• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১২ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ঘুষ, দুর্নীতি, গণতন্ত্র ও সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে: পঙ্কজ ভট্টাচার্য


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৩১ এএম
এই হাঁটা এখনও অব্যাহত রয়েছে
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সমাবেশ

নিউজ ডেস্ক:   সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের জনগণকে লড়তে হচ্ছে একটি অসাম্প্রদায়িক, সার্বজনীন ও বিজ্ঞানভিক্তিক একমূখী শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য। কমপক্ষে ৩ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে ক্রমশ বিভক্ত ও পশ্চৎপদ করছে। গত ৫ বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে ১৩.৪৭ শতাংশ। অপরদিকে এবতাদিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ১৪.৪২ শতাংশ। হেফাজতের পরামর্শে পাঠ্য পুস্তকে পরিবর্তন এনে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষাকে প্রায় একই জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। মূলত এই শিক্ষা একটি পশ্চাৎপদ ও প্রতিক্রিয়াশীল জাতি তৈরি করার অপচেষ্টা ।

তিনি বলেন, এখনও সব শিশুর জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি। নিরাপত্তাহীনতা ও ইভটিজিং এবং সাম্প্রতিক কোভিড পরিস্থিতি মেয়ে শিশুদের বিদ্যালয় হতে ঝরে পড়া বাড়ছে। নারী-শিশু নিপীড়ন ও ধর্ষনের মতো বেদনাদায়ক ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে দেশে।

তিনি শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সমাবেশ বলেন মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ রুখে দাঁড়াও, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নিশ্চিত কর, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমাও দাবিতে পরিবেশিত গণসঙ্গীত ও সমাবেশ শেষে শিখা চিরন্তন পর্যন্ত র‌্যালি ও র‌্যালিশেষে বীর শহীদানের প্রতি শ্রদ্ধ নিবেদন করা হয়।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নারী নেত্রী রোকেয়া কবির, সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ সদস্য সচিব ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেত্রী রেখা চৌধুরী, সংগঠনের সাধারণ সাম্পাদক সালেহ আহমেদ, ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন সংগঠনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট পারভেজ হাসেম। সভা সঞ্চালনা করেন, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যৌথভাবে সানোয়ার হোসেন সামছি ও এ কে আজাদ।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের নিপীড়ন, বৈষম্য, শোষণ, গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ। স্বাধীনতার কয়েক বছর পরই পাকিস্তানী ভাবধারায় হাঁটতে শুরু করে এবং এই হাঁটা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বক্তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সংঘ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ দেশ গড়া এখনও সম্ভব হয়নি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সালেই সাম্প্রদায়িক সংহিসতার ঘটনা ঘটে। এরপর ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন, নির্যাতন ও বিতাড়ন চলছে। এ পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের উপর সংহিসতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা এখন পর্যন্ত নিস্পত্তি হয়েছে কিংবা অপরাধীদের শাস্তি হয়েছে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। স্বাধীন বাংলাদেশে সব ধর্মাবলম্বীর সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বাস করার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে।

১৯৭৫ সালে প্রথম আমদশুমারীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ছিল ১৩.৫ শতাংশ, ২০১১ সালের আদমশুমারীতে তা দাঁড়িয়েছে মোট জনসংখ্যার ৮.৫ শতাংশ। ২৪ বছরেও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোরই বাস্তাবায়ন হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম সমস্যা ভূমি। এটি সমাধানের জন্য একটি কমিশন হলেও কার্যত এর অগ্রগতি নেই। পাহাড়-সমতল সর্বত্রই আদিবাসীরা ক্রমশ তাদের ভূমি হারিয়ে প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।

বক্তারা বলেন,ন্যায় বিচার, অধিকার, সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্ম। কিন্তু গত ৫০ বছরে এর কোন সূচকই আশাব্যঞ্জক নয়। শক্তিশালী আমলাতন্ত্র আরো শক্তিশালী হচ্ছে। ঘুষ, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, বিরাজনীতিকরণ, রাজনীতিতে লুটেরা ধনীক ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের আধিপত্য গণতন্ত্র ও সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে তুলছে।

জঙ্গিবাদী তৎপরতা শুধুমাত্র আমাদের দেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনী মূলত এরা আন্তর্জাতিক বলয় তৈরি করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে দেশে দেশে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়ে পুরো বিশ্ব ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এরা বোমা হামলা, মানুষ হত্যা ও হুমকী দিয়ে বিশ্ব নিরাপত্তাকে বিঘ্ন করে চলেছে। এই অপশক্তি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা-সহ দেশে দেশে মানুষ হত্যার মধ্যদিয়ে বর্বরতায় মেতে উঠে।

নানান অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি, গণপরিবহণে বাড়তি ভাড়া মানুষের টিকে থাকাকে আরো কঠিন করেছে।

সভায় সরকারের প্রতি ৫ দফা দাবি জাননো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানী তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খ্যাদ্য দ্রব্যের দাম ও গণপরিবহণের বর্ধিত ভাড়া কমানো,সার্বজনীন, বিজ্ঞানভিক্তিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুকরণ,জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

সংগঠন সংবাদ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image