• ঢাকা
  • শনিবার, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

নকলায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১৭ পিএম
দুই প্রার্থীর  দুই প্রার্থীর
সংঘর্ষ

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।.

মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার চন্দ্রকোনা বাজারে এসব ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় নৌকা প্রতিকের একটি নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।.

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ আনারস প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের ভাবি (বড় ভাইয়ের স্ত্রী)  সালমা বেগমের নেতৃত্বে একদল কর্মী-সমর্থক চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের দড়িপাড়া এলাকায় প্রচারণা করতে যান এবং আনারস প্রতিকের পক্ষে এলাকাবাসীর কাছে ভোট চান। এ সময় আ. লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সাজু সাইদ সিদ্দিকীর কয়েকজন সমর্থক তাদের বাধা দেন ও  আনারসের প্রচারণা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন।.

এ নিয়ে কামরুজ্জামানের ভাবি সালমা বেগমের সঙ্গে নৌকার সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়। সংবাদ পেয়ে সালমা বেগমের ছেলে সম্বিত তার দুই সহযোগী শাহিন ও জাফরকে নিয়ে দড়িপাড়া এলাকায় যান এবং আনারসের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। পরে সংবাদ পেয়ে আ. লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজু সাইদ সিদ্দিকীও দড়িপাড়া এলাকায় যান।.

এ সময় উভয়পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সাজু সাইদ সিদ্দিকীর সমর্থকেরা কামরুজ্জামানের ভাতিজা সম্বিত ও তার সহযোগীদের কাছে ‘অস্ত্র’ আছে দাবি করে তাদের আটক করেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।.

এদিকে সম্বিতসহ তিনজনকে আটকের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ‘বিদ্রোহী’ কামরুজ্জামানের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে চন্দ্রকোনা বাজার থেকে দড়িপাড়া এলাকায় যাওয়ার প্রস্ততি নেন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সাজু সাইদ সিদ্দিকীর সমর্থকেরাও চন্দ্রকোনা বাজারে আসেন। এ সময় উভয়পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে ‘বিদ্রোহী’ কামরুজ্জামানের বড় ভাই চন্দ্রকোনা কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামসহ উভয়পক্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় চন্দ্রকোনা বাজার সংলগ্ন এলাকায় নৌকা প্রতিকের একটি নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুর করা হয়।.

সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. হান্নান মিয়া ও নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য চন্দ্রকোনা বাজারে গিয়ে ১০ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।.

আ. লীগ প্রার্থী সাজু সাইদ সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদ্রোহী’ কামরুজ্জামানের সমর্থকেরা তার গ্রামের বাড়ি দড়িপাড়া এলাকায় অস্ত্র নিয়ে প্রচারণার কাজ করতে যান এবং পরে তার একটি নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুর করেন।.

অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুজ্জামান বলেন, তার কোন কর্মী বা সমর্থকের কাছে অস্ত্র ছিল না। তার কোন লোক নৌকার প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুর করেনি। এসব মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ।
নকলা থানার ওসি মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। চন্দ্রকোনা বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোন পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 .

.

ঢাকানিউজ২৪.কম / জাহিদুল হক মনির/কেএন

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image