• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১১ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে জেলখাটা শিক্ষককে পুনঃবহালের চিঠিতে এলাকায় তীব্র অসন্তেুাষ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৬ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:২১ পিএম
ত্রিশাল, নজরুল, একাডেমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসসিংহ: এক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও অশালীন কথাবার্তা বলায় ওই ছাত্রী আত্মহত্যা চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হন জেলার ত্রিশালের সরকারি নজরুল একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিন। এরপর তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নতুন একজনকে দায়িত্বে দিয়ে চলেছিল শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু মেজবাহ উদ্দিন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য গোপন করেন। ফলে তাকে প্রধান শিক্ষক পদে পুনঃবহালের একটি আদেশ এসেছে।

এছাড়া, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল মেজবাহ উদ্দিনকে পুনরায় পদে বসানোর জন্যে ওঠে-পড়ে লেগেছে।

অপরদিকে, নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে যৌন হয়রানি করা এবং আর্থিক অনিয়মে সম্পৃক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিনকে পুনরায় চাকরিতে বহালের চেষ্টার খবরে ত্রিশালের ছাত্র-শিক্ষক ও সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।  

২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্কুলছাত্রী বোনের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীটি ত্রিশালের সরকারি নজরুল একাডেমিতে ভর্তি হতে গেলে তাকে কু-প্রস্তাব ও অশালীন কথা বলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিন। এক পর্যায়ে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র চাইলে সেজন্য টাকা চান ওই প্রধান শিক্ষক। একইসঙ্গে ওই ছাত্রীর করা পৃথক একটি ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে চাপ দেন তিনি। এরপর ছাত্রীটি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় করা মামলায় ত্রিশাল থানা পুলিশ মো. মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অপরদিকে, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এক চিঠিতে তার স্থলে সিনিয়র শিক্ষক মো. আতিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষক আতিকুল অবসরে যাওয়ায় বর্তমানে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন একেএম কামরুল ইসলাম।

তবে প্রায় ৫ মাস আগে শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওই মামলাটি নিম্ন আদালতে খারিজ হয়ে যায়। এরপর বাদি উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

এ বিষয়ে বাদি বলেন, আমার বোন সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হতে গেলে প্রধান শিক্ষক খারাপ প্রস্তাব দেন। এরপর সে লজ্জায় আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। এ ঘটনায় আমরা মামলা করি। কিন্তু কী কারণে মামলাটি খারিজ হয়ে যায় তা আমরা বুঝতে পারিনি। তাই ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করেছি।

শুধু ওই ঘটনাই নয়, শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও ছিলো। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরশাদ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে তার সত্যতা মেলে। বিপুল আর্থিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থারও সুপারিশ  করে তদন্ত কমিটি।

এদিকে, গত ২ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিপ্তর থেকে মো. মেজবাহ উদ্দিনকে বহালের একটি অফিস আদেশ জারি হয়েছে। মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত আদেশের একটি জায়গায় অভিযুক্ত ‘শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে যাননি’ কথাটি উল্লেখ করা হয়।

তবে মো. মেজবাহ উদ্দিনকে বহালের ওই চিঠির পর গত ১৩ ডিসেম্বর ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একেএম কামরুল হাসান মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি চিঠির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিপ্তরে পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ জানুয়ারি সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) মো. আমিনুল ইসলাম টুকু স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়- মেজবাহ উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত মামলার তথ্যে অসঙ্গতি থাকায় প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আগামী ৯ জানুয়ারি গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমার তথ্য গোপন করার সুযোগ নেই। মামলার কারণে তিনদিন হাজতে ছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে আমাকে বহালের আদেশ দিয়েছে।'

এদিকে, নজরুল একাডেমি পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় কবি নজরুল ইসলামসহ দেশবরেণ্য বহু মনীষী যে স্কুলে পড়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের চেক জালিয়াতি, নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িত এবং নারীকে যৌন হয়রানিকারী প্রধান শিক্ষক মেজবাহ উদ্দিন পুনরায় চেয়ারে বসার খবর শুনে এলাকার মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকার মানুষ তীব্র আন্দোলন করার প্রস্তুতি নিয়েছে আমরা মুরুব্বিরা সেটা থামিয়ে রাখছি।  

অপরদিকে, ময়মনসিংহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় কোনো শিক্ষক গ্রেপ্তার হলে তিনি সয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত হন। আপাতত ওই শিক্ষকের বহাল আদেশ গ্রহণ করা হচ্ছে না।’

 

ঢাকানিউজ২৪.কম / মো: নজরুল ইসলাম/এসপি

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image