• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১২ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ; ২৫ জানুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৪তম বর্ষপূর্তি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৩৪ পিএম
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তি
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তি

ডেস্ক রিপোর্টার: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, শান্তি চুক্তির পর এ অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে। এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে।

পার্বত্যবাসীর উন্নয়নে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বিভিন্ন সরকারি-আধাসরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রভৃতি।

এতে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ছে অন্যদিকে জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।  রাঙ্গামাটিতে মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শান্তি চুক্তির সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর পারস্পরিক সহনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

মন্ত্রী বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৪তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ১৯৭৩ সনেই বঙ্গবন্ধু একটি আলাদা বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

১৯৭৫ সনের ১২ ফেব্রুয়ারী রাঙ্গামাটির বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু 'জাতীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার অবশ্যই রক্ষা করা হবে' মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই অঞ্চলের উন্নয়নে নানা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর উন্নয়নের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।  পার্বত্য শান্তি চুক্তি ২৪ বছরে পদার্পণ করেছে। শান্তি চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে, ৯টি ধারা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শান্তি আর উন্নয়ন। আমরা যারা শান্তি চাই তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি। পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে অভিযোগ নয়, কোন জায়গায় বাধা বা সমস্যা হলে কিভাবে সমাধান করা যায় সেটি দেখতে হবে।সমস্যা যেমন আছে, সমাধান ও আছে।  শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি আছে যার  প্রধান হচ্ছেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি (মন্ত্রী পদমর্যাদা)।  

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য এলাকার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না সেসব এলাকায় ১০ হাজার ৮৯০টি পরিবারের মধ্যে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। আরও ৪০ হাজারটি  সোলার হোম সিস্টেম এবং ২ হাজার ৫০০টি সোলার কমিউনিটি হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ চলমান রয়েছে।

৪ হাজার ৫০২ টি পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে এ অঞ্চলের নারী ও শিশুদের মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা ও শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে।  

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসচ্ছল ও প্রন্তিক পরিবারের নারী উন্নয়নে গাভী পালন প্রকল্প, প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চ মূল্যের মসলা চাষ প্রকল্প, ফলের বাগান সৃজন, কফি ও কাজু বাদাম চাষ এবং ইক্ষু চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পসহ অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অনগ্রসর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় তিনি  সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মোসাম্মৎ হামিদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা। মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনের সচিব, সুদত্ত চাকমা।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্নসচিবসহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ।

 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image