• ঢাকা
  • বুধবার, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২৪ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়েছে


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৩ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৩৬ পিএম
তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে
তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছিল

নিউজ ডেস্ক:  কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তায় ফের পানি বেড়েছে। এতে রংপুরের গঙ্গাচড়ার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় গত তিন দিনে ৪৩ পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বুধবার বিকেলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছিল।

জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। এতে গঙ্গাচড়ার অন্তত ১৫টি চরগ্রাম তলিয়ে গেছে। মর্ণেয়া ইউনিয়নের আলফাছটারী এলাকায় তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি। কোলকোন্দ ইউনিয়নে বিনবিনা এলাকায় নতুন বাঁধ ও রাস্তা নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার বিকেলে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। 
সেখা গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ায় তলিয়ে গেছে স্থানীয় রাস্তাঘাট। মর্ণেয়া ইউনিয়নের আলফাছটারী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনে গত তিনদিনে ওই এলাকার মতিয়ার রহমান, খালিদ হোসেন, আব্দুল জলিল, আব্দুল মতিন, নাজমুল হক, মনির হোসেন, হাসিদুল ইসলাম, মুসফিকুল ইসলামসহ অন্তত ৪৩ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে পানিবন্দি পরিবারগুলোর। ভাঙন আতঙ্কে অনেকে বাড়িঘর-আসবাবপত্র সরিয়ে নিচ্ছে। 

এছাড়া লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, চরইছলী, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, বিনবিনা, চর মটুকপুর, মর্ণেয়া ইউনিয়নের মর্ণেয়া চর, আলাল চর, নিলারপাড়া ও নোহালী ইউনিয়নের বাগডোহরা, চর নোহালী, কচুয়া এলাকার চরাঞ্চলগুলো তলিয়ে গেছে। বিনবিনা এলাকায় একটি রাস্তার অর্ধেক অংশ নদীতে ভেঙে গেছে। এসব এলাকার প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, চর মটুকপুর, বিনবিনা এলাকায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, শংকরদহ, ইছলি ও বাগেরহাট এলাকার ৭০০ পরিবার পানিবন্দি। 

মর্ণেয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান জানান, গত তিনদিনে তার ইউনিয়নে ৪৩ পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এক হাজার পরিবার। এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর জেলার কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচরের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। 

ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেল ৩টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ তামান্না বলেন, পানিবন্দি মানুষজনকে সরকারিভাবে শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুব রহমান বলেন, প্রবল বর্ষণ আর উজানের ঢলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তায় পানি বাড়া-কমায় গঙ্গাচড়ায় কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / এইচ

আরো পড়ুন

banner image
banner image