কন্টেইনার তোলা হয়েছিল ১৬৫টি। কোস্টাল অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় ‘এমভি মেরিন ট্রাস্ট-১’ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ করত।  

জাহাজটির মালিকানা বাংলাদেশি কোম্পানি ‘মেরিন ট্রাস্ট লিমিটেডর। ডুবে যাওয়ার এক মাস পর গত ২৩ এপ্রিল মালিক কর্তৃপক্ষ জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এখনো সেটি কলকাতা বন্দরের জেটির কাছেই আধডোবা অবস্থায় ডুবে আছে।

ওই জাহাজের ১৫ নাবিককে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্থানীয় শিপিং এজেন্টের মাধ্যমে খিদিরপুরের একটি হোস্টেলে রাখ হয়। ৩৫ দিন ধরে সেখানেই আছেন তারা।

হোস্টেলে খাবার দেওয়া হলেও সেখান থেকে তারা বের হতে পারছেন না এবং এক প্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছেন জানিয়ে দ্রুত দেশে ফেরানোর আকুতি জানিয়েছেন।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) ফেসবুকে একটি ডিডিও শেয়ার করেছেন ওই নাবিকরা। ভিডিওতে নাবিকদের পক্ষে জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী ফাহিম ফয়সাল নিজেদের বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে মালিক কর্তৃপক্ষ, ভারতে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তবে ঢিলেমির অভিযোগ অস্বীকার করে মেরিন ট্রাস্ট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ক্যাপ্টেন সাইকুল ইসলাম শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। সেখানকার স্থানীয় শিপিং এজেন্টদের মাধ্যমে তাদের দেখভাল করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোস্টাল অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলত তাদের জাহাজ। সে জন্য নাবিকদের কোনো ভিসা প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তাদের পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হয়েছে। ভিসা না থাকায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, টিকিট কেটেও দুর্ভোগ

সাইকুল ইসলাম বলেন, এটা আটকে রাখা নয়। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। বেতন-বোনাসও এ মাসে পেয়েছে তারা। ২৩ এপ্রিল জাহাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলো। ভারতীয় শিপিং কর্তৃপক্ষকে জানানোও হয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কলকাতার ভারতীয় দূতাবাসও বিষয়টি দেখছে।

আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভারত থেকে এমভি মেরিন ট্রাস্ট-১ এর নাবিকদের দেশে ফেরানো সম্ভব হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন সাইকুল ইসলাম।

কলকাতায় আটকেপড়া বাংলাদেশি ক্রুদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা চেয়ে ভারতের নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশের নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর এ জেড এম জালাল উদ্দিন।

সেখানে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বাংলদেশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং তারা দ্রুতই কলকাতায় দুর্ঘটনাস্থল এবং পরিত্যক্ত হওয়া জাহাজটি পরিদর্শন করবেন।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image