• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৯ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

বেঁচে নেই সাফায়েত, এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০১:১৭ পিএম
এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়
বেঁচে নেই সাফায়েত

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর জেলার পৌর শহরে সবার প্রিয় মুখ সাফায়েত। আর বেঁচে নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেল তার সাফায়েতের প্রাণ। বুকভরা হাজার কষ্ট নিয়ে এ পৌর শহরে তার বেড়ে ওঠা। হঠাৎ তার মৃত্যুর সংবাদে ফেসবুকজুড়ে সবার আবেগঘন ভালবাসার স্ট্যাটাস।

সাফায়েত আর বুঝি এ শহরের অলিগলিতে হাঁটাচলা করবে না? সবার ওপর মান-অভিমান করে সাফায়েত চলে গেল? তার পদচিহ্ন দেখা যাবে না এ পৌর শহরে। এ শহরের মানুষ সত্যিই বড্ড বেশি অভিনেতা। তাই সাফায়েতের জন্য এখন সবাই মায়াকান্না করে।

সোমবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন সাফায়েতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর পূর্বে গত ১৩ মে সাফায়েত  কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।

সে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৮নং লামচরী এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা নেই। অসহায় মাকে নিয়ে তার জীবন সংগ্রাম। কি কারণে সেই কুমিল্লা গিয়েছে বিষয়টি কেউ সুনিশ্চিত করে জানাতে পারেনি।

ছোটবেলা থেকে সাফায়েত লক্ষ্মীপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় ও লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় ছিল তার আড্ডা। বেশিরভাগ সময় দিতেন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ টাকা ১০ টাকা ছিল তার আবদার। সবাই তাকে খুব আদর স্নেহ করতো।

মাসখানেক আগে হঠাৎ সাফায়েত নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তার দেখা নেই এই পৌর শহরের কোথাও। হঠাৎ সম্প্রতি তার মা সদর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তখনও তার ভক্তরা সাফায়েতের সন্ধান চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে।

লক্ষ্মীপুর দক্ষিণ তেমুহনীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা মো. মাসুম মোল্লা তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে।

সাবেক সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ইবনে জিসাদ আল নাহিয়ান তার ফেসবুকে লিখছেন, এই শহর থেকে দূরের শহরে মরে; শাফায়েত জানিয়ে গেল...এই শহর তাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য ভালোবাসা শহরের কেউ দেয়নি। পরকালে সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসা এবং ভালো বাসায় থাকিস ভাই আমার।

সাংবাদিক ইউসুফ তার ফেসবুক লিখেছেন, আহ্ শাফায়েত, দুঃখ দিয়ে জীবন শুরু। আবার শত দুঃখ বুকে জমা রেখেই চলে গেলে না ফেরার দেশে। এই তো জীবন। এইতো বাস্তবতা। আল্লাহ্ তোকে জান্নাত দান করুক।

ছেলেটা যখন আরও অনেক ছোট। তখনও লক্ষ্মীপুর শহরে উত্তর তেমুহনী (স্টেশন), সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসেও তার ব্যাপক বিচরণ ছিল। দেখলেই ভাই বলে আবদার করতো নানান। অভাবী হলেও তার স্বভাব ও চরিত্র ছিল স্বচ্ছ।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক জানান, হঠাৎ কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ ফোন দিয়ে সাফায়েতের পরিচয় জানতে চায়। গত মাসের ১৩ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। নাম ঠিকানা দেয়। নাম ঠিকানা অনুযায়ী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাসেল ভাইর সঙ্গে আলাপ করলে তিনি সাফায়েতের পরিচয় শনাক্ত করেন। সে সময় বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে সাফায়েতের লাশ কুমিল্লায় দাফন করা হয়। পিবিআই তার (সাফায়েত) আঙুলের ছাপের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image